মাঠে অভিনব প্রতিবাদ জার্মান খেলোয়াড়দের

আগের সংবাদ

রাধারমণ লোকসঙ্গীত উৎসব শুক্রবার

পরের সংবাদ

জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত উৎসব

‘এই জীবনে ব্যথা যত এইখানে সব হবে গত’

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৩, ২০২২ , ১০:০৯ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২৩, ২০২২ , ১০:০৯ অপরাহ্ণ

উৎসবে অংশ নিচ্ছেন ২০০ শিল্প

‘এই জীবনে ব্যথা যত এইখানে সব হবে গত’ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এমন অমিয়বাণী ধারণ করে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী শুক্র ও শনিবার (২৫ ও ২৬ নভেম্বর) বাংলাদেশ রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সংস্থার ৩৩তম আসর।

ঐতিহ্যবাহী আয়োজনটির সঙ্গে এ বছর থাকছে গুণীজন সম্মাননা পর্বও। সম্মাননা পাচ্ছেন বরেণ্যে বাচিকশিল্পী আশরাফুল আলম এবং বরেণ্যে কণ্ঠশিল্পী রফিকুল আলম। তারা দুজনেই স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক। আর এর মধ্য দিয়ে তিন বছর পর চেনা রূপে ফিরছে ‘জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত উৎসব’। উৎসবটি উৎসর্গ করা হয়েছে করোনাকালে মৃত্যুবরণকারী শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, কবি ও সংস্কৃতজনদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে।

রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে শুক্রবার সকাল ১০টায় উৎসব উদ্বোধনের পাশাপাশি গুণীজন সম্মাননা প্রদান করবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।
বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচা রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন বাংলাদেশ রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও কণ্ঠশিল্পী পীযূষ বড়ুয়া। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংস্থার সভাপতি তপন মাহমুদ। এ ছাড়া অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি খন্দকার খায়রুজ্জামান কাইয়ুম, বুলা মাহমুদ, কাজল মুখার্জী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক (সাধারণ) তানজিমা তমা, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক (পরিকল্পনা) সাগরিকা জামালী, অর্থ সম্পাদক কনক খান, দফতর সম্পাদক সীমা সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক রিফাত জামাল মিতু এবং নির্বাহী সম্পাদক শর্মিলা চক্রবর্তী, আহমেদ শাকিল হাসমী, সাজ্জাদ হোসেন, জাফর আহমেদ ও রাবিতা সাবাহ।

তপন মাহমুদ বলেন, আমাদের সময়ে শুধু বিটিভি ছিল। বা বেতার। ফলে আমরা সেখানে গাইলে পুরো বাংলাদেশ কাভার হতো। এখন অসংখ্য চ্যানেল, কিন্তু শিল্পীরা আগের সেই এক্সপোজার পান না। অথচ আমরা চাই নতুনরা গাইবার সুযোগ পাক, প্রচার পাক। সেই কাজটির জন্য এমন একটি উৎসবের আসলে খুব দরকার। এমন আয়োজন হলে নতুন শিল্পীরা অনেক সাহস পান। তাই এবারও আমরা নতুন সদস্যদের তুলে ধরবো মঞ্চে। সঙ্গে আমরা তো থাকবোই।

তপন মাহমুদ আরো বলেন, এবারের উৎসব উৎসর্গ করা হচ্ছে করোনায় মৃত্যুবরণকারী শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, কবি ও সংস্কৃতজনদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে। কারণ মহামারি শুধু আমাদের মঞ্চটাই কেড়ে নিয়েছে তা নয়। নিয়েছে আরও অনেক তাজা প্রাণ। যারা থাকলে আমাদের শিল্প-সংস্কৃতি আরও সমৃদ্ধ হতে পারতো। তাই সেই মানুষগুলোকে উৎসর্গ করা হলো এই আয়োজন। আর এবারের স্লোগানের উদ্দেশ্য হলো, আমরা বলতে চাই- আমাদের যত ব্যথা ও বাধা ছিলো জীবনে, তার সব অতিক্রম করবো এই উৎসবের ভেতর দিয়ে।

লিখিত বক্তব্যে পীযূষ বড়ুয়া বলেন, শেষবার এই উৎসব করেছি ২০১৯ সালে, মানে সরাসরি মঞ্চে। ২০ সালে পারিনি করোনভাইরাস (কোভিড-১৯)-এর কারণে। ২১ সালে করেছি সীমিত পরিসরে অনলাইনে। ফলে এবারের উৎসবটি আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

উল্লেখ্য, ১৯৮৮ সাল থেকে রবীন্দ্রসংগীত ও নবীন শিল্পীদের বিকাশে কাজ করে আসছে বাংলাদেশ রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সংস্থা। তাদের উদ্যোগেই প্রতি বছর এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
শুক্রবার (২৫ নভেম্বর) উদ্বোধনের পর বেলা ১১টায় শুরু হবে সংগীত পরিবেশনা। মাঝে বিরতি নিয়ে বিকাল পাঁচটায় হবে আবৃত্তি ও সংগীতানুষ্ঠান। পরদিন বিকাল ৫টা থেকে হবে আবৃত্তি ও সংগীতানুষ্ঠান। এবারের উৎসবে সারা দেশ থেকে প্রায় ২০০ জন শিল্পী একক ও দলীয় পরিবেশনায় অংশ নেবেন।

এর মধ্যে রয়েছেন বুলবুল ইসলাম, ফাহিম হোসেন চৌধুরী, রোকাইয়া হাসিনা, অদিতি মহসিন, ড. অরূপ রতন চৌধুরী, চঞ্চল খান, লিলি ইসলাম সহ বেশ কয়েক জন প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী। উদ্বোধনী পর্বে অংশ নেবে পাঁচটি সঙ্গীত দল।

দলগুলো হলো- সুরতীর্থ, সঙ্গীতভবন, বিশ্ববীণা, বুলবুল লতিকলা একাডেমী (বাফা) ও উত্তরারণ। জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হবে। এর পর থাকবে পর পর দুইটি কোরাস। দুই দিনের অনুষ্ঠানে গানের পাশাপাশি আবৃত্তি পরিবেশনায় অংশ নেবেন বাকশিল্পী আশরাফুল আলম, জয়ন্ত রায়, বেলায়েত হেসেন. মাহমুদা আখতার ও রেজিওয়ালী লীনা।

এমকে

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়