বিএনপির সমাবেশে বিপুল ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন

আগের সংবাদ

লস এন্ড ড্যামেজ ফান্ড কি হবে?

পরের সংবাদ

জলবায়ু সম্মেলনে প্রত্যাশা ও অর্জন

অন্জন কুমার রায়

ব্যাংক কর্মকর্তা ও লেখক

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৩, ২০২২ , ৮:৩৭ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২৩, ২০২২ , ৮:৩৭ পূর্বাহ্ণ

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সারা বিশ্বে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব বিদ্যমান। গ্রীষ্মে গরমের তীব্রতা বেড়ে যাওয়া এবং শীতকালে অত্যধিক ঠাণ্ডা সেরকমই কিছু বার্তা দেয়। চলতি বছরে সিলেটে দুই দফা বন্যা এবং উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং জলবায়ুর পরিবর্তনের অশনি সংকেত দেখিয়ে দেয়। এছাড়াও বিভিন্ন দেশে বন্যা, দাবানল, ঘূর্ণিঝড়, নজিরবিহীন তাপপ্রবাহ বিশ্বকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। প্রতি বছরের মতো এবারো জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিসরের শার্ম আল শেখে ৬-১৯ নভেম্বর পর্যন্ত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যা কপ-২৭ সম্মেলন নামে পরিচিত। কপ-২৭ সম্মেলনে যেসব বিষয় আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে তার মধ্যে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাস, জলবায়ুর অভিযোজন এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর জলবায়ু-সংক্রান্ত কাজে অর্থায়নে প্রতিশ্রæতি প্রদান। তবে বায়ুমণ্ডলে কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ কমানোর কথা পূর্বের সম্মেলনগুলোতেও বলা হয়েছিল। বিগত সম্মেলনের মাধ্যমে কার্বন নির্গমনকারী দেশগুলো ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে বলা হয়েছিল। তবে তা বাস্তবায়নের কোনো লক্ষণ নেই। গরিব তথা উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতি অনেকটা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে প্রচুর পরিমাণে কার্বন নিঃসরণ হয়ে থাকে। তাই কার্বনের পরিমাণ কমাতে হলে জীবাশ্ম জ্বালানির পরিমাণ কমিয়ে আনতে হবে। কিন্তু উন্নয়নশীল দেশগুলো ইচ্ছে করলেই জীবাশ্ম জ্বালানি কমাতে পারে না। সেজন্যই জলবায়ু পরিবর্তনে বিপর্যস্ত উন্নয়নশীল দেশগুলো তহবিল গঠনের দাবি জানিয়ে আসছিল। যেখানে তহবিলের একটি অংশ নবায়নযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানির জন্য বরাদ্দ থাকবে।
আইপিসিসির মতে, উষ্ণতার পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে চলতি দশকে শেষ নাগাদ কার্বন দূষণ ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। ফলে ভূপৃষ্ঠের উষ্ণতা ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যাবে। তবে প্যারিস চুক্তির অধীনে প্রতিশ্রæতি বাস্তবায়ন এক ডিগ্রির কয়েক দশমাংশ তাপমাত্রা হ্রাস পাবে। আশার কথা, জলবায়ু সংকট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ‘ইনফ্লেশন রিডাকশন অ্যাক্ট’ প্রণীত হয়েছে। এ আইনের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন হাউস গ্যাসের নির্গমন প্রায় ৪০ শতাংশ কমতে পারে। বিদ্যুৎ, পরিবহন এবং শিল্পক্ষেত্রেও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি বৃৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে ‘রি-পাওয়ার ইইউ’ নামে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০-৫০ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে ইইউর। যার ফলে গ্রিন হাউস গ্যাসের ব্যবহার কমে আসবে। শীর্ষ ৫টি কয়লা উৎপাদক দেশের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া অন্যতম। ২০৩০ সালের মধ্যে ৪৩ শতাংশ কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ কমিয়ে আনার প্রতিশ্রæতি ব্যক্ত করেছে অস্ট্রেলিয়া। বিশ্বের প্রায় অর্ধেক কয়লা পোড়ায় চীন। তবে ২০৩০ সালের পর চীন কার্বন নির্গমনের হার বাড়তে দেবে না বলে ব্যক্ত করেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ৪৫ শতাংশ কার্বন নির্গমনের প্রতিশ্রæতি দিয়েছে ভারত। সে উদ্দেশ্যে দেশের মোট জ্বালানির অর্ধেক নবায়নযোগ্য উৎস থেকে জোগান দেয়ার সামর্থ্যে থাকতে চায় ভারত।
প্যারিস চুক্তিতে বাংলাদেশের মতো ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে সহায়তা প্রদানের কথা বলা হয়েছিল। সে অনুযায়ী ২০২০ সাল থেকে প্রতি বছর ১০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিলের নিশ্চিত করার কথা ছিল। যদিও সেটা পূরণ হয়নি। তবে কপ-২৬ সম্মেলনে সেই তহবিল নিশ্চিত করতে ২০২৩ সালের সময়সীমা দেয়া হয়েছিল। দ্য গার্ডিয়ানের তথ্যমতে, কপ-২৭ সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতির শিকার দেশগুলোর জন্য ‘লস এন্ড ড্যামেজ ফান্ড’ নামে তহবিল গঠনে সম্মত হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তহবিলের অর্থ দরিদ্র দেশগুলোর ভৌত ও সামাজিক অবকাঠামোর ওপর জলবায়ুর ধ্বংস মোকাবিলা করা এবং উদ্ধারকাজ পরিচালনা ও পুনর্গঠনে ব্যয় করা হবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিযোজন প্রক্রিয়ায় খাপ খাওয়াতে সহায়তা করবে। যদিও বিগত সম্মেলনগুলোতে জলবায়ু বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ চাওয়া হলেও ধনী দেশগুলো এর বিরোধিতা করে আসছিল। কাজেই ‘লস এন্ড ড্যামেজ ফান্ড’ তহবিল গঠনে সম্মত হওয়া এ সম্মেলনের একটি বড় অর্জন বলা যেতে পারে।

অন্জন কুমার রায়
ব্যাংক কর্মকর্তা ও লেখক।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়