অভিনন্দন বাংলাদেশ ক্রিকেট দল

আগের সংবাদ

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা কতদূর?

পরের সংবাদ

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ প্রসঙ্গে

আ ফ ম মোদাচ্ছের আলী

শিশু সাহিত্যিক ও গবেষক

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৯, ২০২২ , ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ডিসেম্বর ৯, ২০২২ , ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ

বাঙালির অস্তিত্বের সঙ্গে মিশে আছে রমনা রেসকোর্স, যা আজকের সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। সংকটে, সংকল্পে বাঙালির ইতিহাসের এক নীরব সাক্ষী এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। শুরুটা ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসের ২১ তারিখ। দেশভাগের পর পাকিস্তানের জাতির পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রেসকোর্স ময়দানের জনসভায় ইংরেজিতে ঘোষণা করেছিলেন ‘উর্দু কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।’ উপস্থিত বাঙালিরা ‘নো নো’ শব্দে প্রতিবাদ করেছিল, গর্জে উঠেছিল। পরবর্তীতে এই রেসকোর্স ময়দানে হয়েছে অনেক সভা-সমাবেশ। ১৯৬৯ সালে গণআন্দোলনের ফলে পাকিস্তানের সামরিক শাসক জেনারেল আইয়ুব খানের পতন হয়। সেই বছর ২৩ ফেব্রুয়ারি আগরতলা মামলা থেকে বঙ্গবন্ধুর কারামুক্তির পর এই ময়দানেই কারামুক্ত শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেন ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদ।
১৯৭০-এর নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয় লাভ করে। ১৯৭১-এর শুরুতে এই রেসকোর্স ময়দানেই ‘আমার সোনার বাংলা’ গান বাজিয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। পরের ইতিহাস আন্দোলন এবং লড়াইয়ের। আসে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। রেসকোর্স হয়ে ওঠে সাড়ে ৭ কোটি বাঙালির তথা ৫৬ হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশ। বিপুল আত্মশক্তিতে বলীয়ান বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা তার স্বভাবজাত ভঙ্গিমায় বলতে থাকেন বাঙালির যুদ্ধজয়ের মন্ত্র। যে ভাষণ ইতিহাসের আলো আজকে ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্যের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে স্বীকৃত। অবিরল ছন্দময় শব্দধারায় উচ্চারিত কালের সাক্ষী এই ভাষণটি বুকে ধারণ করে বুক চিতিয়ে আছে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, সেদিনের রেসকোর্স। যে উদ্যান থেকে যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রæর মোকাবিলা করার ডাক এসেছিল সেই উদ্যানেই ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর অপরাহ্নে অস্তগামী লাল সূর্যের রক্তিমচ্ছটায় ৯৩ হাজার বর্বর পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের প্রধান লে. জে. আমীর আব্দুল্লাহ খান নিয়াজী আত্মসমর্পণ করে যৌথ বাহিনীর প্রধান জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার কাছে। সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ বাহিনীর উপপ্রধান গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খোন্দকার। এর ২৪ দিন পর এই উদ্যানেই ফিরে আসেন ইতিহাসের মহানায়ক, স্বাধীনতার কবি বাঙালির নয়নমণি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
বাংলাদেশের অস্তিত্বের সঙ্গে মিশে আছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এখন প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয় বাঙালির প্রাণের মেলা ‘অমর একুশের বইমেলা’। শহীদ জননী জাহানারা ইমাম যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে গণআদালত বসিয়েছিলেন এই উদ্যানে যেখানে আজকের প্রধানমন্ত্রী সেই সময়ের বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা গিয়ে একাত্মতা প্রকাশ করেছিলেন এবং পরে তার দল জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসীন হয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছিলেন আইনি প্রক্রিয়ায়।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যান স্বাধীনতার অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ ও বাঙালির চেতনার শক্তি মহান একুশের বইমেলা যেখানে মাসব্যাপী আয়োজনে সমবেত হয় লাখ লাখ মানুষ, আওয়ামী লীগের সমাবেশের কথা নাই বা বললাম। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই বিশাল উদ্যানে ১০ ডিসেম্বর বিএনপির সমাবেশে কেন অনীহা? আমরা কি ধরে নেব না বিএনপি জোটভুক্ত স্বাধীনতাবিরোধীরা বাঙালির প্রাণের স্পন্দন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে এড়িয়ে যেতে চাচ্ছেন নিজেদের কালিমা আড়াল করতে? নইলে পল্টনের রাস্তা কেন? কেন মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি করা? সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সুবিশাল পরিসরে সমাবেশ করলে জনভোগান্তি হবে না জেনেও কেন তারা অনড়? গণমাধ্যমে জানতে পারলাম সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ব্যতীত অন্য কোনো স্থান হলে তারা সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারেন। তার মানে হচ্ছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে তারা ভয় পাচ্ছেন, তাই এড়িয়ে যাচ্ছেন যা মোটেই সমীচীন নয়। এই গোঁয়ার্তুমি জনস্বার্থ পরিপন্থি, ইতিহাসকে এড়িয়ে যাওয়ার অপচেষ্টা, ইতিহাসকে ভয় পাওয়া নয় কি?

আ ফ ম মোদাচ্ছের আলী : শিশু সাহিত্যিক ও গবেষক।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়