ইইউ সীমান্তে পুতিনের নতুন মেরুকরণ

আগের সংবাদ

ইউক্রেনে রুশ হামলায় বিচ্ছিন্ন ৩ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

পরের সংবাদ

যশোরে জনসভা আজ

প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি আর প্রত্যাশা দক্ষিণাঞ্চলবাসীর

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৪, ২০২২ , ৯:৪০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২৪, ২০২২ , ৯:৫০ পূর্বাহ্ণ

বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত যশোরসহ দক্ষিণাঞ্চলবাসী। আজ বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় যশোর স্টেডিয়ামে নৌকা আকৃতিতে তৈরি বিশাল মঞ্চে স্মরণকালের বৃহৎ এ জনসভায় ভাষণ দেবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এ ভাষণ প্রচারের লক্ষ্যে কলরেডির ব্যবস্থাপনায় শহরজুড়ে তিন শতাধিক মাইক প্রতিস্থাপনসহ ১০টি বড় এলইডি স্ক্রিন স্থাপন করা হয়েছে। এরই মধ্যে যশোর শহর ও শহরতলীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা জোরদারসহ চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় রয়েছে।

আজকের জনসভাকে সফল করতে বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুষ্পুত্র শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হকের সার্বক্ষণিক পরামর্শ নির্দেশনায় যশোর জেলা আওয়ামী লীগ নেতারা নিরালসভাবে কাজ করেছেন। এছাড়া যুবলীগ ও ছাত্রলীগ আলাদাভাবে প্রস্তুতি সভাও করেছে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে গোটা শহরকে সাজানো হয়েছে নবরুপে। পৌরসভাসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের ব্যবস্থাপনায় প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের রাস্তা সংস্কার, সড়কবাতি লাগানো, সরকারি বেসরকারি ভবনে নতুন রং করাসহ যাবতীয় কাজও সম্পন্ন হয়েছে। শহরের দড়াটানা মোড়,

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও গরীবশাহ সড়কসহ বিভিন্ন সড়ক ও মোড়ে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয়প্রধানকে স্বাগত জানিয়ে ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার টাঙিয়েছেন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতারা। তবে নিরাপত্তা বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের পথে কোনো তোরণ নির্মাণ করা হয়নি। অন্য পথে করা হয়েছে কয়েকশ তোরণ। স্টেডিয়ামের উত্তর পাশের জীর্ণ গ্যালারি ভেঙে ডা. আবদুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজ মাঠ একসঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। জনসভার অদূরে বসানো হয়েছে অস্থায়ী টয়লেট। এছাড়াও থাকছে খাবার পানির ব্যবস্থা। গোটা ময়দানসহ সার্কিট হাউজের সামনে, জিলা স্কুল মাঠ, মুজিব সড়ক, টাউনহল ময়দান, দড়াটানা, বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল, আলী হোসেন মনি সড়ক ও চুয়াড়াঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মাইক দেয়া হয়েছে।

দাবি আর প্রত্যাশা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখপানে চেয়ে রয়েছেন যশোরবাসসহ পুরো দক্ষিণাঞ্চলবাসী। তাদের দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য যশোর পৌরসভাকে সিটি করপোরেশন ঘোষণা, যশোর মেডিকেল কলেজ ৫শ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল বাস্তবায়ন, ভবদহ অঞ্চলের সমস্যার স্থায়ী সমাধান, সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয় ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা।

এদিকে, জনসভা ঘিরে চাঙ্গা হয়েছে আওয়ামী লীগের তৃণমূল। আওয়ামী লীগের আটটি উপকমিটির নেতারা কাজ করেছেন। ইতোমধ্যে জনসভা সফল করতে জেলার ৮ উপজেলা, ৮ পৌরসভা ও ৯৩ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা গণসংযোগ করেছেন। পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতেও উৎসবের কমতি নেই। এরই মধ্যে যশোর শহর ও শহরতলীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা জোরদারসহ চার স্তরের নিরাপত্তাবলয় রয়েছে।

সূত্র জানায়, জনসভা সফল করতে এরই মধ্যে বিশাল এই গণজমায়েতের জন্য বাস, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস মিলিয়ে ৫ হাজার যানবাহন আসা ও পার্কিংয়ের জন্য স্থান নির্ধারণ করেছে ট্রাফিক বিভাগ। ৪ হাজার গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য ১০টি স্পট নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে মন্ত্রী-এমপিদের জন্য চারটি স্পট, অন্য ভিআইপিদের জন্য একটি স্পট ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের বাস, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস পার্কিংয়ের জন্য আরো পাঁচটি পার্কিং এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হুমায়ূন কবীর কবু বলেন, ১৯৭২ সালের ২৬ ডিসেম্বর যশোর স্টেডিয়ামের জনসভায় ভাষণ দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেই জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। দীর্ঘ ৫০ পর তারই জ্যেষ্ঠ কন্যা জননেত্রী মানবতার মা আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নৌকার আদলে তৈরি মঞ্চে দাঁড়িয়ে ভাষণ দেবেন। জনসভায় যশোরের আটটি উপজেলাসহ খুলনা বিভাগের ১০ জেলা থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন। এই ঐতিহাসিক জনসভায় ৮ লাখ মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছি আমরা। জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হবে।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের দল। জনগণের সঙ্গেই থাকতে চায়। সে কারণেই দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনসভায় নামছেন। এরই মধ্যে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে বিশাল সমাবেশ করে প্রমাণ করেছি, জনগণ আওয়ামী লীগের সঙ্গেই আছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিটি সমাবেশ জনসমুদ্রে রূপ পাবে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, আজ সকাল সাড়ে ৯টায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমি, যশোরে অনুষ্ঠেয় রাষ্ট্রপতির কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর বিকাল ৩টায় যশোর স্টেডিয়ামে যশোর জেলা আওয়ামী লীগের জনসভায় বক্তব্য দেবেন তিনি। সর্বশেষ পাঁচ বছর আগে ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর যশোর ঈদগাহ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা।

এমকে

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়