ইউরোপের বাজারে ৯০ শতাংশ ক্ষতি রাশিয়ার

আগের সংবাদ

ডেনমার্ক দলে চোটের হানা

পরের সংবাদ

বিশ্ব ফুটবলে এশিয়ার উত্থান

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৫, ২০২২ , ৯:২১ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২৫, ২০২২ , ৯:২৫ পূর্বাহ্ণ

বিশ্বকাপ ফুটবলে খেলতে আসা এশিয়া মহাদেশের দলগুলো কোনো আসরেই তেমন কোনো চমক দেখাতে পারেনি। তবে ২০০২ বিশ্বকাপের পর এবার কাতার বিশ্বকাপেও রীতিমতো চমক দেখাচ্ছে এশিয়ার দেশগুলো। রাশিয়া বিশ্বকাপেও চমক দেখিয়েছিল এশিয়ার দেশগুলো।

এবার এশিয়া মহাদেশ থেকে বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব খেলে মূল পর্বের টিকেট পায় ইরান, দক্ষিণ কোরিয়া, সৌদি আরব ও জাপান। আর স্বাগতিক হিসেবে কাতারের সঙ্গে ষষ্ঠ দল হিসেবে আন্তঃমহাদেশীয় প্লে অফে পেরুকে হারিয়ে এশিয়ান দল হিসেবে জায়গা নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়া।

কাতার বিশ্বকাপে এখন আলোচিত নাম এশিয়ার দুই দেশ সৌদি আরব এবং জাপান। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বড় চমক দেখিয়েছে সৌদি আরব। এরপরেই চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে হারিয়ে রীতিমতো অঘটনের জন্ম দেয় জাপান। এতেই বোঝা যাচ্ছে এশিয়ার দেশগুলো বিশ্ব ফুটবলে ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলোকে টেক্কা দিতে শুরু করেছে।

ইরান ও অস্ট্রেলিয়া হার দিয়ে কাতারে বিশ্বকাপ শুরু করলেও তাদের সামনেও রয়েছে চমক দেখানোর সুযোগ। এর আগে রাশিয়া বিশ্বকাপে বিশ্ববাসীকে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছিল জাপান। এশিয়ার প্রথম কোনো দেশ হিসেবে দক্ষিণ আমেরিকার দেশকে বিশ্বকাপের মতো আসরে হারিয়েছিল তারা। তারকানির্ভর কলম্বিয়াকে ২-১ গোলে হারানোর পর আফ্রিকান দেশ সেনেগালকেও রুখে দিয়েছিল তারা। এশিয়ার দেশ হিসেবে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছিল তারা। এছাড়া রাশিয়া বিশ্বকাপে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে হারিয়ে চমক দেখিয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়া।

২০০২ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ আয়োজন করা হয়েছিল এশিয়া মহাদেশে। সেই আসরের যৌথ আয়োজক ছিল দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান।

অনেকেই মনে করেন তখন থেকেই এশিয়ায় ফুটবলের উত্থান শুরু। সেই আসরে এশিয়ান দলগুলো নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দিয়েছিল। নজর কেড়েছে তাদের প্রাণবন্ত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল উপহার দিয়ে। সেই আসরেই তারা কাঁপিয়ে দিয়েছিল ফুটবল বিশ্বকে। বেলজিয়াম, রাশিয়া ও তিউনিশিয়ার মতো দলগুলোর সঙ্গে অপরাজিত থেকে গ্রুপ পর্ব পার করে জাপান। সাত পয়েন্ট নিয়ে শেষ ষোলোতে পা রাখে তারা। তবে প্রথম নকআউট ম্যাচেই তুরস্কের কাছে হেরে গিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শেষ হয় তাদের।

অন্যদিকে স্বাগতিক হিসেবে রূপকথার মতো বিশ্বকাপ কাটায় দক্ষিণ কোরিয়া। সেই আসরে একই গ্রুপে ছিল পর্তুগাল, যুক্তরাষ্ট্র ও পোল্যান্ড। তুলনামূলক দুর্বল দল হয়েও পর্তুগালের বিপক্ষে জয় দিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে তারা। এরপর শেষ ষোলোতে ইতালিকে হারিয়ে এবং কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনকে হারিয়ে সেমিফাইনাল পর্যন্ত উঠেছিল তারা। তবে সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় তাদের। এরপর ২০০৬ বিশ্বকাপে এশিয়ার দেশগুলো তেমন ভালো পারফরম্যান্স না করলেও অস্ট্রেলিয়া শেষ ষোলোতে খেলে। এরপর ২০১০ বিশ্বকাপে আবারো জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া নকআউটে পৌঁছায়। ২০১৪ সালে আলজেরিয়া খেলে শেষ ষোলোতে।

এশিয়ান দলগুলোর এমন কিছু খেলোয়াড় রয়েছে যারা ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোতে খেলছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার সন হিউং মিন টটেনহ্যাম হটস্পারে দারুণ ফর্মে ছিলেন।

গত আসরে মোহাম্মদ সালাহর সঙ্গে জিতেছেন প্রিমিয়ার লিগ গোল্ডেন বুট। অপরদিকে জাপান অনেক বছর ধরে ফুটবল খেলছ। তাদের অনেক খেলোয়াড় খেলছে বিভিন্ন দেশের ক্লাবগুলোতে। হারলেও তারা ফুটবলের উন্নতির চেষ্টা করে যাচ্ছে।

দ্বিতীয়বারের মতো এশিয়া মহাদেশে বিশ্বকাপ আয়োজন করেছে কাতার। তবে বিশ্বকাপের আগে বিভিন্ন ম্যাচে এশিয়ার দেশগুলো ইউরোপ কিংবা লাতিন আমেরিকার বিপক্ষে নিজেদের সক্ষমতা জানান দিয়েছিল। বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলতে যাওয়া কাতার গত বছর কনকাকাফ গোল্ড কাপের সেমিফাইনাল খেলেছিল। এছাড়া ২০১৯ কোপা আমেরিকাতে প্যারাগুয়েকে রুখে দেয় তারা। এছাড়া প্রাক বিশ্বকাপ প্রীতি ম্যাচে ৪-১ গোলে প্যারাগুয়েকে হারিয়েছিল জাপান। দক্ষিণ কোরিয়া ২-০ গোলে হারিয়েছে চিলিকে। তাদের সেই সক্ষমতা প্রমাণ করেছে এবার বিশ্বকাপের মঞ্চে। পরবর্তী বিশ্বকাপগুলোতে দেখা যাবে ইউরোপ, আমেরিকা কিংবা আফ্রিকার দলগুলোর মতো মাথা উঁচু করে বিশ্বকাপে খেলছে এশিয়া মহাদেশের দলগুলো।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়