আঞ্চলিক উন্নয়ন : সমন্বিত উন্নয়নের স্বার্থে

আগের সংবাদ

সীমান্ত পর্যবেক্ষণে ড্রোন ব্যবহার করছে কোস্টগার্ড

পরের সংবাদ

গাড়িচাপা দিয়ে হত্যাকাণ্ড : অপরাধীকে কোনো ছাড় নয়

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৫, ২০২২ , ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ডিসেম্বর ৫, ২০২২ , ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ

সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনা প্রতিদিনই ঘটছে দেশজুড়ে। বেপরোয়া গতি, প্রতিযোগিতা করে গাড়ি চালানো, গাড়ি চালাতে চালাতে মোবাইল ফোনে কথা বলাসহ অনেক অনিয়মের কারণে রাস্তায় মৃত্যুর মিছিল থামছে না। দুর্ঘটনা অনিচ্ছাকৃত। আমাদের দেশে বেশিরভাগ চালকের প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকায় তাদের অনেকেই আধুনিক সড়ক নির্দেশনা বুঝতে পারেন না। এ কারণে অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে। এছাড়া অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের কারণেও দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। তবে গত শুক্রবারের দুর্ঘটনা কেবল দুর্ঘটনা নয়; রীতিমতো হত্যাকাণ্ড। ওই দিন বিকালে দেবরের মোটরসাইকেলে রুবিনা আক্তার তেজগাঁও থেকে হাজারীবাগে বাবার বাড়ি যাচ্ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বিপরীতে টিএসসি অভিমুখী সড়কে একটি প্রাইভেট কার পেছন থেকে তাদের মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলসহ আরোহী একপাশে ছিটকে পড়েন। আর রুবিনা আক্তার গাড়ির নিচে চাপা পড়েন। গাড়ির চালক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আজহার জাফর শাহ। গাড়ির নিচে আটকে যাওয়া রুবিনাকে গাড়ির সঙ্গেই টেনেহিঁচড়ে নিয়ে বেপরোয়া গতিতে টিএসসি হয়ে নীলক্ষেতের দিকে যান। নীলক্ষেতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তোরণের কাছে গাড়িটি আটকে রুবিনাকে জীবিত উদ্ধার করেন পথচারীরা। হাসপাতালে নেয়ার কিছুক্ষণ পর তার মৃত্যু হয়। পথচারীরা গাড়ি থামাতে চিৎকার করলেও ওই শিক্ষক থামাননি, বরং গাড়ির গতি বাড়িয়ে দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এটা আশা করা যায় না। জানা যায়, নৈতিক স্খলন এবং অপেশাদারিত্বমূলক আচরণের অভিযোগে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চাকরিচ্যুত করা হয় সাড়ে পাঁচ বছর আগে। তার পদাবনতিও হয়। এই খামখেয়ালিপনায় রুবিনার মৃত্যুর দায় ওই শিক্ষককেই নিতে হবে। আমরা এমন জঘন্য ঘটনার নিন্দা জানাই। রুবিনার পরিবার তছনছ হয়ে গেছে। এই ঘটনায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা হয়েছে। মামলায় গাড়িচালক ওই সাবেক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আমরা চাই এই হত্যার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক অপরাধীর। অপরাধ করে ছাড় পেয়ে গেলে অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যায়। এমন নজির অনেক আছে সমাজে। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের শিক্ষক হয়েও তিনি কেন এমন হত্যাকাণ্ড ঘটালেন এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার। নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ২০১৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সংসদে সড়ক পরিবহন আইন পাস হলেও তা দীর্ঘদিনেও পুরোপুরি কার্যকর করা যায়নি। প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং এর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর অনুমোদন দিয়েছেন। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, পরিস্থিতির উন্নতি তো দূরের কথা, ন্যূনতম শৃঙ্খলা নেই কোথাও। দীর্ঘ এ সময়ে ঢাকা মহানগরীতে ট্রাফিক পুলিশ সীমিত আকারে আইনের প্রয়োগ করলেও সারাদেশে অনেকটা স্থবির অবস্থা রয়েছে। রুবিনার এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় ট্রাফিক পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা অব্দি গাড়ির সঙ্গে লেপ্টে ছিল রুবিনার শরীর। স্পষ্ট দেখা গেলেও কেন তাৎক্ষণিক গাড়ি আটকাতে পারল না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী? দ্রুত ব্যবস্থা নিলে বেঁচেও যেতে পারতেন রুবিনা আক্তার। আমরা মনে করি, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সমাধানের অযোগ্য কোনো বিষয় নয়। এজন্য দরকার ইতিবাচক চিন্তা ও সমন্বিত পদক্ষেপ। বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশের উন্নত প্রশিক্ষণ, কঠোর নজরদারি ও আধুনিক সরঞ্জাম থাকা জরুরি। দুর্ঘটনার রাশ টেনে ধরতেই হবে। ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারী যেই হোক না কেন তার জরিমানা ও শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পরিবহন মালিক, শ্রমিকদের পাশাপাশি যাত্রীদেরও সচেতন হতে হবে এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। সড়কে মৃত্যুর মিছিল বন্ধ করতে হলে শক্তিশালী সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন সময়ের দাবি। গাড়িচাপায় মৃত্যুর এই ঘটনা কোনো দুর্ঘটনা নয়, হত্যাকাণ্ড। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়