মেসি ম্যাজিকে টিকে রইলো বিশ্বকাপের আশা

আগের সংবাদ

সহনশীলতার চর্চা ও মানবিক দেশ গঠন হোক আমাদের প্রত্যয়

পরের সংবাদ

বাংলার পল্লী নবান্ন উৎসবে মাতোয়ারা

শতদল বড়ুয়া

লেখক ও সাংবাদিক

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৭, ২০২২ , ৩:১৮ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২৭, ২০২২ , ৩:১৮ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশে নবান্ন উৎসব পালন হয় আমন ধানের ফলন ঘরে তোলাকে কেন্দ্র করে। কারণ এটিই ছিল একসময় নিশ্চিত ফসল। আমন ধান ‘আগুনি ধান’ বা ‘হৈমন্তিক’ ধান নামেও পরিচিত। আবহমান কাল থেকে এ ধানেই কৃষকের গোলা ভরে, যা দিয়ে কৃষক তার পরিবারের ভরণ-পোষণ, পিঠাপুলি ও আতিথেয়তাসহ সংসারের অন্যান্য খরচ মেটাত। এজন্যই হয়তো এ মৌসুমকে কেন্দ্র করে পালন হয় নবান্ন উৎসব।
নবান্ন ঋতুকেন্দ্রিক একটি উৎসব, তাই প্রতি বছর ঘুরে ফিরে আসে নবান্ন উৎসব। হেমন্তে নতুন ফসল ঘরে তোলার সময় এই উৎসব পালন করা হয়। হাজার বছরের পুরনো এই উৎসবটি যুগ যুগ ধরে একইভাবে পালন হয়ে আসছে। নবান্ন উৎসবে গ্রামগঞ্জে আয়োজন করা হয় গ্রামীণ মেলার। এসব মেলায় শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের ঢল নামে। আনন্দ দেখা যায় ছোটবড় সব বয়সের মানুষের মধ্যে। গ্রামের খেটে-খাওয়া মানুষ এ উৎসব ভিন্নভাবে পালন করে। এ উৎসবে উপস্থিত থাকেন নবীন-প্রবীণ সবাই। হরেক রকমের দোকান নিয়ে বসে গ্রামীণ মেলায়। এ মেলায় পাওয়া যায় বিভিন্ন ধরনের পিঠা-পুলি, মিষ্টি-সন্দেশ, মিঠাই, খেলনা-পুতুল, মাটির তৈজসপত্র। তবে গ্রামীণ মেলা এখন আর শুধু গ্রামেই হয় না, শহরের মানুষও এখন নবান্নের স্বাদ নিয়ে থাকে।
আমাদের দেশে নবান্ন উৎসবে অঞ্চল ভেদে চলে জারি, সারি, মুর্শিদি, লালন, পালা ও বিচার গান। ছোটদের বাড়তি আনন্দ দিতে মেলায় আসে নাগরদোলা, পুতুল নাচ, সার্কাস, বায়োস্কোপ। তখন হয়তো মনে পড়ে যায় ফেলে আসা দূর অতীতের কথা, যেখানে মা-বাবা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন সবাই একসঙ্গে মিলে নবান্নের উৎসব উপভোগ করত। নবান্ন উৎসবের সঙ্গে মিশে আছে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি। বিশ্বায়নের এ যুগে বাংলার ঐতিহ্যগুলো ক্রমেই হারিয়ে যেতে বসেছে। আজকের গ্রামবাংলার শিশুরা যেন স্বপ্নের মধ্যে নবান্নের উৎসবের ইতিকথা বাবা-মা, কিংবা দাদা-দাদির মুখে মুখে শোনে। অন্যদিকে খেলার মাঠের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই ডিজিটাল যুগে খেলার জায়গা বলতে একচিলতে বারান্দা। শিশুদের খেলার মাঠের জায়গা দখল করে নিয়েছে ট্যাব, মোবাইল কিংবা কম্পিউটারের ছোট্ট মনিটর। দুরন্ত শৈশবটাই যেন হারিয়ে যাচ্ছে তাদের। নগরায়ণ আর আধুনিকতার অজুহাতে বিলীন হচ্ছে সব ঐতিহ্য। তেমনি গ্রামীণ জনপদে দিগন্ত বিস্তৃত ফসলের মাঠ আছে; কিন্তু কৃষকের ঘরে নেই নবান্নের আমেজ। এমন করে নীরবে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নবান্ন উৎসব কালের আবর্তে হারিয়ে যেতে বসেছে। বস্তুত নবান্ন বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী উৎসব। নবান্ন এক অসাম্প্রদায়িক উৎসব। এ উৎসব বাঙালি জাতিকে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ করে। তাই নবান্ন উৎসবের গুরুত্ব অপরিসীম।
সুদীর্ঘকাল থেকেই কৃষি আমাদের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এদেশের অধিকাংশ মানুষের জীবনের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না কৃষির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কাজেই আমাদের বাঁচতে হলে ‘কৃষি বিপ্লব’ সফল করেই বাঁচতে হবে। প্রায় ১৮ কোটি মানুষের এ দেশে সাম্প্রতিককালে সবচেয়ে বিস্ময়কর ও অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে কৃষি খাত থেকে। তাই বলতে হয়- কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে, দেশ বাঁচলে আমরা পরিজন-পরিবার নিয়ে সুখে শান্তি জীবন কাটাতে পারব।

শতদল বড়ুয়া
লেখক ও সাংবাদিক, ঢাকা।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়