লস এন্ড ড্যামেজ ফান্ড কি হবে?

আগের সংবাদ

বিদ্যুতের দাম সহনীয় রাখতে সরকারকে ভাবতে হবে

পরের সংবাদ

ডিসেম্বর নিয়ে ভাবনা-দুর্ভাবনা

বিভুরঞ্জন সরকার

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৩, ২০২২ , ৮:৩৭ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২৩, ২০২২ , ৮:৩৭ পূর্বাহ্ণ

১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির সমাবেশকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। বিএনপি ১০টি বিভাগীয় গণসমাবেশের যে কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল, তার সর্বশেষটি হওয়ার কথা ঢাকায় আগামী ১০ ডিসেম্বর। বিএনপির ঢাকার সমাবেশ কিংবা ১০ ডিসেম্বরের ওপর আওয়ামী লীগ বা সরকার কি অতিরিক্ত গুরুত্ব আরোপ করেছে? যদি করে থাকে তাহলে কি সেটা একেবারেই অকারণ? আওয়ামী লীগ যে অকারণে উত্তেজিত হয়নি, তা বিএনপির তিন নেতার তিন বক্তব্য থেকে বোঝা যায়। প্রথমেই উল্লেখ করা যায় আমানউল্লাহ আমানের বক্তব্য। আমানকে এক সময় ‘খালেদা জিয়ার কামান’ বলে সেøাগান দিত ছাত্রদল। তাই আমানের বক্তব্যে গুরুত্ব না দিয়ে পারা যায় না। ৮ অক্টোবর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান বলেছিলেন, ‘আগামী ১০ ডিসেম্বরের পরে দেশ চলবে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের কথায়।’
৯ অক্টোবর দলের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী ল²ীপুরে এক সমাবেশে বলেন, ‘শিগগির তারেক রহমান দেশে ফিরে আসবেন।’ ১০ অক্টোবর দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, “১০ ডিসেম্বর ঢাকায় সমাবেশ হবে ‘আটলান্টিক মহাসাগরের’ মতো। এই সমাবেশে খালেদা জিয়া যাবেন।” পরপর তিন দিন বিএনপির তিন নেতার এসব বক্তব্য থেকে যে কারো মনে এই ধারণা হওয়াই স্বাভাবিক যে ১০ ডিসেম্বরকে ঘিরে বিএনপির বড় ধরনের কোনো পরিকল্পনা রয়েছে। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান দুজনেই সাজাপ্রাপ্ত আসামি। একজন সরকারের বদান্যতায় জেল থেকে মুক্তি পেয়ে বাসায় আছেন। অন্যজন লন্ডনে ‘পলাতক’ আছেন। তারা কীভাবে ১০ ডিসেম্বর সমাবেশে হাজির হবেন? তাদের কথায় কীভাবে ১০ ডিসেম্বরের পর থেকে দেশ চলবে? তারেক রহমান দেশে ফিরলে তো আইন অনুযায়ী এয়ারপোর্ট থেকেই কারাগারে যাওয়ার কথা। আর খালেদা জিয়া কি কারাগারের বাইরে থাকার শর্ত ভঙ্গ করবেন? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবশ্য বলেছেন, বিএনপি বেশি বাড়াবাড়ি করলে খালেদা জিয়াকে আবার জেলেই যেতে হবে। বিএনপি নেতাদের হুমকি-ধমকির জবাবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও কড়া জবাব দেয়া হয়। বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে বিএনপিকে রাজপথেই মোকাবিলা করা হবে বলে আওয়ামী লীগ বলেছে। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘খেলা হবে।’ সব মিলিয়ে ১০ ডিসেম্বর নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে তুমুল উত্তেজনা। পানি যখন অনেক দূর গড়িয়েছে, তখন শোনা যাচ্ছে, বিএনপির ওই তিন নেতার বক্তব্য তাদের নিজস্ব, এগুলো দলের বক্তব্য নয়। বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা নাকি এমন বক্তব্যে বিব্রত এবং ওই তিন নেতাকে দলের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ একটি পত্রিকাকে বলেছেন, ‘আমরা ১০টি বিভাগে গণসমাবেশ করছি। ঢাকায় অন্য বিভাগের মতো সমাবেশ হবে। এটা যেহেতু রাজধানী, সে জন্য আওয়াজ একটু বেশি হয়েছে, এই আর কি। আমরা কখনো বলিনি যে সারাদেশ থেকে লোক আনব। এখন সরকার নিজে নিজে ভয় পেলে আমরা কী করব।’
বিএনপির ঢাকা সমাবেশ বা ১০ ডিসেম্বর ‘ডেডলাইন’ বানানো নিয়ে সরকার পক্ষ কঠোর মনোভাব দেখাচ্ছে বলে বিএনপি এখন কিছুটা সুর নরম করলেও সরকার ভয় পেয়েছে বলে যেসব কথা বলছে, তাতে মনে হওয়াই স্বাভাবিক যে ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বড় কিছু হওয়ার প্রস্তুতিই বিএনপি নিয়েছে। কোনো কোনো গণমাধ্যমে এমন খবর ছাপা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আন্দোলনের নামে ডিসেম্বরে দেশে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করবে। শুধু তাই নয়, বিএনপি মনে করে, পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন না হলে সরকার বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে। বিএনপি কোনো মহল থেকে কোনো বার্তা পেয়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনের পরিকল্পনা করছে কি না, সেটা নিশ্চয়ই সরকারের জন্য চিন্তার বিষয়।
সরকার পরিবর্তনের সাংবিধানিক পথ হলো নির্বাচন। অথচ বিএনপি বলছে, বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে তারা অংশ নেবে না। তাহলে সরকার পতনের জন্য তাদের বিশেষ কোনো পরিকল্পনা থাকারই কথা। কী সেই পরিকল্পনা? ব্যাপক গণআন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন হওয়া দেশের বর্তমান বাস্তবতায় প্রায় অসম্ভব। দেশের মানুষের সামনে আওয়ামী লীগ তথা শেখ হাসিনার চেয়ে ভালো কোনো বিকল্প এখনো নেই। তাই কোনো কোনো বিষয়ে ক্ষোভ-অসন্তোষ কিছু থাকলেও আন্দোলনে যাওয়ার জন্য মানুষ প্রস্তুত বলে মনে হয় না। বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশগুলোতে জনসমাগম বেশি হয়েছে বলেই বিএনপিকে ক্ষমতায় বসাতে মানুষ উদগ্রীব- এমন ভাবার কোনো কারণ নেই।
ভারতের সঙ্গে বর্তমান সরকারের সম্পর্ক শীতল যাচ্ছে বলে বিএনপির কেউ কেউ প্রচার করলেও এই ধারণা কতটা সত্য তা নিয়ে সংশয় আছে। কোনো কোনো বিষয়ে হয়তো সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছুটা অস্বস্তি আছে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে ভারত বিএনপি-জামায়াতের ওপর আস্থা রাখছে। সম্প্রতি ভারতের আসাম রাজ্যের বিধায়কদের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করেছে। এই প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পাইপলাইনের মাধ্যমে ২০২৩ সাল থেকে ভারত থেকে জ¦ালানি তেল আমদানি শুরু হবে। এজন্য ১৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন (আইবিএফপিএল) প্রকল্পের অধীনে পাইপলাইন তৈরি নির্মাণ করা হয়েছে, যা দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে তেল পণ্য রপ্তানি করা হবে। করোনাকালে বন্ধ হয়ে যাওয়া দুই দেশের সীমান্ত লাইনের বিভিন্ন অংশে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বর্ডার হাটগুলো আবার চালু হবে। প্রধানমন্ত্রী এই সফরের জন্য প্রতিনিধি দলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ সব সময়ই প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্কের উন্নতি চায়। ভারতের সঙ্গে ছিটমহল বিনিময়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই প্রতিবেশী দেশ আলোচনার মাধ্যমে অনেক বিরোধের সমাধান করেছে। আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, প্রতিবেশী নেপাল, ভুটান এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসাম ও ত্রিপুরা পারস্পরিক সুবিধার জন্য চট্টগ্রাম বিমান ও সমুদ্রবন্দর এবং সৈয়দপুর বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারে। শেখ হাসিনা ১৯৬৫ সালের যুদ্ধের সময় বন্ধ হয়ে যাওয়া কানেক্টিভিটি রুটের কথা উল্লেখ করে বলেন, রুটগুলো পর্যায়ক্রমে চালু করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা ও উদ্বাস্তুদের আশ্রয় দেয়ার জন্য ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য এবং পশ্চিমবঙ্গের অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। আসামের সঙ্গেও করিমগঞ্জ হয়ে রেল যোগাযোগ শুরু হবে।
অন্যদিকে আসাম বিধানসভার স্পিকার বিশ্বজিৎ দৈমারি বলেছেন, বাংলাদেশ সফরে তাদের খুব ভালো অভিজ্ঞতা হয়েছে এবং প্রতিবেশী দেশ থেকে সহযোগিতার মাধ্যমে আসামের জনগণ উপকৃত হবে। আসাম বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে কৃষি খাতে সহযোগিতা চায়। কারণ এ খাতে বাংলাদেশের ব্যাপক অভিজ্ঞতা রয়েছে। তার মতে, বাংলাদেশ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ায় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এখন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব উন্নয়নের প্রশংসা করে প্রতিনিধি দল। এই খবর পড়ে মনে হয় না, দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে বড় ধরনের কোনো সমস্যা আছে। তবে সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সরকার ডিসেম্বর মাসে বিএনপির কর্মসূচির কারণে চোখ-কান খোলা রাখার নীতি নিয়ে অগ্রসর হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় যে পদক্ষেপগুলো নেয়া হতে পারে সেগুলো হলো- সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দায়িত্ব পালনকালে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করা, যাতে তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও আন্দোলনের ইস্যু তৈরির সুযোগ না পায়। এছাড়া বিএনপি ও জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের গতিবিধি ও যাবতীয় কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে রাখাসহ নজরদারি আরো বাড়ানো। কর্মসূচি পালনকালে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ দেখা গেলে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে। বিএনপি জোটের সঙ্গে যেন বাম ও ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো যুগপৎ আন্দোলনের সুযোগ না পায় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। যেসব এলাকায় জামায়াত-শিবির অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী সেসব এলাকায় তাদের আবাসস্থল চিহ্নিত করে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। বিএনপি-জামায়াতের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অগ্রিম তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সমন্বিত নজরদারি বাড়াতে হবে।
গোয়ান্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে : বর্তমান সরকার টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকাকালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটটি জনসম্পৃক্ত কোনো ইস্যুকে ঘিরে সরকারবিরোধী আন্দোলন জোরদার করতে পারেনি। সম্প্রতি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে জনমনে অসস্তুষ্টি ও ক্ষোভ লক্ষ করা যাচ্ছে। এই ইস্যুকে পুঁজি করে বিএনপি ধারাবাহিক কর্মসূচির নামে নেতাকর্মীদের মাঠে নামিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার মাধ্যমে দাবি আদায়ে তৎপর। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে বিএনপি কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং অস্ট্রেলিয়াসহ বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন দলটির শীর্ষ নেতারা। গত একাদশ সংসদ নির্বাচন যেভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর নজরদারির কারণে আগামী নির্বাচন সেভাবে অনুষ্ঠিত না হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে বিএনপি মনে করে।
রাজনীতির মাঠে বিএনপি সরব হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীও নেতাকর্মীদের মাঠে নামাচ্ছে। আগামীতে বিএনপি ঘোষিত কর্মসূচিতে জামায়াতসহ অন্য শরিক দলের সদস্যরা ব্যাপক জনসমাবেশ ঘটাবে। এর মাধ্যমে দেশে বিশৃঙ্খলা ঘটিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা চালাবে। বিভিন্ন কর্মসূচিতে বিএনপির উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত হচ্ছে। তাদের মধ্যে চাঙ্গা মনোভাব দেখা যাচ্ছে। প্রায়ই তারা মারমুখী আচরণ করছে। আগামীতে তাদের আগ্রাসী মনোভাব আরো বাড়বে। দলটি চূড়ান্ত আন্দোলনের লক্ষ্যে নিজেদের ঐক্য সুদৃঢ় করার পাশাপাশি অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করছে। মানবাধিকার ইস্যুকে সরকারের বিরুদ্ধে কাজে লাগানোর কৌশল গ্রহণ করছে। পাশাপাশি সরকারকে চাপে রাখতে সুশীল সমাজ প্রতিনিধি ও বিদেশি দূতাবাসগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করছে।
সম্ভবত এসব কারণেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ঢাকায় বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের বক্তব্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেছেন, ‘বিদেশিদের মনে রাখা উচিত, বাংলাদেশ কোনো পরাধীন দেশ বা কলোনি নয়।’ বিএনপি যেভাবে ভাবছে বা ছক কষছে, সেভাবে ডিসেম্বরের রাজনীতি না-ও অগ্রসর হতে পারে। ডিসেম্বরকে বলা হয় বাঙালির বিজয়ের মাস। বিএনপি ও তার রাজনৈতিক মিত্ররা কি নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের গৌরবের অংশীদার বলে মনে করে? মনে হয় না। তাই তাদের জন্য ডিসেম্বর দুর্ভাবনার কারণও হয়ে উঠতে পারে।

বিভুরঞ্জন সরকার : জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়