২৩ জেলায় নয়া জেলা প্রশাসক

আগের সংবাদ

প্রযুক্তির অপব্যবহারে সামাজিক অবক্ষয়

পরের সংবাদ

রেমিট্যান্স বাড়াতে হুন্ডি বন্ধ করতে হবে

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৪, ২০২২ , ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২৪, ২০২২ , ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ

হুন্ডি হচ্ছে অর্থ পাচারের একটি ভয়ংকর রূপ ও মাধ্যম। অভিযোগ আছে, হুন্ডি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রভাবশালীদের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সম্পর্ক রয়েছে। এই অভিযোগ যে অমূলক নয় তা স্পষ্ট হয় হুন্ডি ব্যবসায়ীদের প্রভাব বিস্তারের প্রবণতা থেকে। মুহূর্তের মধ্যে তারা বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে অবৈধভাবে অর্থ স্থানান্তরের ক্ষমতা রাখে। হুন্ডির মাধ্যমে অসাধু ব্যবসায়ীরা বিদেশে অর্থ পাচার করে বাড়ি বানাচ্ছেন, জমি কিনছেন, কারখানা গড়ছেন। বিদেশে অর্থ পাচার হলে দেশের অর্থনীতির ওপর যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে তাতে কারো কোনো সন্দেহ নেই। কোনোভাবেই অর্থ পাচার রোধ করা যাচ্ছে না, তেমনি পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার কোনো প্রচেষ্টাও আমরা দেখছি না। এ পর্যন্ত অর্থ পাচার রোধে যত কথা হয়েছে, সে অনুপাতে কি কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে? হয়নি। অর্থ পাচার রোধ কঠিন বিষয় নয়। সরকার ও দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সব বিভাগেরই যদি সমতৎপরতা থাকে এটি রোধ করা সম্ভব। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিশ্বজুড়ে চলছে ডলার সংকট। এই পরিস্থিতির শিকার হয়ে যখন দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমছে আর ব্যাংক ও খোলাবাজারেও চলছে ডলারের সংকট; তখন জানা গেল, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ব্যবহার করে গত এক বছরে ৭৫ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ ৭ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার পাচার করেছেন হুন্ডি ব্যবসায়ীরা। সর্বশেষ চলতি বছরের এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রতিটি চক্র প্রায় ৩ কোটি টাকা হুন্ডি করেছে। শুধু তাই নয়, এমএফএসের দুই হাজার এজেন্ট সিমের মাধ্যমে প্রতি মাসে ২০০ থেকে ৩০০ কোটি টাকার লেনদেন করেছে বলে তথ্য পেয়েছে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম এবং সাইবার ক্রাইম ইউনিট। গত সোমবার রাতে কুমিল্লা ও ঢাকায় অভিযান চালিয়ে এমন একটি চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য পেয়েছে সিআইডি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গেøাবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির (জিএফআই) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আড়ালে বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর অর্থ পাচারের পরিমাণ বাড়ছে। বিদেশে পাচার হওয়া টাকা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে আলাপ-আলোচনার কথাও শোনা যায় জোরেশোরে। কিন্তু কার্যত সেই উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। মাত্র একবার ২০০৭ সালে আমরা একটি ঘটনায় মাত্র ২১ কোটি টাকা ফেরত আনার কথা জেনেছি। এর পর এ ধরনের উদ্যোগ আর নেয়া হয়নি বা হলেও তার সফলতার খবর আমরা জানতে পারিনি। আমরা ২০২৬ সালে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হব এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার আশা করছি। দেশে যে হারে দুর্নীতির বিস্তার ঘটেছে এবং এর মাধ্যমে অর্থ পাচার হয়ে যাচ্ছে, তাতে এসব লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে। বিদেশ থেকে দেশে কিংবা দেশ থেকে বিদেশে বৈধ পথে টাকা স্থানান্তরের চ্যানেলগুলো সহজ করা এবং ভোক্তাবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে পারা হুন্ডি বন্ধের অন্যতম পূর্বশর্ত। কিছু পক্ষ জেনে অর্থ পাচার করে, অন্যরা বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকের নানা পর্যায়ের বাধায় পড়ে দরকারে হুন্ডি করে। তাই ব্যাংকিং খাত কীভাবে প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে আরো সহজ সার্ভিস দিতে পারে, তা নিয়ে ভাবতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়