সমুদ্রবন্দরে ২ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত

আগের সংবাদ

জাতিসংঘ রেজল্যুশন: সন্নিবেশিত হলো বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক উক্তি

পরের সংবাদ

স্পেনের বিদায় কাম্য ছিল না

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৮, ২০২২ , ৯:০৩ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ডিসেম্বর ৮, ২০২২ , ৯:০৩ পূর্বাহ্ণ

দেখতে দেখতে দ্বিতীয় রাউন্ডের খেলাও শেষ হয়ে গেলো। কোয়ার্টার ফাইনালের আট দল আমরা পেয়ে গেছি। শেষ দুই দল হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে মরক্কো ও পর্তুগাল। যদি মরক্কোর কোয়ার্টার ফাইনালে আসার কথা বলতে হয় তাহলে বলব তারা ভালো খেলেছে এবং ভাগ্য সহায় ছিল। তারা স্পেনের সঙ্গে সমানতালে ডিফেন্স করেছে। আক্রমণও করেছে সুযোগ বুঝে।

তবে স্পেন আধিপত্য বিস্তার করে খেললেও গোল করতে না পারাটা তাদের ব্যর্থতা বলব। স্পেনের কোচ লুইস এনরিকে আক্রমণ ভাগে পরিবর্তন এনেও গোল না পাওয়াটা ছিল চরম ব্যর্থতা। তবে ম্যাচের শেষ মিনিটে তাদের আক্রমণ করা বল যখন বারে লেগে ফিরে আসে তখনই মনে হয়েছিল ম্যাচটি তাদের হাতছাড়া হতে যাচ্ছে। এছাড়া তারা সবসময়ই কম ফরোয়ার্ড নিয়ে খেলে। ফলে সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি। এর আগের বিশ্বকাপেও তারা রাশিয়ার কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিয়েছিল। অনেকের কাছে তাদের এই বিদায় কাম্য ছিল না। সবার প্রত্যাশা ছিল ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়নরা কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেবে।

মরক্কো বেলজিয়ামকে হারানোর পর আত্মবিশ্বাস পেয়েছিল যে কোনো দলকেই তারা হারানোর সক্ষমতা রাখে। তাদের এই জয়ের অন্যতম দাবিদার গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনো। তার এই পারফমেন্স তাদের দেশের লোকজন অবশ্যই মনে রাখবে। তিনি যেভাবে ম্যাচে দাপট দেখিয়েছেন সেভাবে টাইব্রেকারেও স্পেনের খেলোয়াড়দের চাপে

ভুগিয়েছেন। ফলে জয়টা তাদের অনুকূলেই এসেছে। পাশাপাশি তাদের কোচ ওয়ালিদ রেগরুগির অবদানও কম নয়। বিশ্বকাপের দুই ম্যাচ আগে দলের দায়িত্ব নিয়ে প্রথমবারের মতো দলকে এনেছেন কোয়ার্টার ফাইনালে। হাকিমি, জিয়াশরা খেলেছেন দারুণ। আমি আগেই বলছিলাম নকআউটে সব দলই শক্তিশালী। যে কেউই যে কোনো দলকে হারিয়ে দিতে পারে। মরক্কো ভালো খেলেছে, ভাগ্যও সহায় ছিল তাদের পক্ষেই। বিশ্বকাপের মঞ্চে তাদের জন্য এটি বড় অর্জন। এই আসরে আরো বড় কোনো অঘটন ঘটাতে পারে কিনা এটাই দেখার বিষয়।

পর্তুগাল ও সুইজারল্যান্ড ম্যাচের কথা বলতে গেলে বলব একরকম আধিপত্য বিস্তার করেই খেলেছে পর্তুগাল। ৬-১ গোলে জিতেছে তারা। আমি আগেই পর্তুগালকে এগিয়ে রেখেছিলাম। রোনালদো শুরুর একাদশে না থাকায় অনেকে হয়তো ভেবেছিল পর্তুগাল ম্যাচটিতে হারবে।

তবে রোনালদোর বদলি হিসেবে নেমে গঞ্জালো রামোস যে খেলাটা দেখাল তা তো মনোমুগ্ধকর। যদি এভাবে খেলতে থাকে তাহলে অল্প দিনেই বড় তারকা বনে যেতে পারেন এই খেলোয়াড়। তার তিনটি গোলই ছিল দৃষ্টিনন্দন। শুরুর একাদশে নেমেই করলেন বিশ্বকাপের এই আসরের প্রথম হ্যাটট্রিক। পাশাপাশি পেপে যেভাবে দলকে নেতৃত্ব দিল তাতে মনে হয় দলের হয়ে আরো কয়েক বছর খেলা চালিয়ে যেতে পারবেন। এ বিশ্বকাপে ৩৯ বছর বয়সেও দারুণ খেলছেন পেপে।

বাংলাদেশে রোনালদো ভক্তের অভাব নেই। তারা চেয়েছিল রোনালদো শুরুর একাদশে থাকুক। তবে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে রোনালদো অন্তত সমর্থকদের সান্ত¡না দিয়েছেন এটাই অনেক। দর্শকদের কাছে রোনালদো মাঠে বদলি হিসেবে নেমেছে এর চেয়ে দল কোয়ার্টার ফাইনালে গেছে এটাই মুখ্য। রীতিমতো সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ছেলেখেলা করেছে তারা। আশা রাখব কোয়ার্টার ফাইনালেও এই ধারা অব্যাহত রাখবে তারা।

কেএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়