কুড়িগ্রামে হানাদার মুক্ত দিবস পালিত

আগের সংবাদ

২ হাজার ৭৩ কোটি টাকা ঋণ দিলো এডিবি

পরের সংবাদ

সৈদালী গণহত্যা: একস্থানে ২৩ শহীদ সমাহিত

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৬, ২০২২ , ৫:৩১ অপরাহ্ণ আপডেট: ডিসেম্বর ৬, ২০২২ , ৫:৩১ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের সৈদালী গ্রামে গণহত্যার শিকার ২৩ জনকে একস্থানে সমাহিত করা হয়েছে। স্বাধীনতার ৫০ বছর পর হলেও মিরসরাই উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এসব গণকবর চিহ্নিত করে তাদের একস্থানে সমাহিত করা হয়। সরকারের তরফ থেকে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তাদের নাম ফলকযুক্ত স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের।

গণহত্যায় নিহতরা হলেন- সৈদালী গ্রামের মোখলেছুর রহমান, আবুল কালাম (হোরা মিয়া), আমির হোসেন, খোরশেদ আলম, মকছুদ আহম্মদ, নজীর আহমদ, সুলতান আহমদ, কবির উদ্দিন, শেখ আহমদ, আবদুল মালেক, তমিজ উদ্দিন, হাকিম বক্স, বেদন আলী, সামছুল আলম ভূইয়া, নুরুল আলম ভূইয়া, ফকির আহমদ, রহিম বক্স, আব্দুর রশিদ, মফিজুর রহমান, হোসনের জামান, জোবেদা খাতুন, জায়েদ আলী, ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ বজলুর রহমান।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিনহাজুর রহমান জানান, সংবাদপত্র এবং সৈদালী নাগরিক ফোরাম নামে গ্রামের একটি সংগঠনের মাধ্যমে সৈদালীতে অরক্ষিত গণকবর থাকার বিষয়টি জেনে তা একসাথে সমাহিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়। প্রথমে তাদের দেহাবশেষ উত্তোলন এবং নতুন করে কবর দেয়ার বিষয়টি শরিয়ত সম্মত করতে কিছু কাজ করতে হয়েছে। সরকারি জমির ওপর কবরস্থান ঠিক করা হয়। পরবর্তীতে কবরস্থানে যাওয়ার পথ তৈরি করতে উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে দুই শতক জমি ক্রয় করা হয়।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘কবর সমাহিত করার কাজটি করা হলো। পরবর্তীতে আমরা আমাদের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের পরামর্শে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের জন্য একটি প্রস্তাব মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রনালয়ে পাঠাবো।’

এদিকে, ২০১৭ সাল থেকে সৈদালী নাগরিক ফোরাম নামে একটি সংগঠন প্রত্যেক বছর ২০ এপ্রিল দিনটিকে সৈদালী গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। মূলত সংগঠনটির নেতাদের দাবির প্রেক্ষিতেই সবগুলো কবর একসাথে সমাহিত করার উদ্যোগ নেয় সরকার।

সংগঠনটির সভাপতি নাট্য নির্দেশক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, ১৯৭১ সালের ২০ এপ্রিল পাকিস্তানী হানাদার বাহানী সৈদালী গ্রামে নিরবিচারে নিরস্ত্র বাঙ্গালীর উপর হামলা চালায়। ওইদিন পাকিস্তানি জান্তারা অসংখ্য ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেন এবং লুটপাট চালান। এছাড়া গ্রামের একজন বীর মুক্তিযুদ্ধাসহ ২২ জনকে হত্যা এবং কয়েকজন নারীকে সেদিন ধর্ষণ করেন। সৈদালী গণহত্যায় নিহতদের কবর সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ায় মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিনহাজুর রহমান ও মিরসরাইয়ে সাংবাদিকদের প্রতি ধন্যবাদ জানান তিনি।

কেএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়