সহনশীলতার চর্চা ও মানবিক দেশ গঠন হোক আমাদের প্রত্যয়

আগের সংবাদ

চট্টগ্রামে শিশু হত্যা : এমন বর্বরতার শেষ কোথায়?

পরের সংবাদ

আনন্দিত মানুষের জন্য আনন্দময় শিক্ষা

আহমেদ আমিনুল ইসলাম

অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৭, ২০২২ , ৩:১৮ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২৭, ২০২২ , ৩:১৮ পূর্বাহ্ণ

আরেকটি নতুন বছর সমাগত-প্রায়। দীর্ঘদিন ধরে শুনে আসছি ২০২৩ সাল থেকে চালু হতে যাচ্ছে নতুন এক শিক্ষানীতি। নতুন শিক্ষানীতি বাস্তবায়নে সরকারের প্রস্তুতিও শেষ পর্যায়ে। শিক্ষানীতির প্রসঙ্গ উচ্চারিত হলেই আমরা শিক্ষার সঙ্গে আনন্দের কথাটিও বারবার স্মরণ করি। চালু হতে যাওয়া নতুন শিক্ষানীতি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীরও উদ্দেশ্য শিক্ষাকে ‘আনন্দময়’ করে তোলা। বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় এই শিক্ষানীতির কাজ সুসম্পন্ন। সম্ভাব্য শিক্ষানীতির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থেকে আমরা এটুকু ধারণা পাই যে, এতে অন্তত শিক্ষার্থীদের কাঁধ থেকে ‘বইয়ের বোঝা’ কমতে যাচ্ছে। সামাজিক কল্যাণকর ও কর্মমুখী শিক্ষানীতি প্রণীত হওয়ায় এমন ধারণাও করা যায় যে, এতে মানুষের মানবিক ‘উপলব্ধি’ এবং জীবিকাসংশ্লিষ্ট ‘উপার্জন’কে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের শিক্ষাভাবনায় প্রভাবিত হয়ে এরূপ শিক্ষাব্যবস্থার স্বপ্ন বঙ্গবন্ধুও দেখেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শনও ছিল বিস্তৃত মানবিক পটভূমি নির্ভর। সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকরা রবীন্দ্রপ্রেমী বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা-স্বপ্নকেও ভূলুণ্ঠিত করে দেয়।
বঙ্গবন্ধুর বিশ্বাস ছিল শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ নির্বিশেষে শিক্ষার সমান সুযোগ সবার জন্য প্রযোজ্য। তিনি বিশ্বাস করতেন ঘরে ঘরে আধুনিক, যুগোপযোগী ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা পৌঁছে দিতে না পারলে স্বাধীনতার সব অর্জন ব্যর্থ হবে। সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য আদর্শ মানবসম্পদ গড়ে তোলাই ছিল বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা-দর্শনের মূল বিষয়। ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু ‘জাতীয়করণ নীতি’ ঘোষণা উপলক্ষে বেতার ও টেলিভিশনে ঔপনিবেশিক চেতনাপুষ্ট শিক্ষাব্যবস্থা আমূল পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য ‘শিক্ষা কমিশন’ গঠনের কথা বলেন। শিক্ষা কমিশন কেবলমাত্র ভবিষ্যৎ রূপরেখা এবং কারিকুলাম প্রণয়নই নয় বরং সদ্য-স্বাধীন দেশের বাস্তবতায় জীবনঘনিষ্ঠ, উৎপাদনমুখী এবং পেশাভিত্তিক উন্নয়নমূলক বিষয়গুলোকেও সম্পৃক্ত করে। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনা মতো দ্রুত পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রস্তুত সম্ভব না হলেও কমিশন একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন জমা দেয় ১৯৭৩ সালের জুন মাসে। ১৯৭৪ সালের মে মাসে ৩০৯ পাতার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেয় কমিশন। এই প্রতিবেদনের ভূমিকায় উল্লেখ করা ‘এই কমিশনের উদ্দেশ্য হচ্ছে বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থার ত্রæটি ও ঘাটতি দূর করা এবং দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে ‘মানসম্পন্ন জীবনমান’ অর্জনের জন্য মানবসম্পদকে প্রশিক্ষণ দেয়ার সক্ষমতা অর্জন।’ শিক্ষাকে সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রয়োজনের আলোকে ঢেলে সাজানো যাতে কোনো অবস্থায়ই নতুন সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় তা এলিট শ্রেণি সৃষ্টির শিক্ষাব্যবস্থায় পরিণত না হয়। সংবিধানে বর্ণিত ‘গণমুখী, সর্বজনীন, বৈষম্যহীন একই ধরনের অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষাব্যবস্থা সব শিশুর জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে’- এরূপ দর্শনের ওপর ভিত্তি করে পরিকল্পনা কমিশন প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় শিক্ষা কর্মসূচি প্রণয়ন করে।
উত্তরাধিকার সূত্রে স্বাধীন দেশে পাওয়া ব্রিটিশ এবং পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে বঙ্গবন্ধুর ব্যাপক হতাশা ছিল। ১৯৭২ সালের ৩০ মার্চ চট্টগ্রামে শিক্ষক ও লেখকদের সমাবেশে বক্তব্যে বলেছিলেন ‘এই শিক্ষাব্যবস্থা মানুষকে সত্যিকারের মানুষ হিসেবে তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে। বিকশিত মানুষ সৃষ্টির পরিবর্তে এটি শুধু আমলা তৈরি করছে।’ বঙ্গবন্ধু গভীরভাবে বিশ্বাস করতেন মানুষকে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে না পারলে সমাজ থেকে দারিদ্র্য এবং বৈষম্য দূর হবে না এবং সমাজতন্ত্রের বাস্তবায়নও হবে না। গ্রামীণ মানুষের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেয়ার জন্য প্রত্যেক শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীকে কিছু দিন গ্রামাঞ্চলে কাটানোর পরামর্শ দেন বঙ্গবন্ধু। একদা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার শিক্ষাচিন্তায়ও এরূপ পরামর্শ দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন : ‘যদি সম্ভব হয় তবে এই বিদ্যালয়ের সঙ্গে খানিকটা ফসলের জমি থাকা আবশ্যক; এই জমি হইতে বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় আহার্য সংগ্রহ হইবে, ছাত্ররা চাষের কাজে সহায়তা করিবে। দুধ-ঘি প্রভৃতির জন্য গরু থাকিবে এবং গোপালনে ছাত্রদিগকে যোগ দিতে হইবে। পাঠের বিশ্রামকালে তাহারা স্বহস্তে বাগান করিবে, গাছের গোড়া খুঁড়িবে, গাছে জল দিবে, বেড়া বাঁধিবে; এইরূপে তাহারা প্রকৃতির সঙ্গে কেবল ভাবের নহে, কাজের সম্বন্ধও পাইতে থাকিবে।’ অর্থাৎ শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে নাড়ির সম্পর্ক গভীর করতে হবে। দেশের ভেতরকার প্রাণস্পন্দন যদি শিক্ষাব্যবস্থায় অনুরণিত না হয় তবে সে শিক্ষা জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতিকেও স্ফূর্তি দিবে না। আর এই স্ফূর্তি শিক্ষার সঙ্গে না থাকলে ছাত্ররা কেবল গৎবাঁধা বুলি মুখস্থ করে পাস করবে- ‘উপার্জন’র জন্য প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হবে। কিন্তু মানুষ হিসেবে ‘উপলব্ধি’র জগতে সে থাকবে অনেকটাই দুর্বল। কাজেই শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে ‘উপলব্ধি’ এবং ‘উপার্জন’ দুটি বিষয়েরই সমন্বয় করতে হবে। বঙ্গবন্ধু অত্যন্ত বেদনার সঙ্গে উপলব্ধি করে প্রায়শই বলতেন : ‘ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের দুইশ বছরের ও পাকিস্তানের ২৫ বছরে গড়ে ওঠা শিক্ষাব্যবস্থা শুধু কেরানি তৈরি করেছে, মানুষ তৈরি করেনি।’ রবীন্দ্রনাথও বলেছিলেন : ‘আমরা যে শিক্ষায় আজন্মকাল যাপন করি, সে-শিক্ষা কেবল যে আমাদিগকে কেরানিগিরি অথবা কোনো-একটা ব্যবসায়ের উপযোগী করে মাত্র, [..] আটপৌরে দৈনিক জীবনে তাহার যে কোনো ব্যবহার নাই, ইহা বর্তমান শিক্ষা প্রণালীগুণে অবশ্যম্ভাবী হইয়া উঠিয়াছে।’ রবীন্দ্রনাথ আরো বলেছেন : ‘নিজে চিন্তা করিবে, নিজে সন্ধান করিবে, নিজে কাজ করিবে, এমনতরো মানুষ তৈরি করিবার প্রণালী এক, আর পরের হুকুম মানিয়া চলিবে, পরের মতের প্রতিবাদ করিবে না ও পরের কাজে জোগানদার হইয়া থাকিবে মাত্র এমন মানুষ তৈরির বিধান অন্য।’
রবীন্দ্রনাথের কথায় বোঝা যায়, আমাদের দেশে প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে নিজে চিন্তা করা, নিজে সন্ধান করার পথটি অনুপস্থিত! পরের হুকুম মানিয়া চলা এবং পরের কাজের জোগানদার হয়ে থাকাই যেন বিধিলিপি! ঔপনিবেশিক বিভিন্ন ধরনের শৃঙ্খলে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা পরনির্ভশীলতায় আবৃত-আচ্ছন্ন। রবীন্দ্রনাথ তার শিক্ষাচিন্তায় ঔপনিবেশিক-শৃঙ্খলা থেকে দার্শনিকভাবে মুক্ত হওয়ার জন্য ব্যাকুল ছিলেন এবং বঙ্গবন্ধু রাজনৈতিকভাবে ঔপনিবেশিক শিক্ষাব্যবস্থা থেকে জাতিকে মুক্ত করার জন্য ব্যাকুল ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা-দর্শনে রবীন্দ্রনাথের শিক্ষাচিন্তার প্রতিফলন গভীর। পাশাপাশি, চীনে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠাকালীন সে দেশের শিক্ষানীতিও বঙ্গবন্ধুকে প্রভাবিত করেছে। বঙ্গবন্ধুর ‘আমার দেখা নয়াচীন’ গ্রন্থে আমরা এরূপ বক্তব্যের পক্ষেও প্রমাণ পাই। আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে শিক্ষাবিদদের নিয়ে একটি কমিশন গঠনের পরিকল্পনার কথাও ১৯৭২ সালে শিক্ষক-লেখকদের সঙ্গে চট্টগ্রামের সমাবেশসহ বুয়েটের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন : ‘এমন একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করা হচ্ছে যার মাধ্যমে এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে, যা সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করবে।’ বঙ্গবন্ধু আরো বলেছিলেন, ‘পূর্বের সকল শিক্ষা কমিশন বাঙালিদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।’
১৯৭২ সালে ড. কুদরত-ই খোদাকে প্রধান করে বঙ্গবন্ধু তার স্বপ্নের শিক্ষা কমিশন গঠন করেছিলেন। যার অন্যতম কাজ ছিল চলমান শিক্ষাব্যবস্থাকে মূল্যায়নের ভিত্তিতে সত্যিকারের সোনার বাংলা গড়ে তোলার লক্ষ্যে যথাযথ শিক্ষাব্যবস্থা প্রচলনের সুপারিশ করা। স্বাধীন দেশে শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের জন্য বঙ্গবন্ধু-সরকারই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিল। নতুন সংবিধান শিক্ষাকে সব নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ১৯৭২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রেসনোটে বলা হয় উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত বাংলা ভাষাই হবে শিক্ষার মাধ্যম। ১৯ ফেব্রুয়ারির অপর প্রেসনোটে জানানো হয় প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে বই পাবে এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা পাবে বাজারমূল্যের চেয়ে ৪০ শতাংশ কম দামে। বর্তমানে বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার প্রথম থেকে নবম-দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের হাতে প্রতি বছর ১ জানুয়ারিতেই বই পৌঁছে দিচ্ছে বিনামূল্যে। এমন দৃষ্টান্ত পৃথিবীতে বিরল! তৃণমূল পর্যন্ত শিক্ষা প্রসারের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু ৩৬ হাজারের বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করেন। শিক্ষকদের বেতন-ভাতাও বৃদ্ধি করেন। নারীদের অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা চালুও ছিল বঙ্গবন্ধুর যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত।
২০১০ সাল থেকে শেখ হাসিনার সরকার ড. কুদরত-ই খোদা শিক্ষা কমিশনের আলোকে জাতীয় শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের সূচনা করে। এখনো সেই প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। শেখ হাসিনাও বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথকে আরো সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়ে অবৈতনিক নারী শিক্ষাকে স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছেন। পাশাপাশি উপবৃত্তি চালুর ফলে নারী শিক্ষার হারও দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যা করলেও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার অসমাপ্ত কাজ শেখ হাসিনার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর সুচিন্তিত শিক্ষাভাবনার ফলে ১৯৭৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ জারি হয়েছে। এই আদেশের মাধ্যমে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীন চিন্তা ও মত প্রকাশের তীর্থস্থান হিসেবে গড়তে চেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। চেয়েছিলেন শিক্ষা ক্ষেত্রে যে দীর্ঘদিনের ঔপনিবেশিক জঞ্জাল রয়েছে তা অপসারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মুক্তবুদ্ধির চর্চায় অনন্য ভূমিকা রাখবে। বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যেই তিনি ‘১৯৭৩ সালের বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ’ জারি করে চারটি বিশ্বদ্যিালয়কে স্বায়ত্তশাসন প্রদান করেন। জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের সামনে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন তুলে ধরেছেন। ২০৪১ সালের মধ্যে কাক্সিক্ষত গন্তব্যে পৌঁছাতে হলে বঙ্গবন্ধুর শিক্ষাদর্শন ও শিক্ষাভাবনার বাস্তবায়ন আরো বেশি প্রাসঙ্গিক। শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করাসহ নিত্যনতুন গবেষণা ও উদ্ভাবনের সুযোগ বাড়াতে হবে। বৈচিত্র্যপূর্ণ গবেষণার মাধ্যমে উন্নত রাষ্ট্রের লক্ষ্যে পথ চলা মসৃণ হয়। ২০২৩ সালে চালু হতে যাওয়া শিক্ষানীতির আলোকে নতুন প্রজন্ম ‘উপলব্ধি’ ও ‘উপার্জন’কে সঙ্গে নিয়েই কল্যাণমুখী সমাজের দিকে ধাবিত হতে পারলে উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠন কঠিন নয়। শিক্ষায় আনন্দের কোনো বিকল্প নেই। উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হবে সব আনন্দিত মানুষের বাসভূমি।

আহমেদ আমিনুল ইসলাম : অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়