কারামুক্ত ঝুমন দাস, চলবেন আদালতের আদেশ মেনে

আগের সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি আর প্রত্যাশা দক্ষিণাঞ্চলবাসীর

পরের সংবাদ

ইইউ সীমান্তে পুতিনের নতুন মেরুকরণ

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৪, ২০২২ , ৯:৩২ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২৪, ২০২২ , ৯:৪৬ পূর্বাহ্ণ

ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) বিভিন্ন দেশে ইউক্রেনের সেনারা প্রশিক্ষণ নিচ্ছে যুদ্ধের শুরু থেকেই। আর এ কারণেই রাশিয়া বার বার অভিযোগ করে আসছে যে, পশ্চিমা সেনারা ইউক্রেনের নামে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। তবে রাশিয়ার অনুরোধ ছাড়াই হাঙ্গেরি এবং অস্ট্রিয়া এ প্রশিক্ষণ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। আর সর্বশেষ এ তালিকায় যুক্ত হয়েছে ইউভুক্ত দেশ ক্রোয়েশিয়া।

বার্তাসংস্থা ইউক্রেন ফর্মের খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোরান মিলানোভিচ অস্বীকৃতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ইইউর সদস্য দেশ হিসেবে ক্রোয়েশিয়ার জন্য ইউক্রেনের সেনাদের সামরিক প্রশিক্ষণে অংশ নেয়া মোটেই লাভজনক নয় এবং এটি ক্রোয়েশিয়ার জনগণ চায় না। তিনি যোগ করেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায়ও অংশ নিতে চায় না দেশটি।

পশ্চিমা চাপ প্রতিরোধে রাশিয়া-কিউবা ঐক্যবদ্ধ : রাশিয়া এবং কিউবার রাষ্ট্রপতিরা গতকাল এক বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বাড়ানোর পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং কিউবার মিগুয়েল ডিয়াজ-ক্যানেল মস্কোতে আলোচনা করেছেন এবং ফিদেল কাস্ত্রোর একটি স্মৃতিস্তম্ভ উন্মোচন করেছেন। পুতিন ক্রেমলিনে তাদের বৈঠকে কিউবার সার্বভৌমত্বের প্রতি মস্কোর সমর্থন তুলে ধরেন। দিয়াজ-ক্যানেল বলেন, হাভানা রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞার নিন্দা করে যাবে।

সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেট ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ভিক্টর খেইফেটস সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, কিউবা নিষেধাজ্ঞাসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে রাশিয়াকে অবশ্যই সমর্থন করবে কারণ হাভানা ১৯৬০ সাল থেকে মার্কিন অবরোধের মধ্যে রয়েছে। এছাড়াও, কিউবা রাশিয়ার মির পেমেন্ট সিস্টেমে যোগ দেয়ার কথাও বিবেচনা করছে কারণ কিউবার ব্যাংকগুলো নিষেধাজ্ঞাকে ভয় পায় না।

রাশিয়াকে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক বলছে ইইউ : ইউরোপীয় পার্লামেন্ট গতকাল রাশিয়াকে সন্ত্রাসবাদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষক হিসেবে মনোনীত করার একটি প্রস্তাব এনেছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টে আলোচনা করা রাশিয়া-সম্পর্কিত সব প্রস্তাবের মধ্যে এটিই সবচেয়ে কঠিন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি গ্রহণ করা ইইউ এবং মস্কোর মধ্যে উত্তেজনাকে আরো বাড়িয়ে তুলতে পারে।

রুশ জ্বালানি কেনার জন্য ছুটছে দেশগুলো : ইউরোপীয় দেশগুলো নিষেধাজ্ঞার আগেই রাশিয়ার ডিজেল কেনার জন্য দৌড় শুরু করেছে। সা¤প্রতিক বছরগুলোয় অনেক তেল শোধনাগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং মজুত দ্রুত ফুরিয়ে

যাওয়ায় ইউরোপ যথেষ্ট পরিমাণ ডিজেল উৎপাদন করে না। আগামী ফেব্রুয়ারিতে, ইইউ ডিজেলসহ প্রায় সব রুশ জ¦ালানি পণ্যের সামুদ্রিক পরিবহন নিষিদ্ধ করবে। এই ডিসেম্বরেই রাশিয়ার জ্বালানি তেল আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। সুতরাং পরিস্থিতি বিবেচনা করে, ইউরোপীয়রা ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য রুশ ডিজেল কিনতে শুরু করেছে।

সিএমএস গ্রুপ অব কোম্পানির আর্থিক বিশ্লেষক ভ্লাদিমির সাগালায়েভ বলেছেন, ডিজেল এবং অন্যান্য জ্বালানি তেলের মার্কিন বাণিজ্যিক মজুত বর্তমানে মাত্র ১০৬ মিলিয়ন ব্যারেল। যা অনেক কম এবং শীতকাল আসার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে।

সার্বিয়া এবং কসোভো ইস্যুতে সমঝোতা : মস্কোর নেতৃত্বাধীন ব্লকের প্রধান সংস্থা যা যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংস্থা (সিএসটিও) নামে পরিচিত। আর্মেনিয়ার রাজধানী ইয়ারেভানে এই সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে গতকাল পৌঁছেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন। শীর্ষ সম্মেলনে আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান, বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো, কিরগিজ প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভ এবং তাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রাখমন উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে। কাজাখ নেতা কাসিম-জোমার্ট টোকায়েভও উপস্থিত থাকবেন যিনি ২০ নভেম্বরের নির্বাচনে ভূমিধস জয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। তবে তার শপথ হবে ২৬ নভেম্বর। পশ্চিমা বিরোধী জোটে কসভো ও সার্বিয়া ইস্যুতে রাশিয়া একটি সমঝোতায় পৌঁছতে পারে।

আর্মেনিয়াকে সাহায্যকরণ : সিএসটিও সচিবালয় এর আগে বলেছে, রাষ্ট্রপ্রধানরা আজারবাইজানের সঙ্গে সীমান্তে সা¤প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে আর্মেনিয়াকে সহায়তা করার জন্য বিশেষ মনোযোগ দেবেন। আর্মেনিয়া আশা করে আছে যে বুধবারের এই বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা আন্তঃসীমান্তে আজারবাইজানের কর্মকাণ্ডের একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক মূল্যায়ন নিয়ে আসবে এবং দেশের আঞ্চলিক অখণ্ডতা পুনরুদ্ধারের একটি রোডম্যাপ গ্রহণ করবে।

এমকে

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়