জাতীয় সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন

আগের সংবাদ

কুবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মাহি, সম্পাদক আকাশ

পরের সংবাদ

যৌতুক দাবি

স্বামী-শাশুড়ির বিরুদ্ধে স্ত্রীর মামলা

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৪, ২০২২ , ৫:১৫ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২৪, ২০২২ , ৫:১৫ অপরাহ্ণ

যৌতুককে কেন্দ্র করে নির্যাতনের অভিযোগে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে হোটেল ব্যবসায়ী স্বামী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন স্ত্রী আবিদা সুলতানা (২২)।

মামলাটি আমলে নিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সিরাজুদদৌলা কুতুবী সদর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দেন।

বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে মুঠোফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী জসীম উদ্দিন সুমন। আগামী ১৫ জানুয়ারি ওই মামলার শুনানির দিন ধার্য করা হয়।

আসামিরা হলেন- লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জস্থ শ্রমিক হোটেলের মালিক মৃত জসীম উদ্দিনের ছেলে ওমর ফারুক পুলক (২৮) ও তার মা জমিলা বেগম (৫০)। তারা চন্দ্রগঞ্জ নিউ মার্কেট সংলগ্ন পাঁচতলা ভবনের তৃতীয় তলায় একটি নিজস্ব ফ্ল্যাটে দীর্ঘদিন বসবাস করেন।

এজাহার সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৯ সালের ১৪ নভেম্বর তারিখে বেগমগঞ্জ উপজেলার উত্তর জীরতলী মহব্বতপুর গ্রামের আলী আকবরের মেয়ে আবিদা সুলতানার সাথে সাত লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে ওমর ফারুক পুলকের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন যেতে যেতেই স্বামী ওমর ফারুক পুলক মাদকাসক্ত অবস্থায় বাসায় এসে প্রতিদিন নানা অজুহাতে স্ত্রী আবিদা সুলতানাকে মারধরসহ অকথ্য ভাষায় কটূক্তি ও মানসিক নির্যাতন চালাতো। ফারহান নামে দুেই বছরের এক ছেলে আছে আবিদার। সর্বশেষ গত ৩ আগস্ট সকালে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে ওমর ফারুক পুলক আবারো আবিদার ওপর নির্যাতন শুরু চালায়। এক পর্যায়ে কোমরে থাকা প্যান্টের বেল্ট দিয়ে ও পায়ের বুট জুতা খুলে পেটায় সে। এসব ঘটনায় আহত গৃহবধূ আবিদা সুলতানাকে তার মা-বাবা উদ্ধার করে বেগমগঞ্জ উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যান।

এদিকে, মামলার বাদী, বাদীপক্ষের আইনজীবী ও তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলে জানা গেছে, মামলা দায়েরের পর তদন্তকারী কর্মকর্তা সাক্ষীদের তার কার্যালয়ে ডাকেন। সেখানে তারা সাক্ষ্য দিতে এলে আসামি ফারুকের ভাড়াটে লোকজন সাক্ষীদের নানা প্রকার হুমকি দেন।

তবে আদালতে মামলা দায়েরের আগে ভিকটিম গৃহবধূ মামলাটি চন্দ্রগঞ্জ থানায় দায়ের করতে গেছেন। কিন্তু চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশ মামলাটি না নেয়ায় নিরুপায় হয়ে আদালতে মামলাটি দায়ের করতে বাধ্য হন তিনি।

ভিকটিম আবিদা সুলতানার কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে তিনি বলেন, আমি ন্যায় বিচারের জন্য আদালতের আশ্রয় নিয়েছি। এখন যা হওয়ার আদালতের মাধ্যমে হবে।

অভিযুক্ত আসামি ওমর ফারুক পুলকের কাছে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আমার পারিবারিক বিষয়। সাংবাদিকদের বিষয় নয়। আমি পারিবারিকভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি।

মামলার তদন্তকারী জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সদর) সুলতানা জোবেদা খানম মুঠোফোনে বলেন, আমি বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার বাদী ও স্বাক্ষীদের নিয়ে বসেছি। আসামিপক্ষ সমঝোতার জন্য চাপসৃষ্টি করছে। তবে নির্ধারিত তারিখে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করবো।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়