তিন দিনের পর্যটন মেলার পর্দা উঠল

আগের সংবাদ

সংঘাতে অশান্ত পাহাড়, বাড়ছে নতুন নতুন সশস্ত্র সংগঠন

পরের সংবাদ

ড. মাহফুজ পারভেজ

পার্বত্য শান্তিচুক্তির ৭০ ভাগই বাস্তবায়ন হয়েছে

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২, ২০২২ , ৮:৪০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ডিসেম্বর ২, ২০২২ , ৮:৪৫ পূর্বাহ্ণ

পার্বত্য শান্তিচুক্তিকে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রফেসর ড. মাহফুজ পারভেজ বলেছেন, এটি বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত একটি চুক্তি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী সিদ্ধান্ত ও শান্তির পক্ষে তার যে অবস্থান সেটিই তিনি প্রমাণ করেছেন এই পার্বত্য শান্তিচুক্তির মাধ্যমে।

সাংবিধানিকভাবে এই চুক্তিটি অনুমোদিত হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, শান্তি চুক্তির ২৫ বছরের মধ্যে সরকার তিন পার্বত্য জেলার অধিবাসীদের জন্য শান্তি প্রতিষ্ঠায় সদিচ্ছার কোনো ঘাটতি দেখায়নি। এরই মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি কমিশন, আঞ্চলিক পরিষদ গঠন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়নে অন্তত ৭০ ভাগ বাস্তবায়িত করছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভোরের কাগজের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে এসব মন্তব্য করেন তিনি।

এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, এরই মধ্যে প্রশাসনসহ বিভিন্ন সরকারি ক্ষেত্রে অনেক পাহাড়ি নৃগোষ্ঠীর সদস্যরা চাকরি পেয়েছেন। রাজনৈতিকভাবেও তারা বেশ এগিয়েছেন। শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি বাতাবরণতো তৈরি হয়েছে এর মধ্যে। এটি সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়।

তবে এখনো যেসব সমস্যার সমাধান হয়নি সেজন্য আমি মনে করি, পার্বত্য চট্টগ্রামে যেসব পাহাড়ি রাজনৈতিক দল বা সংগঠন রয়েছে তাদেরও আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণের মধ্য দিয়েই এগুতে হবে সমস্যা সমাধানের জন্য। সরকারসহ অন্যান্য যেসব রাজনৈতিক দল রয়েছে তারা সবাই যদি আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে চুক্তির অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে আন্তরিকভাবে বসে সমাধানের চেষ্টা করেন তাহলে চুক্তির বাস্তবায়ন কঠিন নয়।

পার্বত্য চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিক নয়- জনসংহতি সমিতির এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে ড. পারভেজ বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব ও দেশের সব রাজনৈতিক নেতৃত্বকে এ ব্যাপারে গঠনমূলক সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনার মধ্য দিয়েই অগ্রসর হতে হবে। শুধু পরস্পরেকে দোষারোপ করলে সমস্যার সমাধান হবে না। আলোচনাই একমাত্র পথ। তবে শান্তি প্রতিষ্ঠায় মূল বাধা হিসেবে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে এখনো যেসব সন্ত্রাসী ৬-৭টি গ্রুপ রয়েছে তাদের সন্ত্রাসী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী পথ ছেড়ে পাহাড়ি জনপদে শান্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম তথা বংলাদেশের উন্নয়নে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

পার্বত্য চট্টগ্রামে সামরিক বাহিনীর অবস্থানগুলো সরিয়ে নেয়া হয়নি বলে জেএসএস বা অন্য পাহাড়ি সংগঠনের পক্ষ থেকে যে অভিযোগ করা হচ্ছে সে ব্যাপারে ড. পারভেজ বলেন, তিন পার্বত্য জেলার সীমান্তবর্তী অবস্থান, মিয়ানমারের অবস্থান এবং এরই মধ্যে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের বিষয়টিও ভাবতে হচ্ছে জাতীয় নিরাপত্তার খাতিরে।

কারণ, এ অঞ্চলটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভূরাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণের জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। তাই সবদিক বিবেচনায় সামরিক স্থাপনাকে সরিয়ে নেয়া যৌক্তিক হবে না। অবশ্যই জাতীয় নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হচ্ছে সরকারকে। তবে শান্তিচুক্তির ২৫ বছর পূর্তিতে আমি বলব- এ ব্যাপারে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে।

কেএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়