ইসরাইলকে চাপ দিচ্ছে ইরানি হ্যাকাররা

আগের সংবাদ

গ্রাহকের গোপন তথ্য পাচার করছে কিছু সাইট!

পরের সংবাদ

২৫ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৪, ২০২২ , ৪:৫২ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২৪, ২০২২ , ৪:৫২ অপরাহ্ণ

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরের ২৫ বছর পূর্ণ হবে আগামী ২ ডিসেম্বর। কিন্ত সিকি শতাব্দী পার হলে চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি। সরকারের ভাষ্য, চুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে ৪৮টি ধারা সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হয়েছে এবং ১৫টি ধারা আংশিক বাস্তবায়িত হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরকারী অপরপক্ষ পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মতে, ৭২টির মধ্যে মাত্র ২৫টি ধারা বাস্তবায়িত হয়েছে, ১৮টি ধারা আংশিক বাস্তবায়িত হয়েছে। অবশিষ্ট ২৯টি ধারা সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে নানা দমন-নিপীড়নের পাশাপাশি অশংঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে বাড়ছে নারী নির্যাতন।

বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) রাজধানীর ডেইলি স্টার সেন্টারে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরের ২৫ বছর চুক্তির বাস্তবায়নে সরকারের উদাসীনতা: পাহাড়ি আদিবাসী ও নারীর নিরাপত্তা সংকট’ শীর্ষক আয়োজিত সেমিনারে এসব কথা উঠে আসে আলোচনায়। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২৫ বছর পূর্ণ উপলক্ষে অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট(এএলআরডি), পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশন, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, কাপেং ফাউন্ডেশন এর যৌথ উদ্যোগে এই সেমিনার আয়োজন হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশনের সদস্য ও নিজেরা করি’র সমন্বয়ক খুশী কবিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রিইবের নির্বাহী পরিচালক মেঘনা গুহঠাকুরতা ও চাকমা সার্কেল চিফের উপদেষ্টা রানী য়েন য়েন। প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, দুই যুগের বেশি সময় পার হলেও চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি। পাহাড়ে এখনো মানবাধিকারলঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। আদিবাসী নারীদের প্রতি সহিংসতা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসী নারীরা ধর্ষণ, ধর্ষণচেষ্টা, ধর্ষণের পর হত্যা, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, পাচারের জন্য বিয়ে ও অপহরণসহ নানা ধরনর নির্যাতনের শিকার।

বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্যের বরাত দিয়ে প্রবন্ধে তুলে ধরা হয়, ২০২১ সালের জানুয়ারী থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পার্বত্য আদিবাসী নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা ২৪টি ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ১১টি ধর্ষণের ঘটনা, একটি গণধর্ষণ মামলা, নয়টি ধর্ষণের চেষ্টার মামলা এবং ৩টি ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সম্পৃক্ত থাকে এবং নিরাপত্তা বাহিনী নির্যাতিতার পরিবারের ন্যায় বিচারকে বাধাগ্রস্ত করে এবং অনেক ক্ষেত্রে যারা বিচার দাবি করে তাদেরই শাস্তির আওতায় আনা হয়।

অনুষ্ঠানে আরো আলোচক ছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিজানুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক সাদেকা হালিম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আইনুন নাহার, এলআরডি এর নির্বাহী পরিচালক শামসূল হুদা ও কাপেং ফাউন্ডেশন এর নির্বাহী পরিচালক পল্লব চাকমা।

পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের অন্যতম চ্যালেঞ্জের ছিল পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি-নিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন, ২০০১। কিন্তু সেটা অকার্যকর। এ আইনটি ২০০১ সালে প্রণীত হলেও এ আইনের কিছু ধারা পার্বত্য চুক্তির সাথে সাংঘর্ষিক হওয়ায় সেসব ধারা সংশোধনের জন্য ১৫ বছর সময় লেগেছিল। বিষয়টি উল্লেখ করে মিজানুর রহমান বলেন, ২০১৬ সালে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি-বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন- ২০০১’ সংশোধিত হলেও এই আইনের বিধিমালা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফলে কমিশনের কাছে দুই দফায় জমাপড়া প্রায় ২২ সহস্রাধিক আবেদনেরও কোনো অগ্রগতি হচ্ছে না। পার্বত্য চুক্তির সিকি শতাব্দী চলে গেল। কিন্তু রাষ্ট্র কথা রাখেনি। রাঙ্গামাটি ধুসর হয়ে গেছে। যদি চুক্তি বাস্তবায়িত হতো এটি আরো লাল (সুন্দর) হয়ে যেত।

আওয়ামী লীগ সরকারে সময় ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চুক্তিটি স্বাক্ষর করেছিল। ২০০৯ সাল থেকে চৌদ্দ বছর ক্ষমতায় থাকলেও চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারের উদাসীনতার কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামে এখনো প্রত্যাশিত শান্তি ফিরে আসেনি বলে মনে করেন পল্লব চাকমা।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়