সবচেয়ে বেশি গোল মিস করেছে ব্রাজিল!

আগের সংবাদ

চামড়া শিল্পে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৩০ শতাংশ

পরের সংবাদ

ওয়ানডেতে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি

মিরপুরে ফের মিরাজ বীরত্ব

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৮, ২০২২ , ১২:০৯ অপরাহ্ণ আপডেট: ডিসেম্বর ৮, ২০২২ , ১২:০৯ অপরাহ্ণ

ভারতের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ৩৯ বলে ৩৮ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে বাংলাদেশের জয়ের নায়ক হন মেহেদী হাসান মিরাজ। গতকাল ফের মিরাজ বীরত্বের সাক্ষী হয় হোম অব ক্রিকেট মিরপুর। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে নিজের প্রথম শতক পূর্ণ করেন মিরাজ। ৮৩ বলে ৮টি চার ও ৪টি ছক্কায় সাজানো ১০০ রানের ইনিংসটি আট বা এর নিচে নেমে বাংলাদেশের কোনো ক্রিকেটারের সর্বোচ্চ ইনিংস।

বাংলাদেশ ইনিংসের শুরুটা হয়েছে ব্যাটসম্যানের আসা যাওয়ার মধ্য দিয়ে। লিটন দাসের সঙ্গে উদ্বোধনে নামার সুযোগ পেয়ে এনামুল হক দুটি চার মেরে একটি সফল পাওয়ার-প্লের আভাস দিয়েছিলেন। কিন্তু মোহাম্মদ সিরাজের সামনে ইনিংস লম্বা হয়নি এনামুলের। ১১ রান করে এলবিডব্লুর ফাঁদে পড়েন তিনি। তিনে নামা নাজমুল হোসেন ক্ষতি পুষিয়ে দিচ্ছিলেন বাউন্ডারি খুঁজে নিয়ে। কিন্তু ব্যাটিং পাওয়ার-প্লের শেষ ওভারে এসে সিরাজের বলে বোল্ড হন তিনি।

এরপর উমরান মালিক ও ওয়াশিংটন সুন্দরের বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতে পারেনি সাকিব-মুশফিকরা। চোখের পলকে চার উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ পরিণত নয় ৬৯ রানে ৬ উইকেটের দলে। সেখান থেকে মাহমুদউল্লাহ ও মিরাজের লড়াই শুরু। সপ্তম উইকেটে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৪৮ রান করে বাংলাদেশকে বিপদমুক্ত তো করেছেনই, পৌঁছে দিয়েছেন লড়াই করার মতো অবস্থানে। ৯৬ বল খেলে ৭টি চারে ৭৭ রান করে মাহমুদউল্লাহ যখন আউট হন, তখন বাংলাদেশের রান ৭ উইকেটে ২১৭। এরপর নাসুম আহমেদকে নিয়ে বাংলাদেশের ইনিংসটাকে আরো লম্বা করেন মিরাজ।

অষ্টম উইকেট জুটিতে দুজন মিলে মাত্র ২৩ বলে যোগ করেন ৫৪ রান। নাসুম শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ১১ বলে ১৮ রানে। বাংলাদেশ শেষ ১০ ওভারে যোগ করেছেন ১০২ রান, শেষ ৫ ওভারে ৬৮। যার সিংহভাগ কৃতিত্বটা মিরাজকেই দিতে হয়।

এদিকে শতক হাঁকিয়ে অনেকগুলো রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন মিরাজ। আট নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। আগের সেঞ্চুরি করেন সিমি সিং, গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আইরিশ অলরাউন্ডার খেলেন ৯১ বলে ১০০ রানের অপরাজিত ইনিংস। আটে নেমে বাংলাদেশের হয়ে আগের সর্বোচ্চ ইনিংসটি ছিল মিরাজেরই। গত ফেব্রুয়ারিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৪৫ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর অপরাজিত ৮১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি।

এই কীর্তি গড়ার পথে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুই হাজার রান ও দুইশ উইকেটের ডাবল পূর্ণ করেছেন মিরাজ। বাংলাদেশে এমন কীর্তি তার আগে ছিল কেবল তিনজনের- সাকিব আল হাসান, মাশরাফি বিন মুর্তজা ও মোহাম্মদ রফিক। ৬৯ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর মাহমদুউল্লাহ রিয়াদের সঙ্গে ১৪৮ রানের জুটি গড়েন মিরাজ। ভারতের বিপক্ষে এটিই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রানের জুটি। ওয়ানডে ইতিহাসে এই উইকেটের তৃতীয় সর্বোচ্চ রানের জুটি এটি।

তীরে এসে তরী ডুবানোর দৃষ্টান্ত দেশের ক্রিকেটে নতুন নয়। ভারতের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৩৬ রানে ৯ উইকেট হারায় টাইগাররা। তখনই শঙ্কা জাগে পরাজয়ের। প্রায় অর্ধেক দর্শকই এ সময় ছেড়ে গেছেন গ্যালারি। জয়ের সব সম্ভাবনা শেষ হয়ে গিয়েছিল সেখানেই। কিন্তু শেষ হয়ে যাওয়া লড়াইয়ের পূর্ণতা দিতে পারলেই ইতিহাসের নায়ক হওয়া যায়।

মিরাজ ঠিক সে কাজটিই করেন। বিপন্ন সময়ে দলের ত্রাণকর্তা হিসেবে আর্বিভূত হন তিনি। ধীর স্থির ব্যাটিংয়ে ভারতের বোলারদের বাউন্ডারি হাঁকিয়ে সচল রেখেছেন রানের গতি। তাকে সঙ্গ দেন মোস্তাফিজুর রহমান। তার ব্যাট থেকেও আসে বাউন্ডারি। শেষ পর্যন্ত দুজনের নৈপুণ্যে রোহিত-কোহলিদের হতাশায় ডুবিয়ে ১ রানের নাটকীয় জয় পায় লাল-সবুজের জার্সিধারীরা। একই সঙ্গে মিরাজ-মোস্তাফিজ ঢুকে যান বাংলাদেশ ক্রিকেটের উজ্জ্বল এক ইতিহাসে।

গত জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের অবিশ্বাস্য জয়ের ম্যাচে দেখা যায় মিরাজ মিরাকল। দুই ইনিংস মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি ৫৪ ওভার বোলিং করেছেন, নিয়েছেন ৪ উইকেট। নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের হাতই খুলতে দেননি মিরাজ। পেসারদের নায়ক হওয়ার দিনে পিছিয়ে ছিলেন না তিনিও। প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে সুযোগ পেয়েও করেছেন ৪৭ রান। পরের মাসেই চট্টগ্রামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে জয়ের নায়ক মিরাজ। ২১৫ রান তাড়া করতে নেমে ৪৫ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ দল।

আফগান বোলিংয়ের বিপক্ষে ম্যাচের সে অবস্থা থেকে বাংলাদেশের হারই ছিল নিয়তি। কিন্তু আফিফ হোসেনকে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ান মিরাজ। আটে নেমে সেদিন আফিফের সঙ্গে ১৭৪ রান যোগ করে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন তিনি। নামের পাশে অপরাজিত ৮১ রান। টেস্ট ক্রিকেটে এ পর্যন্ত ৩৫ ম্যাচে মাঠে নামেন মিরাজ।

১৮.৭৮ গড় ও ৪৭.২২ স্ট্রাইট রেটে তার সংগ্রহ ১০৮৯ রান। সেঞ্চুরি আছে একটি, এই সংস্করণে তার উইকেট ১৩৫। ওয়ানডেতে ৬৬ ম্যাচে ৭৫৩ রান সংগ্রহ করেন তিনি। গড় ২৩.৫৩, স্ট্রাইট রেট ৭৯.০১। টি-টোয়েন্টিতে এ পর্যন্ত তার ব্যাট থেকে আসে ২১৬। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে তার উইকেট যথাক্রমে ৭৮ ও ৮।

কেএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়