আনন্দিত মানুষের জন্য আনন্দময় শিক্ষা

আগের সংবাদ

ছিটকে গেলেন নেইমার-দানিলো, চিন্তিত ব্রাজিল

পরের সংবাদ

চট্টগ্রামে শিশু হত্যা : এমন বর্বরতার শেষ কোথায়?

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৭, ২০২২ , ৩:১৯ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২৭, ২০২২ , ৩:১৯ পূর্বাহ্ণ

আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। কিন্তু তাদের ভবিষ্যৎ আমরা নিশ্চিত করতে পারছি না। শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, হত্যা বেড়েই চলেছে। কোনো প্রতিকার করা যাচ্ছে না। গতকাল ভোরের কাগজের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৫ নভেম্বর সাড়ে চার বছর বয়সি শিশু আলীনা ইসলাম আয়াত নিখোঁজ হয়েছিল চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড থানার দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডের নয়ারহাট এলাকা থেকে। অনেক খোঁজাখুঁজির পর জানা যায়, শিশুটি হত্যার শিকার হয়েছে। খুনি তাদেরই ভাড়াটিয়া ১৯ বছর বয়সি বখাটে তরুণ আবির আলী। আয়াতের বাবার কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের জন্য সে অপহরণ ও খুন করেছে বলে তদন্তকারী সংস্থা পিবিআইয়ের কর্মকর্তাদের জানিয়েছে। গ্রেপ্তারের পর নানাভাবে জিজ্ঞাসাবাদের পর সে জানায়- আয়াতকে অপহরণ, খুন ও মরদেহ টুকরো করে ব্যাগভর্তি অবস্থায় বাসায় রেখেছিল। তার পরদিন সে ছয়টি খণ্ড আলাদা আলাদা প্যাকেটে ভরে তিনটি ফেলে সাগরে আর নালায় স্লুইসগেটের প্রবেশমুখে। কতটা বর্বর হলে মানুষ এমন কাজ করতে পারে। আমরা এতটাই বর্বর সমাজে বাস করছি, যে সমাজে বখাটে সন্ত্রাসীদের একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম রয়েছে। বখাটে সন্ত্রাসীদের কাছে সবাই যেন অসহায় ও জিম্মি। শিশুরা বখাটের ভয়ংকর নির্মমতার শিকার হলে মিডিয়ার কল্যাণে সবাই জানতে পারে। ভয়াবহ ঘটনাগুলোর বাইরে যে প্রতিদিন অসংখ্য শিশু ঘরে-বাইরে নানা ধরনের শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতন মুখবুজে সহ্য করছে, সে খবর কে রাখে? ইদানীং মানুষের লোভ, আক্রোশ, নিষ্ঠুরতা ও জিঘাংসা অতিমাত্রায় বেড়ে গেছে। যার নিষ্ঠুর শিকার হচ্ছে কোমলমতি শিশুরা। বেশির ভাগ সময়ে তাদের অপহরণের পর খুন করা হচ্ছে কিংবা পিটিয়ে হত্যা করা হচ্ছে। অভাব, হাহাকার, হতাশায় বাবা-মাও নিজের সন্তানকে হত্যা করছেন অবলীলায়। এছাড়া সামান্য অপরাধে শিশুকে অমানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে। শিশুর প্রতি এমন নির্দয় আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এটা অবক্ষয়গ্রস্ত সমাজেরই এক ভয়াবহ করুণ চিত্র। দেশে শিশু অধিকার আইন, শিশু-কিশোর অপরাধ সংশোধন কেন্দ্র ও শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র আছে। এসব কার্যকর করার প্রয়োজনীয় লোকবল আছে। শিশু অধিকার দিবস পালিত হয় প্রতি বছরই। শিশুদের নিয়ে বহু সংগঠন রয়েছে। সর্বোপরি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার ১৬.২ ধারায় শিশুদের শোষণ, নির্যাতন, পাচার ও শিশুদের বিরুদ্ধে সব নিপীড়ন বন্ধকরণ নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা দেয়া আছে। তবুও কোনোটিতেই আসল উদ্দেশ্য হাসিল হচ্ছে না। আমরা মনে করি, দেশের নাগরিক হয়ে রাষ্ট্রের কাছে আমাদের যেমন প্রত্যাশা রয়েছে, তেমনি আমাদের কাছে রাষ্ট্রেরও প্রত্যাশা কম নয়। আমরা যদি রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি আমাদের দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হই; তাহলেই শিশুরা নিরাপদ থাকবে। পাশাপাশি সরকারকে শিশু অপরাধীর শাস্তি তাৎক্ষণিক নিশ্চিত করতে হবে। আয়াত হত্যাকারী গ্রেপ্তার হয়েছে। খুনির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়