রেমিট্যান্স বাড়াতে বিকল্প উদ্যোগ নিন

আগের সংবাদ

শিলচর-সিলেট উৎসব : বদলে দিতে পারে প্রান্তিক মানুষের জীবনের গল্প

পরের সংবাদ

মানবাধিকার নিয়ে দেশের অগ্রযাত্রা

ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া

লেখক, কোষাধ্যক্ষ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২, ২০২২ , ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ডিসেম্বর ২, ২০২২ , ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ

বিশ্ব দরবারে আরো একবার মাথা উঁচু করে দাঁড়াল বাংলাদেশ, আমাদের মুকুটে যুক্ত হলো নতুন পালক। সম্প্রতি জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে (ইউএনএইচআরসি) এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে আগামী ২০২৩-২৫ মেয়াদকালের জন্য সদস্যপদ লাভ করেছে বাংলাদেশ। এটি বাংলাদেশের জন্য এক ঐতিহাসিক বিজয়, উল্লেখযোগ্য অর্জন। বাংলাদেশকে মানবাধিকার পরিষদের সদস্য হওয়ার জন্য সমর্থন দিয়েছে ১৬০টি দেশের প্রতিনিধি, যা দেশের কূটনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে মানবাধিকার পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হওয়া জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মানবাধিকারের উন্নয়ন ও সুরক্ষায় বাংলাদেশের অব্যাহত প্রচেষ্টা এবং প্রতিশ্রæতির প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বীকৃতির বহিঃপ্রকাশ। মানবাধিকার কাউন্সিলের সদস্য পদে বাংলাদেশ ১৮৯টি ভোটের মধ্যে ১৬০টি ভোট পেয়েছে, যা এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে সর্বোচ্চ। এ অঞ্চলে বাংলাদেশসহ মোট ৭টি দেশ প্রতিদ্ব›িদ্বতা করেছে। প্রতিদ্ব›দ্বী দেশগুলো হলো দক্ষিণ কোরিয়া, মালদ্বীপ, ভিয়েতনাম, আফগানিস্তান, কিরগিজস্তান ও বাহরাইন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ নিজেদের মানবাধিকার সুরক্ষার পাশাপাশি বিশ্বে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও সংরক্ষণে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। একটি ক্ষুদ্র অথচ বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ রাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও ১১ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জীবন রক্ষা করে শেখ হাসিনার বাংলাদেশ সমকালীন বিশ্বে মানবাধিকার রক্ষায় সবচেয়ে বড় নজির সৃষ্টি করেছে। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেই সাময়িক সময়ের জন্য আশ্রয় দিচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকার। নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের জন্য এখানে সাময়িকভাবে থাকা-খাওয়া, চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় সব কিছুর ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আছেন আর্তমানবতার সেবায়। বর্তমানে কক্সবাজার জেলার উখিয়া, কুতুপালং ও টেকনাফ উপজেলাসহ বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ১১ লাখের অধিক রোহিঙ্গা শরণার্থী অবস্থান করছে। এক লাখের অধিক রোহিঙ্গার জন্য ভাসানচরে তৈরি করা হয়েছে সবচেয়ে বড় আধুনিক অস্থায়ী ভিত্তিতে আবাসন ব্যবস্থা। যদিও বাংলাদেশ ১৯৫১ সালের জাতিসংঘের শরণার্থী কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ নয়, তা সত্ত্বেও বিশ্বের অত্যাচারিত, নির্যাতিত ও নিপীড়িত এসব মানুষের পাশে সবসময় আছে।
জনগণের অধিকার রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, অসমতা, ভয় ও বৈষম্য মুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণ করে চলেছেন যেখানে সব নাগরিক মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে বসবাস করবে, যেখানে থাকবে না কোনো সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা। সংখ্যালঘু ধর্মীয় ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সহিংসতা রোধে বাংলাদেশ সদা তৎপর এবং এক্ষেত্রে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। তথাপি এ জাতীয় কোনো ঘটনা ঘটলে তা দ্রুততার সঙ্গে মোকাবিলা করতে আমাদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে। আমাদের সিভিল সোসাইটি, এনজিও এবং গণমাধ্যমের স্বপ্রণোদিত ও গঠনমূলক ভূমিকা এ ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখছে। নারী অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে সুপরিচিত একটি নাম। অভিবাসী কর্মীদের অধিকার রক্ষার্থে বাংলাদেশ বৈশ্বিক অভিবাসন কম্প্যাক্টের আলোচনায় সক্রিয় অবদান রেখে চলেছে। শ্রম খাতে গৃহীত হয়েছে নানা কল্যাণমূখী পদক্ষেপ। জনগণের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে জাতীয়ভাবে সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদ, সাইবার-অপরাধ, মাদকসহ এ জাতীয় সব অপরাধ রোধে সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে। জলবায়ুর পরিবর্তন রোধ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ নিজস্ব সক্ষমতা গড়ে উঠছে। বাংলাদেশ সরকার গৃহীত এসব প্রচেষ্টা ও পদক্ষেপে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পাশে চায় বাংলাদেশ। ন্যায় ও সমতাভিত্তিক এবং গণতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতিসংঘের মাধ্যমে বহুপক্ষবাদ ও বহুপক্ষীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী, সংরক্ষণ ও অগ্রগামী করতে বাংলাদেশ সদা প্রতিশ্রæতিবদ্ধ।

ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া : লেখক, কোষাধ্যক্ষ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়