অর্থছাড়ে বাধার মুখে প্রেসিডেন্ট বাইডেন

আগের সংবাদ

ঢাকার অবস্থানকে সম্মান জানায় ইইউ

পরের সংবাদ

মার্চের আগে আদানির বিদ্যুৎ আনছে না বাংলাদেশ

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৫, ২০২২ , ৯:০৯ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২৫, ২০২২ , ৯:০৯ পূর্বাহ্ণ

সঞ্চালন লাইনের কাজ শেষ হয়নি এখনো

ভারতের আদানি গ্রুপ ডিসেম্বরে বিদ্যুৎ সরবরাহের কথা জানালেও বাংলাদেশ আগামী মার্চ মাসের আগে বিদ্যুৎ আনতে চাচ্ছে না। একদিকে আদানির বিদ্যুৎ এখনো উৎপাদন শুরু হয়নি, অন্যদিকে বাংলাদেশ অংশে সঞ্চালন লাইনের কাজ শেষ হয়নি এখনো। তাছাড়া মার্চের আগে দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি না থাকায় আদানির বিদ্যুৎ আনার ব্যাপারে বিদ্যুৎ বিভাগের আগ্রহ কম।

জানা গেছে, ডিসেম্বরে আদানির বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আসার মতো অবস্থা এখনো তৈরি হয়নি। প্রকল্পের ২০ শতাংশ কাজ এখনো বাকি। সঞ্চালন লাইনের কাজ শেষ না হলেও প্রায় শেষের দিকে। এই অবস্থায় ডিসেম্বর মাসের মধ্যে আদানির বিদ্যুৎ আসার সম্ভাবনা কম। তাছাড়া শীত মৌসুম হওয়ায় এখন বাংলাদেশে বিদ্যুতের চাহিদা অনেক কমেছে। ব্যবহার কম হওয়ায় বিদ্যুতের ঘাটতিও কমেছে। আগামী বছরের মার্চ পর্যন্ত বিদ্যুৎ পরিস্থিতি বর্তমান সময়ের মতো স্থিতিশীল থাকবে। ফলে এই মুহূর্তে আদানির বিদ্যুৎ আনার ব্যাপারে বাংলাদেশের আগ্রহ কম। মার্চ মাসে গরম শুরু হওয়ার সময় বিদ্যুতের প্রয়োজন হবে। তখন আদানির বিদ্যুৎ আনার পরিকল্পনা বিদ্যুৎ বিভাগের রয়েছে।

অপর একটি সূত্রে জানা গেছে, এখনো আদানির বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়নি। যদিও তারা জানিয়েছে ডিসেম্বরে তারা বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে সঞ্চালন লাইন নিয়ে। সঞ্চালন লাইনের কাজ এখনো শতভাগ শেষ হয়নি। ডিসেম্বরের মধ্যে শতভাগ শেষ হওয়ার সম্ভাবনাও নেই, আরো কিছুদিন সময় লাগবে। আদানির বিদ্যুৎ ঝাড়খন্ডের ডোড্ডা থেকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর পর্যন্ত আনা হবে। সঞ্চালন লাইনের মধ্যে ভারতের অংশে ৯০ কিলোমিটার এবং বাংলাদেশের বগুড়া পর্যন্ত ১৪৫ কিলোমিটার রয়েছে। দুই ধাপে এই সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা হচ্ছে। পিজিসিবির তথ্য অনুযায়ী, ২২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সীমান্ত থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ৪০০ কিলোভোল্টের (কেভি) একটি সঞ্চালন লাইন বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ নিতে সঞ্চালন লাইন নির্মাণের কাজ এখনো চলমান রয়েছে। এই অংশের সঞ্চালন লাইনের কাজ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হওয়া সম্ভব নয়। কালিয়াকৈরে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র নির্মাণকাজ চলছে, এটা শেষ হতেও সময় লাগবে। এ কারণে ডিসেম্বরে আদানির বিদ্যুৎ আনার ব্যাপারে বিদ্যুৎ বিভাগের আগ্রহ কম। চুক্তি অনুযায়ী ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ একসঙ্গে পাচ্ছে না বাংলাদেশ। আদানি গ্রুপ ৮০০ মেগাওয়াট করে দুই দফায় এই বিদ্যুৎ বাংলাদেশে সরবরাহ করবে বলে জানা গেছে।

তবে বিদ্যুৎ বিভাগের নীতি ও গবেষণা শাখা পাওয়ার সেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ হোসেন জানিয়েছেন, গত সেপ্টম্বর মাসে ভারত থেকে আদানি গ্রুপের বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আসার কথা ছিল। কিন্তু ওই সময়ের মধ্যে আদানির পাওয়ার প্ল্যান্টের কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় বিদ্যুৎ আনা সম্ভব হয়নি। আমাদের দিকেও সঞ্চালন লাইনের কাজ চলছিল। কিন্তু গত কয়েক মাসে প্রকল্পের কাজ অনেকটাই এগিয়েছে। বলা চলে একেবারে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। কিছু কাজ এখনো বাকি থাকায় একটু দেরি হবে। আমরা আশা করছি, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সব কাজ দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে। আদানি কোম্পানিও ডিসেম্বরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবে বলে জানিয়েছে। আমরাও আমাদের সব প্রস্তুতি নিচ্ছি।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান জানান, আদানির বিদ্যুৎ আনার ব্যাপারে তাদের সঙ্গে পিজিসিবির সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পর্যন্ত আমাদের সঞ্চালন লাইন নির্মাণের কাজও শেষ। নির্ধারিত সময়ে যেন আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা যায় সেদিকে আমরা তৎপর। আমাদের যে অগ্রগতি হয়েছে তা দিয়ে যতটুকু বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে আমরা তা সরবরাহ করতে পারব।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১১ আগস্ট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সঙ্গে আদানি গ্রুপের বিদ্যুৎ সরবরাহ সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক সই হয়। এরপর ২০১৭ সালের ৫ আক্টোবর বিদ্যুৎ ক্রয় সংক্রান্ত চুক্তি হয়।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়