সংবাদ বিশ্লেষণ

আগের সংবাদ

সরকারের পতন অনিবার্য: মির্জা ফখরুল

পরের সংবাদ

বাংলা একাডেমির আয়োজন

মুনীর চৌধুরী একজন প্রতিভাবান মানুষ ছিলেন

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৭, ২০২২ , ৮:২৬ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২৭, ২০২২ , ৮:২৬ অপরাহ্ণ

তুমুল জনপ্রিয়তা আর তুখোড় মেধার কারণেই পাক সেনাবাহিনীর দোসর আল-বদরের সদস্যদের নীল নকশা প্রথম সারিতে ছিল মুনীর চৌধুরীর নামটি। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর বাসা থেকে তাকে ধরে নিয়ে যায় পাকিস্তানীরা। বাংলাদেশকে পঙ্গু করে দেয়ার মহাযজ্ঞে একজন একজন করে সোনালি সন্তান হারিয়ে যেতে থাকে রায়েরবাজারের বধ্যভূমিতে। রায়েরবাজারের সেই বধ্যভূমি থেকে অন্য আরো অনেক বুদ্ধিজীবীর মতোই আলাদা করে আর সনাক্ত করা যায়নি মুনীর চৌধুরীকে।

আজ ২৭ নভেম্বর রবিবার ছিল একাত্তরের বধ্যভূমিতে হারিয়ে যাওয়া সেই নক্ষত্রের জন্মদিন। এ উপলক্ষে বিকেলে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ‘শহিদ অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী: একজন আদর্শ শিক্ষকের প্রতিকৃতি’ শীর্ষক সেমিনার ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি সচিব মো. আবুল মনসুর। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর পর্ষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শহিদ অধ্যাপক মুনীর চৌধুরীর কনিষ্ঠ পুত্র সংস্কৃতি এবং মানবাধিকারকর্মী আসিফ মুনীর। আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আজিজুল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক মো. কামরুজ্জামান। সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের জনশিক্ষা বিভাগের কীপার কবি শিহাব শাহরিয়ার।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মো. আবুল মনসুর বলেন, মুনীর চৌধুরী এমন একজন প্রতিভাবান মানুষ ছিলেন যিনি বাংলা ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। শুনেছি তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও ইংরেজি বিভাগের পাঠদান ক্লাসে ছিলেন সবচেয়ে জনপ্রিয় শিক্ষক। গুণিজনেরা বেঁচে থাকেন তাদের রেখে যাওয়া কাজের মধ্যে।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, শহিদ অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী খুব সংক্ষিপ্ত জীবনে অনেক কিছু অর্জন করেছেন। বাংলা টাইপ রাইটার মেশিনের প্রচলন তার মাধ্যমেই শুরু হয়। স্বাধীন বাংলাকে মেধাশূন্য করার লক্ষ্যে মুনীর চৌধুরীর মতো বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়েছিল। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, বাঙালি জাতি তার এই বীর সন্তানদের স্মরণ করবে শ্রদ্ধাভরে।

সৈয়দ আজিজুল হক বলেন, বাংলা সাহিত্যের দিকপাল, অসম্ভব মেধাবী মুনীর চৌধুরী হাজার বছর বেঁচে থাকবেন বাঙালির হৃদয়ে। তার জ্ঞানর্জনের আকাঙ্খা মানুষের মনে অনুপ্রেরণা যোগায়। বাংলাদেশের অভূতপূর্ব প্রতিভাবান ব্যক্তিদের মধ্যে মুনীর চৌধুরী অন্যতম।

মূল প্রবন্ধে আসিফ মুনীর বলেন, মুনীর চৌধুরীর সবচেয়ে বেশি সফলতা আধুনিক বাংলা নাটকের জনক হিসেবে। শিক্ষক হিসেবেও অনবদ্য সাফল্যের কথা শোনা যায় তার সমসাময়িক বন্ধু-ছাত্র-গুণমুগ্ধদের কাছ থেকে। কৈশোর থেকে পরিণত বয়স এবং বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের আগে পর্যন্ত দেশী-বিদেশী গদ্য সাহিত্য, নাটক, বাংলা ভাষা, ভাষাতত্ত্ব নিয়ে পাঠ ছিল মুনীর চৌধুরীর নেশা। শ্রেণীকক্ষে তার পাঠদান এবং রাজনৈতিক, সাহিত্য বা সাংস্কৃতিক সমাবেশে বক্তৃতাগুলি মনোমুগ্ধকর ছিল। কৈশোর থেকে পরিণত বয়স এবং বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের আগে পর্যন্ত দেশী-বিদেশী গদ্য সাহিত্য, নাটক, বাংলা ভাষা, ভাষাতত্ত্ব নিয়ে পাঠ ছিল মুনীর চৌধুরীর নেশা। বাংলা ও ইংরেজী সাহিত্যের প্রচুর পড়াশোনা থাকায় এই দুই ভাষাতেই তার শব্দের ভাণ্ডার অত্যন্ত সমৃদ্ধ ছিল। তার পাঠদানের মধ্যে তিনি বিভিন্ন দেশী-বিদেশী সাহিত্যের উদাহারন টেনে আনতেন এবং অত্যন্ত প্রাঞ্জল ভাষায় পাঠের বিষয়বস্তু উপস্থাপন করতেন।

তিনি বলেন, অনেকেই স্মৃতিচারণ করেন, অন্য বিভাগের ছাত্রছাত্রীরাও মন্ত্রমুগ্ধের মত এই জীবন্ত কিংবদন্তির ক্লাস শুনতে আসতেন। তিনি তার নিজস্ব ভঙ্গিতে বাঙালি সংস্কৃতি ও বাংলা ভাষা চর্চার শিক্ষা দিয়ে গেলেন জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত। বিভিন্ন প্রজন্মের ছাত্র-শিক্ষকদের জন্য এরকম বিরল দৃষ্টান্তের মত অনুপ্রেরণা আর কি হতে পারে।

স্বাগত বক্তব্যে মো. কামরুজ্জামান বলেন, বাংলা সাহিত্যের দিকপাল, অসম্ভব মেধাবী মুনীর চৌধুরী হাজার বছর বেঁচে থাকবেন বাঙালির হৃদয়ে।

এনজে

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়