রোবোফিশ কৃত্রিম হৃদপিণ্ডের পথে আরেক ধাপ অগ্রগতি

আগের সংবাদ

কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডস

পরের সংবাদ

চবিতে ছাত্রলীগের দুগ্রুপের সংঘর্ষ আহত ১৫

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৪, ২০২২ , ১০:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ডিসেম্বর ৪, ২০২২ , ১০:০১ পূর্বাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রামে আগমনের একদিন আগে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। চবির আবাসিক হলে চিকা মারাকে কেন্দ্র করে চবি শাখা ছাত্রলীগের দুগ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এ এফ রহমান হলে এ ঘটনা ঘটে। এতে ১৫ ছাত্রলীগ কর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বিবদমান গ্রুপ দুটি হলো- শাখা ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক সংগঠন বিজয় গ্রুপ ও ভার্সিটি এক্সপ্রেস গ্রুপ। বিজয় গ্রুপ শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী ও ভার্সিটি এক্সপ্রেস নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত।

জানা গেছে, চবির এ এফ রহমান হলের সামনের দেয়ালজুড়ে বিজয় গ্রুপের চিকা মারা হয়েছে বছরখানেক আগে। হলটিতে বিজয় গ্রুপ একক আধিপত্য বিস্তার করলেও ভিএক্স গ্রুপের (ভার্সিটি এক্সপ্রেস) অনুসারীরা বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দিনভর চিকা মেরে নিজেদের অবস্থান জানান দেয়। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে দিনভর দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা যায়। পরে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে এ এফ রহমান হলে সংঘর্ষে জড়ায় তারা। সংঘর্ষের একপর্যায়ে বিজয়ের কর্মীদের ধাওয়া দিয়ে হল থেকে বের করে দিয়ে হল দখলে নেয় ভার্সিটি এক্সপ্রেসের কর্মীরা।

পরে বিজয় গ্রুপ পার্শ্ববর্তী আলাওল হলের মাঠে অবস্থান নিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশ ঘটনাস্থলে থাকা অবস্থায় রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিজয় গ্রুপের কর্মীরা এফ রহমান হলের পেছনের দরজা ভেঙে ভেতর ঢুকে ভিএক্সের কর্মীদের ধাওয়া দিয়ে হল থেকে বের করে দেয়। সর্বশেষ রাত আড়াইটার দিকে পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল বডির প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। সংঘর্ষ চলাকালে দুগ্রুপের নেতাকর্মীদের দেশীয় অস্ত্রসহ মহড়া দিতে দেখা যায়। এছাড়া কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ও আবাসিক হলের অর্ধশতাধিক রুম ভাঙচুর করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের চিফ মেডিকেল অফিসার মো. আবু তৈয়ব জানান, আহত হয়ে প্রায় ১৫ জন চিকিৎসা নিতে এসেছিল। তাদের মধ্যে ৮ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বিজয় গ্রুপের একাংশের নেতা আল আমিন বলেন, ভিএক্সের কর্মীরা বহিরাগতদের নিয়ে এসে ফায়ার করেছে। এরপর মুখ ঢেকে হলে প্রবেশ করে বিজয়ের ছাত্রদের রুম ভাঙচুর করে। আমরা এর বিচার চাই।
ভার্সিটি এক্সপ্রেসের নেতা ও শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি প্রদীপ চক্রবর্তী দুর্জয় বলেন, আমাদের কর্মীরা হলে চিকা মেরেছিল। শুক্রবার ভোরবেলা বিজয়ের ছেলেরা আমাদের চিকা মুছে দেয়। হল তো কারো একার না যে শুধু একজনের চিকা থাকবে। তাই ভার্সিটি এক্সপ্রেসের কর্মীরা এটার প্রতিবাদ করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আমরা দুগ্রুপের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, যে যেই হলে আছে, সে সেই হলে থাকবে। এরপর আমরা চেক করব। আর হল ভাঙচুরসহ যারা আহত হয়েছে এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত কমিটি করবে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কেএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়