মেসিকে এবার জ্বলে উঠতে হবে

আগের সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীকে বরণে প্রস্তুত বন্দরনগরী চট্টগ্রাম

পরের সংবাদ

বাইডেন-পুতিনকে বৈঠকে বসাতে দৌড়ঝাঁপ

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৩, ২০২২ , ৯:৩১ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ডিসেম্বর ৩, ২০২২ , ৯:৩১ পূর্বাহ্ণ

৯ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। পুতিনও নাকি এমন কোনো আলোচনায় রাজি। যুক্তরাষ্ট্র সফররত ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, ওয়াশিংটন সফর শেষ করে পুতিনের সঙ্গে আবার কথা বলবেন। জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজের সঙ্গে গতকাল পুতিনের ফোনালাপ হয়েছে। ইউক্রেন থেকে রুশ সেনাদের সরিয়ে নিয়ে একটি কূটনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ করতে পুতিনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শলৎজ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কারণেই শেষ পর্যন্ত এই আলোচনায় বসা কঠিন হবে বলে মনে করছে ক্রেমলিন। কারণ হিসেবে তারা বলছে, রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করা ‘নতুন ৪ অঞ্চলকে’ এখনো স্বীকৃতি দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। ওই ৪ অঞ্চল হলো- ইউক্রেনের খেরসন, জাপোরিঝিয়া, লুহানস্ক ও দোনেৎস্ক। গত সেপ্টেম্বরে অঞ্চলগুলোতে গণভোটের মাধ্যমে রুশ ফেডারেশনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। তবে ৪ অঞ্চলকে রাশিয়ার অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি জাতিসংঘও রাশিয়ার এই পদক্ষেপকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র সফররত ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন বাইডেন। সেখানে তারা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও কথা বলেন। এ সময় বাইডেন বলেন, ‘পুতিনের যদি আসলেই যুদ্ধ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়ার ইচ্ছা থাকে, তাহলে আমি আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।’ এরপর গতকাল শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ। তিনি বলেন, রাশিয়ার স্বার্থ নিশ্চিত করতে পুতিন সব সময় আলোচনায় বসার জন্য প্রস্তুত ছিলেন, এখনো আছেন। তবে ওয়াশিংটনের অবস্থান সম্ভাব্য আলোচনা জটিল করে তুলছে। ওয়াশিংটনের অবস্থান বলতে তিনি বুঝিয়েছেন, রাশিয়ার অংশ হিসেবে ইউক্রেনের ৪ অঞ্চলকে স্বীকৃতি দেয়ার বিষয়টি।

ইউক্রেনে রাশিয়ার বিশেষ সামরিক অভিযান চলবে উল্লেখ করে পেসকভ বলেন, ‘বাইডেন আসলে কী বলেছেন? তিনি বলেছেন, পুতিন যদি ইউক্রেন ত্যাগ করেন, তাহলেই কেবল আলোচনায় বসা সম্ভব। নিশ্চিতভাবেই মস্কো ওই শর্ত মেনে নিতে প্রস্তুত নয়।’

এদিকে গতকাল জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজের সঙ্গে পুতিনের ফোনালাপ হয়েছে। এক ঘণ্টার ওই আলাপে ইউক্রেন থেকে রুশ সেনাদের সরিয়ে নিয়ে একটি কূটনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ করতে পুতিনের প্রতি আহ্বান জানান শলৎজ। একই সঙ্গে ইউক্রেনে বেসামরিক স্থাপনায় রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নিন্দা জানান তিনি। আর পুতিন জার্মান চ্যান্সেলরকে বলেন, জার্মানিসহ পশ্চিমা দেশগুলোর ইউক্রেনের পাশে দাঁড়ানোটা ‘ধ্বংসাত্মক’ হয়েছে। বার্লিনকে নিজেদের অবস্থান নিয়ে আবারো চিন্তাভাবনা করতে বলেন তিনি।

পুতিনের সঙ্গে কথা বলার জন্য প্রস্তুত বাইডেন: যুক্তরাষ্ট্র সফররত ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে ওয়াশিংটনে বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আসেন বাইডেন। সেখানে দুই নেতা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও কথা বলেন। ম্যাক্রোঁ বলেন, তিনি তার ওয়াশিংটন সফর শেষ করে পুতিনের সঙ্গে আবার কথা বলবেন। একই সঙ্গে তিনি রুশ নেতাকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলার ব্যাপারে সতর্ক করেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, পুতিনের সঙ্গে যোগাযোগ করার বিষয়ে এখনই তার কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে যোগাযোগের সম্ভাবনা তিনি খোলা রেখেছেন। বাইডেন বলেন, ‘আমি পুতিনের সঙ্গে কথা বলার জন্য প্রস্তুত, যদি বাস্তবিক অর্থে তার মধ্যে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগ্রহ থাকে যে তিনি যুদ্ধ শেষ করার উপায় খুঁজছেন। তবে তিনি এখনো তা করেননি।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, যদি তেমনটা হয়, তাহলে তিনি তার ফরাসি ও ন্যাটো বন্ধুদের সঙ্গে পরামর্শ করে পুতিনের সঙ্গে কথা বলবেন।

ইউক্রেনকে সহায়তার অঙ্গীকার বাইডেন ও ম্যাক্রোঁর: যতদিন প্রয়োজন ইউক্রেনকে সহায়তার অঙ্গীকারও করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। হোয়াইট হাউসে দুই নেতার বৈঠক শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা নিশ্চিতে সহায়তা অব্যাহত রাখবে যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স। কিয়েভের প্রতি বিদ্যমান সমর্থন থেকে পিছু না হটার কথাও জানান দুই প্রেসিডেন্ট।

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্র, আমাদের সব ন্যাটো মিত্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জি-৭ সবাই ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার নৃশংস যুদ্ধের বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নিয়েছে। এই যুদ্ধ শেষ করার একটা উপায় আছে- যুক্তিসঙ্গত উপায়। আর তা হলো, পুতিনকে প্রথমেই ইউক্রেন থেকে রুশ বাহিনীকে সরিয়ে আনতে হবে। কিন্তু তিনি তা করবেন বলে মনে হয় না। ইউক্রেনের হাসপাতাল, শিশু যত্নকেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থানে বোমা ফেলছে রাশিয়া। ইউক্রেনে পুতিন যা করছেন, তা অসুস্থতা। ইউক্রেন ইস্যুতে পুতিন শুরু থেকেই প্রতিটি ক্ষেত্রে হিসাবে ভুল করেছেন বলে মন্তব্য করেন বাইডেন।

ফিনল্যান্ডে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন: যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোয় যোগদানে তোড়জোড় চলছে ইউরোপের দেশ ফিনল্যান্ডের। এর আগেই দেশটির কাছে ৩৮ কোটি মার্কিন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে বাইডেন প্রশাসন।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বৃহস্পতিবার কংগ্রেসকে জানিয়েছে যে, তারা স্টিঙ্গার অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট শোল্ডার-ফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র এবং সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তর আরো জানিয়েছে, আত্মরক্ষার্থে ফিনল্যান্ডকে সহায়তা করা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রস্তাবিত অস্ত্র বিক্রি ফিনল্যান্ডের প্রতিরক্ষা ও প্রতিরোধ সক্ষমতা জোরদার করবে।

যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ইউরোপ যথেষ্ট শক্তিশালী নয়: ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট সানা মারিন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা ছাড়া ইউরোপ যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ফিনিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে আমরা শক্তিশালী। আমি নির্মম সত্য বলতে চাই, ইউরোপ যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া আমরা বিপদে পড়ব। ‘রাশিয়ার লাগাম’ টেনে ধরতে চীনের দায়িত্বের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ফিনিশ প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, চীন ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু আমাদের শুধু এটির ওপর নির্ভর করলে চলবে না। যুদ্ধ জিততে ইউক্রেনের যা যা প্রয়োজন তা সরবরাহ করা উচিত। রাশিয়ার আক্রমণ ঠেকাতে অস্ত্র, অর্থ ও মানবিক সহযোগিতা দিয়ে কিয়েভকে সহযোগিতায় এগিয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্র। ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেনে আক্রমণের মধ্য দিয়ে রাতারাতি ফিনল্যান্ডের নিরাপত্তা অগ্রাধিকার পাল্টে দিয়েছে।

রাশিয়ার সঙ্গে ফিনল্যান্ডের ১ হাজার ৩৪০ কিলোমিটার স্থল সীমান্ত। গত ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের পর গত মে মাসে ফিনল্যান্ড ও প্রতিবেশী সুইডেন আনুষ্ঠানিকভাবে ন্যাটোতে যোগ দেয়ার আবেদন করে। তারই প্রেক্ষিতে দুই দেশের জোর প্রক্রিয়া চলছে। তবে ন্যাটোয় যোগ দেয়া নিয়ে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে আসছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ক্রেমলিনের দাবি, এটি রাশিয়ার নিরাপত্তার জন্য হুমকি।

ইউক্রেনে রুশ আক্রমণের আগ পর্যন্ত ফিনল্যান্ড একই সঙ্গে রাশিয়া ও ন্যাটো জোটের সদস্যদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রেখেছিল। কিন্তু ন্যাটোর সদস্য হতে চায়নি। মে মাসে তারা ন্যাটোতে যোগদানের আবেদন করে। তবে তুরস্ক ও হাঙ্গেরি এতে এখনো সম্মতি দেয়নি।

আরো শক্তিশালী জার্মান সেনা চায় ন্যাটো: বার্লিনে বৃহস্পতিবার প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত সম্মেলনে যোগ দিয়ে ন্যাটো প্রধান জেন্স স্টলটেনবার্গ বলেছেন, ন্যাটো চায় আরো শক্তিশালী জার্মান সেনা। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই প্রতিরক্ষা খাতে বড় ধরনের বাজেট বাড়িয়েছে জার্মানি। দেশটি সেনা সংস্কারের কথাও জানিয়েছিল। জার্মানির ওই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন স্টলটেনবার্গ। তিনি বলেন, জার্মানি যেভাবে ইউক্রেনকে সামরিক, মানবিক ও অর্থনৈতিকভাবে সাহায্য করছে সত্যিই তা প্রশংসনীয়। আমরা তা দেখতে পাচ্ছি।

রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণের পরেই প্রতিরক্ষা খাতে বাজেট বাড়িয়েছে জার্মানি। যুক্তরাষ্ট্রসহ একাধিক ন্যাটোর দেশ দীর্ঘদিন ধরে জার্মানিকে শক্তিশালী সেনাবাহিনী তৈরির জন্য অনুরোধ জানিয়ে আসছিল।

ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়