আর্জেন্টিনা ভক্তদের প্রতি মিমের আহ্বান

আগের সংবাদ

নাতনির বয়ফ্রেন্ডসহ তিনজনের দোষ স্বীকার

পরের সংবাদ

রাবীন্দ্রিক সকালে উষ্ণতা ছড়াল রবীন্দ্র সঙ্গীত উৎসব

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৫, ২০২২ , ৫:০৬ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২৫, ২০২২ , ৫:০৬ অপরাহ্ণ

করোনার কারণে মঞ্চ থেকে প্রায় তিন বছর দূরে ছিল বাংলাদেশ রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সংস্থার নানা অনুষ্ঠানমালা। ৩৩তম জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত উৎসবের মধ্য দিয়ে ফের মঞ্চে ফিরল সংস্থাটির কার্যক্রম। এর মধ্য দিয়ে সংস্কৃতির বৈরী আবহাওয়ায় সংগীতের সুবাস ছড়িয়ে দিলেন গুণী শিল্পীরা।

শুক্রবার (২৫ নভেম্বর) সকাল ১০টায় অগ্রহায়ণের রাবীন্দ্রিক সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তন মঞ্চে প্রদীপ জ্বালিয়ে উৎসবের উদ্বোধন করলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংস্থার সভাপতি তপন মাহমুদ, স্বাগত বক্তব্য দেন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক পীযুষ বড়ুয়া। অনুষ্ঠানের প্রথম অধিবেশন ছিল দুই পর্বে বিভক্ত। প্রথমেই দেয়া হয় গুণীজন সম্মাননা।

সংগঠনের রীতি অনুযায়ী জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হয় । এরপর সংস্থার শিল্পীরা দুটি কোরাস পরিবেশন করেন। গান দুটি ছিল ‘ও আমার দেশের মাটি তোমার পরে ঠেকাই মাথা’ ও ‘তোমার সুরের ধারা ঝরে যেথায় তারি পারে’।

‘এই জীবনের ব্যথা যত এইখানে সব হবে গত-’ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এমন অমিয়বাণী ধারণ করে দুই দিনের সংগীত উৎসবের সূচনা হয়েছে। এদিন রবীন্দ্রনাথের গানের সুরে সুরে সংস্কৃতির লড়াইকে বেগবান করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করা হয়।

এরপর অনুষ্ঠানে সম্মাননা দেয়া হলো দুই গুণীজনকে। তারা হলেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা বীর মুক্তিযোদ্ধা বাচিকশিল্পী আশরাফুল আলম ও সংগীতশিল্পী রফিকুল আলম।
এই দুই শিল্পীর হাতে সম্মাননা স্মারক ও অর্থমূল্য তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। সংবর্ধিত দুই গুণীর শংসাবচন পাঠ করেন সাগরিকা জামালী ও সীমা সরকার।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কে এম খালিদ বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিকগণ মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্নভাবে উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করেছেন। সেরকম দু’জন শব্দসৈনিক আশরাফুল আলম ও রফিকুল আলমকে সম্মাননা প্রদান নিঃসন্দেহে প্রশংসাযোগ্য।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সবসময় বাংলাদেশ রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সংস্থার আয়োজনে সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করে আসছে। প্রতিমন্ত্রী এসময় সংগঠনটিকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দুই লক্ষ টাকা অনুদানের ঘোষণা দেন।

সম্মাননাপ্রাপ্তির অনুভূতি ব্যক্ত করে বাচিকশিল্পী আশরাফুল আলম বলেন, জগতের বিপুল কর্মযজ্ঞের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম। আমি আজ তার নামাঙ্কিত সম্মাননা পেলাম জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সংস্থা থেকে। এ সম্মাননাটি আমার কাছে অত্যন্ত সম্মানের।

রফিকুল আলম বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামাঙ্কিত এ সম্মাননা আমার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যেন এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো।

সংস্থার সভাপতি তপন মাহমুদ বলেন, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের দুই শব্দসৈনিককে সম্মাননা দিতে পেরে আমরা গর্বিত।

উদ্বোধনী অধিবেশনে দ্বিতীয় পর্বে ছিল আমন্ত্রিত পাঁচটি দলের সমবেত পরিবেশনা। এতে অংশ নেয় সংগীত ভবন, উত্তরায়ণ, সুরতীর্থ, বুলবুল ললিতকলা একাডেমী (বাফা) ও বিশ্ববীণা।

রবীন্দ্রনাথের পূজা-প্রেম পর্যায়ের গানের পাশাপাশি বৈচিত্র্য পর্যায়ের গান দিয়ে সাজানো এই পর্বটি দর্শক-শ্রোতাদের বিমোহিত করে। এই পর্বের শুরুতেই মঞ্চে আসেন সংগীতভবনের শিল্পীরা। তারা পরপর গেয়ে শোনালেন ‘লহো লহো তুলে লহো নীরব বীণাখানি’ ও ‘হেমন্তে কোন্ বসন্তেরই বাণী/ পূর্ণশশী ওই-যে দিল আনি’। তাদের পরিবেশনার পর মঞ্চে আসেন উত্তরায়ণের শিল্পীরা। তারাও গেয়ে শোনান দুটি গান- ‘সত্য মঙ্গল প্রেমময় তুমি, ধ্রুবজ্যোতি তুমি অন্ধকারে’ ও ‘প্রাণে খুশির তুফান উঠেছে/ভয়-ভাবনার বাধা টুটেছে’।

সুরতীর্থের শিল্পীর গাইলেন ‘কবে আমি বাহির হলেম তোমারি গান গেয়ে’ ও ‘কান্নাহাসির-দোল-দোলানো পৌষ-ফাগুনের পালা’। বুলবুল ললিতকলা একাডেমীর (বাফা) শিল্পীরা শোনান ‘এবার তোর মরা গাঙে বান এসেছে’ ও ‘এখন আর দেরি নয়, ধর্ গো তোরা হাতে হাতে ধর্ গো’। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রথম অধিবেশনের সমাপ্তি হয় বিশ্ববীণা শিল্পীদের কণ্ঠে সমবেত গানের মধ্য দিয়ে। তারা শোনান ‘হায় হেমন্তলক্ষ্মী, তোমার নয়ন কেন ঢাকা-’ ও ‘একি মায়া,/ লুকাও কায়া/ জীর্ণ শীতের সাজে’।

অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত কণ্ঠশিল্পী রফিকুল আলম পরপর গেয়ে শোনান ‘উত্তর বায় জানায় শাসন/ পাতলো তপের শুষ্ক আসন’ ও ‘ওই জানালার কাছে বসে আছে/ করতলে রাখি মাথা-’ শিরোনামে দুটি গান। তার আগে সংবর্ধিত বাচিকশিল্পী আশরাফুল আলম ‘আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে বিরাজ সত্যসুন্দর’-এর কয়েকটি চরণ আবৃত্তি করেন।

মাঝখানে বিরতি দিয়ে বিকালে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম দিনের দ্বিতীয় অধিবেশন। এতে অংশ নেন প্রায় অর্ধশতাধিক শিল্পী। প্রথম দিনের শিল্পীদের মধ্যে ছিলেন খন্দকার খায়রুজ্জামান কাইয়ুম, বুলা মাহমুদ, তানজিমা তমা, অনিকেত আচার্য, সাগরিকা জামালী, বিষ্ণু মণ্ডল, কনক খান, সীমা সরকার আবদুর রশীদ, রিফাত জামাল মিতু, খোকন দাস, আজিজুর রহমান তুহিন, শর্মিলা চক্রবর্তী আহমেদ শাকিল হাশমী, সাজ্জাদ হোসেন, জাফর আহমেদ, রাবিতা সাবাহ, ছন্দা রায়, নির্ঝর চৌধুরী সহ আরও অনেকে।

উৎসবের দ্বিতীয় দিন ২৬ নভেম্বর (শনিবার) একই মঞ্চে বিকাল ৫টা থেকে হবে আবৃত্তি ও সংগীতানুষ্ঠান। উৎসবের সারা দেশ থেকে প্রায় ২০০ জন শিল্পী একক ও দলীয় পরিবেশনায় অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছেন বুলবুল ইসলাম, ফাহিম হোসেন চৌধুরী, রোকাইয়া হাসিনা, অদিতি মহসিন, ড. অরূপ রতন চৌধুরী, চঞ্চল খান, লিলি ইসলাম সহ বেশ কয়েকজন প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী।

দুই দিনের অনুষ্ঠানে গানের পাশাপাশি আবৃত্তি পরিবেশনায় অংশ নেবেন বাকশিল্পী আশরাফুল আলম, জয়ন্ত রায়, বেলায়েত হেসেন, মাহমুদা আখতার ও রেজিওয়ালী লীনা।

৩৩তম (ত্রয়োত্রিংশ) উৎসবটি উৎসর্গ করা হয়েছে করোনাকালে যে শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, কবি ও সংস্কৃতজন মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়