ডিম পাড়ে হাঁসে, খায় বাঘডাশে

আগের সংবাদ

উরুগুয়ে-পর্তুগাল ম্যাচ প্রথমার্ধে গোলশূন্য

পরের সংবাদ

বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণে শঙ্কা দূর হবে তো?

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৯, ২০২২ , ১:৫৭ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২৯, ২০২২ , ১:৫৭ পূর্বাহ্ণ

নতুন বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যের পাঠ্যবই বিতরণে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন অবস্থা কোনোভাবেই আমরা আশা করি না। গত বছরও আমরা একই অবস্থা দেখিছি। এর থেকে উত্তরণের পথ বের করতে হবে। শিক্ষার্থীদের হাতে নির্দিষ্ট সময়ে নতুন বই তুলে দেয়া সরকারের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। বলা যায়, নববর্ষ শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি বাড়তি আনন্দের দিন। দেশের প্রতিটি জনপদে চলে এ উৎসব। এবার সেই উৎসব থেকে বঞ্চিত হবে শিক্ষার্থীরা। গতকাল ভোরের কাগজের খবরের প্রকাশ, সংকটের কারণে এরই মধ্যে প্রাথমিক স্তরের বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপানোর কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে মাধ্যমিকের বই ছাপানোর কাজ। নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিন অর্থাৎ আগামী ১ জানুয়ারি প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ কোটি এবং মাধ্যমিকের জন্য ২৩ কোটির কিছু বেশি পাঠ্যবই ছাপানোর কথা। কিন্তু ছাপা বন্ধ হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে শিক্ষার্থীরা বই পাবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কাগজের দাম বৃদ্ধির কারণে যথাসময়ে বই সরবরাহ করা কঠিন বলে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির নেতারা বারবার কর্তৃপক্ষকে বলে আসছেন। এও বলেছেন, নতুন বছরের জন্য বিনামূল্যে বই ছাপাতে যে পরিমাণ কাগজ প্রয়োজন; তার ৫০ শতাংশ কাগজ শুল্কমুক্ত আমদানি না করলে ১ জানুয়ারি বই উৎসবে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেয়া সম্ভব হবে না। সংকটের কারণে কয়েক মাস ধরেই সব কিছুর দাম বাড়তি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এগুলো জেনেও সময়োচিত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। যে কারণে সময়মতো পাঠ্যবই পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এছাড়া বই ছাপানোর কার্যাদেশ দিতে দেরি করাও আরেকটি কারণ। এ অবস্থায় ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যবই পৌঁছানো নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। অতীতে আমরা দেখেছি, বই বিপণন নিয়ে নানা ঘটনা। বিনামূল্যে বিতরণের বই কালোবাজারে বিক্রি, বইয়ের সঙ্গে নোট বই কিনতে অভিভাবকদের বাধ্য করার মতো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেছে। মাধ্যমিক স্তরের বিভিন্ন শ্রেণির বই বছরের পর বছর সময়মতো শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছেন প্রকাশকরা। অন্যদিকে পাঠ্যপুস্তকের মান নিয়েও সংশয় ছিল। বিগত ১০ বছর যে ঝকঝকে ছাপা রঙিন বইগুলো শিক্ষার্থীর হাতে দেয়া হয়েছে, তাতে শিক্ষার্থীদের বই পাঠের আনন্দ বহুগুণ বেড়ে যায়। সদিচ্ছা থাকলে এসব অন্তরায় দূর করা যায়, সেটা প্রমাণ করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী এর আগে একাধিকবার শিক্ষাকে দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে অভিহিত করেছেন। এটি যে দারিদ্র্যমুক্তির কার্যকর অস্ত্র তা প্রমাণিত হয়েছে শিক্ষা বিস্তারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দারিদ্র্যমুক্তির ঘটনায়। বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণসহ শিক্ষা খাতে বাজেটের এক উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ যে জাতির জন্য সত্যিকার অর্থেই লাভজনক, তা বাস্তবতার নিরিখেই প্রমাণিত হয়েছে। আমরা মনে করি, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা এমন হওয়া উচিত, যাতে পাঠের ভেতর দিয়ে তারা আনন্দ খুঁজে পায়। শিক্ষা হতে হবে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত। শিক্ষার মান নিশ্চিত করা সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও সে চ্যালেঞ্জ দক্ষতার সঙ্গেই মোকাবিলা করতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়