প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফর আকৃষ্ট করতে বর্ণাঢ্য ঘুড়ি উৎসব

আগের সংবাদ

মেয়র মোহাম্মদ হানিফ স্মরণ: জনগণের কল্যাণই ছিল তার ধ্যান-জ্ঞান

পরের সংবাদ

উজ্জীবিত হোক বাঙালিয়ানা

সাফা আক্তার নোলক

শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৮, ২০২২ , ২:২২ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২৮, ২০২২ , ২:২২ পূর্বাহ্ণ

বাঙালি জাতির এক প্রতিচ্ছবি বাঙালির বাঙালিয়ানা। এই বাঙালিয়ানা সংযুক্ত করেছে বাঙালি জাতির সাংস্কৃতিক, সামাজিক এমনকি চিন্তা-চেতনার জগতকে। ভিন্ন ভিন্ন ধর্ম-বর্ণ-জাতি সবাইকে নিয়েই গড়ে উঠেছে এই বাঙালিয়ানা। বাঙালিয়ানা বাঙালি জাতির জীবনযাপনের এক একত্রিত সংক্ষিপ্ত রূপ। বাঙালি জাতির জীবনের ছোট ছোট প্রতিটি কোণ ঘেঁষে তৈরি এই বাঙালিয়ানা। এই বাঙালিয়ানায় যেমন বিরাজ করছে বাঙালির প্রতিদিনের প্রতি মুহূর্তের আচরণ, তেমনি বাঙালির আগলে ধরে রাখা নানা সংস্কৃতি। শত শত বছর পার হয়ে সৃৃষ্টি এই বাঙালিয়ানার। শত বছর পার করে সমৃৃদ্ধ হতে হতে আজকের এই রূপ। বাঙালি জাতির পোশাক-পরিচ্ছদ, খাবার-দাবার, সাংস্কৃতিক চর্চা, দৈনন্দিন জীবনযাপন সবকিছুর এক সমন্বিত রূপ এই বাঙালিয়ানা। আর এই বাঙালিয়ানা জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার।
আমাদের বাঙালিদের গোড়াতেই বেঁধে আছে এই বাঙালিয়ানা। কিন্তু সময় ও কালের বিবর্তনে আধুনিকতার ধারণা কীভাবে যেন আঁকড়ে ধরে ফেলেছে বাঙালিদের এই বাঙালিয়ানাকে। অনেক সময় বাঙালিরা ভুলে যাচ্ছে তার নিজ শেকড়কে আবার অনেক সময় নিজেদের হারিয়ে ফেলছে আশ্রয় করা বিভিন্ন সংস্কৃতিতে, যা কখনো তার নিজের নয়। প্রতিটি জাতির নিজস্বতা তার এক গর্বের বিষয়। কিন্তু এই ধারণাটি অনেক সময়ই তুচ্ছের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকে বাঙালিয়ানার এই ধারণাটিকে রূপ দিয়েছে বিলাসিতার এক প্রতীকে, আর অনেকে যেন এটিকে বানিয়েছে উৎসবের আমেজ। কিন্তু আসল বাঙালিয়ানা রক্ষার জো নেই কারো মাঝেই। পহেলা বৈশাখ, নবান্ন উৎসব, কিংবা বসন্তবরণ- সবকিছুই বাঙালি সংস্কৃতির এক একটি অংশ। আর এ সংস্কৃতিগুলো পালনে বাঙালিদের মধ্যে দেখা যায় এক অন্যরকম প্রাণবন্ততা। কিন্তু এই উৎসবগুলো শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যেন সংস্কৃতি রক্ষার ঝোঁকও হারিয়ে যায়। সবাই আবার ব্যস্ত তাদের আধুনিক জীবনযাপনে আর কিছুদিনের জন্য আবার তুলে রাখা নিজেদের আসল বাঙালিয়ানাকে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বাংলাদেশের সংমিশ্রিত সংস্কৃতিতে ইসলাম ধর্ম, হিন্দুধর্ম, বৌদ্ধধর্ম এবং খ্রিস্টান ধর্মের প্রভাব রয়েছে। বাঙালিয়ানা শব্দটি একত্রিত করেছে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সব সম্প্রদায়কে। যার যার ধর্ম আলাদা হলেও সবার মাঝে বিরাজমান একটি সংস্কৃতি। বাঙালি জাতির রয়েছে নিজস্বতা কিংবা স্বকীয়তা। আর এসব বৈশিষ্ট্য নিয়েই বাঙালির বাঙালিয়ানা।
একটি রাষ্ট্র কিংবা সমাজের কেন্দ্রে থাকে সেই সমাজ কিংবা রাষ্ট্রের তরুণ প্রজন্ম। আর তরুণ প্রজন্মের মাঝে যদি থাকে নিজ সংস্কৃতির প্রতি যথাযথ সম্মান ও ধারণা তাহলে সেই জাতির ভিত অনেকটাই শক্ত থাকে। আর বর্তমান প্রজন্মের মাঝে যদি বাঙালিয়ানার যথার্থ জ্ঞান ও এর প্রতি সম্মান থাকে, তবে বাঙালি জাতিরও এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে নিঃসন্দেহে। বর্তমান সময়ে বাংলার এই সংস্কৃতির প্রতি দেখা যাচ্ছে নানা রকম অবমাননা। ধার করে আনা সংস্কৃতি ও নিজ সংস্কৃতির মাঝে রয়েছে এক বড় ব্যবধান। কিন্তু আমরা যদি নিজ সংস্কৃতিকে ভুলে গিয়ে এক ভিনদেশি সংস্কৃতির প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ি, তবে ক্ষুণ্ন হবে এই বাঙালিয়ানা নামক ধারণাটি, যা আমাদের সংস্কৃতি রক্ষার মূল হাতিয়ার। বাঙালির বাঙালিয়ানা চর্চা কিংবা নিজ সংস্কৃতি চর্চা নিজ অস্তিত্ব রক্ষার এক অপরিহার্য বিষয়। সংস্কৃতি একটি জাতির আয়নাস্বরূপ। আর এ সংস্কৃতি গড়ে ওঠে নিজস্ব কিছু মূল্যবোধ ও বিশ্বাসের সমন্বয়ে। বাঙালিয়ানা এই বাঙালি জাতিরই প্রতিচ্ছবি। আর তাই এটি রক্ষা করা প্রয়োজন। বাঙালির সংস্কৃতি ধরে রাখতে তরুণ প্রজন্মকে হতে হবে সচেষ্ট। নিজ সংস্কৃতিকে ধরে রেখে সামনের দিকে এগিয়ে চলাতেই রয়েছে আসল সার্থকতা।

সাফা আক্তার নোলক
শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়