প্রযুক্তির অপব্যবহারে সামাজিক অবক্ষয়

আগের সংবাদ

দেশীয় টিভি চ্যানেলের জিম্মি দশা কাটাতে হবে

পরের সংবাদ

কাগজের টাকা থেকে ইলেকট্রনিক মানি

মেহেদী হাসান নাঈম

শিক্ষার্থী, সরকারি আজিজুল হক কলেজ

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৪, ২০২২ , ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২৪, ২০২২ , ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ

টাকা, অর্থ কিংবা মুদ্রা যে নামেই ডাকেন এর প্রয়োজন আমাদের প্রত্যেকের জীবনে অনিস্বীকার্য। টাকা বললে শুরুতেই আমাদের মাথায় যে ধারণাটি আসে তা হলো কাগজের টাকা বা ধাতব মুদ্রা। তবে আধুনিকায়নের যুগে প্রযুক্তিনির্ভরতা যেমন বেড়েছে, তেমনি বৃদ্ধি পেয়েছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রযুক্তির রাজত্ব। গত কয়েক দশকে অর্থনীতিতেও দারুণভাবে প্রভাব বিস্তার করেছে প্রযুক্তি। ফলে কাগজের টাকা রূপ নিয়েছে ইলেকট্রনিক মানিতে। আগে যেমন কেনাকাটায় ব্যবহার হতো কাগজের নোট কিংবা ধাতব মুদ্রা, এখন সেই কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে পিন বা পাসওয়ার্ডের মতো বিষয়গুলো। টাকা এখন আর বহন করতে হয় না, চোখেও দেখার প্রয়োজন পড়ে না। নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে শুধু ব্যালেন্স দেখা যায়।
একসময় বিনিময় মাধ্যম হিসেবে কালক্রমে প্রচলন হয় দুষ্প্রাপ্য শামুক, ঝিনুক ও বিভিন্ন ধরনের কড়ি। তারও অনেক পর আসে সোনা ও রুপার মুদ্রা। মানুষের কাছে যখন অনেক সোনা জমা হতো, নিরাপত্তার জন্য তারা ওই সময়ের স্বর্ণকার ও মহাজনদের কাছে জমা রাখত। প্রমাণ হিসেবে পেত কাগজের রসিদ। স্থানান্তর ও বহন জনিত কারণে মানুষ ওই রসিদ ব্যবহার শুরু করে। যার বর্ধিত রূপ হচ্ছে কাগজি মুদ্রা। মূলত সুইডেনের স্টকহোম ব্যাংক প্রথম কাগজি মুদ্রাকে স্বীকৃতি প্রদান করে। তারপর থেকে সাধারণ বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে সারা বিশ্বে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। তার কারণ সহজে বহনযোগ্য, লেনদেনের সহজ মাধ্যম ও মূল্য মজুতযোগ্য। কাগজের মুদ্রা সর্বপ্রথম তৈরি করা হয় ৭০০ থেকে ৮০০ খ্রিস্টাব্দে চীনে। তবে এই মুদ্রা বেশি দিন লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে বিরাজ করতে পারেনি। ১৪৫৫ সালের পরেই বন্ধ হয়ে যায় এই টাকার ব্যবহার। ১৫ শতকের মাঝামাঝি সময়ে চীন আবার তার ধাতব মুদ্রায় ফিরে যায় এবং পরবর্তীতে আবার জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এই মুদ্রা। হাজার বছরের বিবর্তনের ফলে যে কাগজের মুদ্রা আমরা ব্যবহার করছি তার রূপগত অনেকটা পরির্বতন এসেছে। আধুনিকায়নের এই যুগে সারা বিশ্বে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ লেনদেন হয় অনলাইন প্রক্রিয়ায়। যেখানে শুধু কয়েকটি অঙ্ক স্থানান্তরের মাধ্যমে লেনদেন সম্ভব। ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে সব প্রকার লেনদেন সম্পন্ন করা যায়। উন্নত বিশ্বে পরিসংখ্যান থেকে জানা যায় বেশি ভাগ মানুষ অনলাইন লেনদেন করতে চায়। তার যথেষ্ট কারণও আছে। একজন সপ্তহে প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা লেনদেন করতে পারে বর্ধিত এই মাধ্যমটিতে। যে কোনো জায়গায় বসে লেনদেন সম্পন্ন করা যায়। সম্প্রতি ইউএসএর একটি গবেষণায় দেখা যায় ৭৫ শতাংশ লোক অনলাইন লেনদেন করতে আগ্রহী। অপরদিকে ইউএসএ আইডি কর্তৃক ২০১৫ সালে প্রকাশিত অন্য এক গবেষণায় দেখা যায় অনলাইন লেনদেনের সংখ্যা ২০১৩ সালে ১০ মিলিয়ন থেকে ৭৭ মিলিয়নে পৌঁছায়। যেখানে ২ বছরে লেনদেন বৃদ্ধি পায় ৬৭ মিলিয়ন। এমন অবাক করা তথ্য থেকে এটাই পরিষ্কার বুঝা যায় কাগজি মুদ্রার ব্যবহার আগামী কয়েক বছরের মধ্য নাটকীয়ভাবে হ্রাস পাবে।
একদিকে যেমন গ্রাহকের আগ্রহ বাড়ছে, অন্যদিকে অনলাইন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও অনেকটা আগুনে ঘি ঢালছে। অধিক গ্রাহক ও মুনাফার আশায় তারা তাদের বিনিয়োগ বৃদ্ধি করছে। যা মানুষকে কাগজি মুদ্রার ব্যবহার থেকে মুখ ফিরিয়ে অনলাইনে লেনদেন করতে আহ্বান করছে। সবকিছু ছাপিয়ে আধুনিক এই মাধ্যমে বড় রকমের হুমকিও যে আছে তা ভুলে গেলে চলবে না। হ্যাক বা সাইবার ঝুঁকি লুকিয়ে আছে। এ বিষয়ে আমাদের সচেতন হতে হবে। হতে হবে আরো দক্ষ। দেশের প্রথম সারির জাতীয় গণমাধ্যম সময় টেলিভিশনে দেশসেরা আইটি এক্সপার্ট থাকার পরও যদি ইউটিউব চ্যানেল হ্যাক হওয়ার ঘটনা আমাদের নতুনভাবে সতর্কতার বার্তা দেয়। প্রযুক্তির অগ্রযাত্রায় বিনিময় মাধ্যমের যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে তা নিঃসন্দেহে গ্রাহকদের জন্য শুভকর। তবে দরকার সচেতনতা আর সরকারের কঠোর নজরদারি।

মেহেদী হাসান নাঈম : শিক্ষার্থী, সরকারি আজিজুল হক কলেজ, বগুড়া।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়