সমতায় ফিরলো ওয়েলস

আগের সংবাদ

ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে হবে

পরের সংবাদ

আইএমএফের ঋণ ব্যবহারে সতর্কতা জরুরি

সামিহা খাতুন

শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত: নভেম্বর ২২, ২০২২ , ১:৪০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২২, ২০২২ , ১:৪০ পূর্বাহ্ণ

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ সাধারণত তার সদস্য দেশগুলোর মধ্যে কেউ অর্থনৈতিক কোনো বিষয়ে সমস্যায় পড়লে বা প্রয়োজন বোধ করলে সহায়তার জন্য পাশে দাঁড়ায়। সংস্থাটি যখন কোনো দেশের সঙ্গে সমঝোতা করে, সেখানে কিছু পলিসি প্যাকেজ থাকে, যাতে ঋণগ্রহীতা দেশ তার সংকট মোকাবিলা করতে পারে, আবার একই সঙ্গে দেশটি তার ঋণ শোধেরও যেন সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। আইএমএফের পক্ষ থেকে পাঠানো একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশকে সাড়ে ৪ বিলিয়ন ঋণ দেয়ার ব্যাপারে সমঝোতা হয়েছে। ৪২ মাস বা সাড়ে ৩ বছর ধরে পর্যায়ক্রমে এই ঋণ ছাড় করা হবে। আগামী ৩ মাসের মধ্যেই এই ঋণের সব আনুষ্ঠানিকতা চূড়ান্ত করবে সংস্থাটি। মোট ৭ কিস্তিতে তারা বাংলাদেশকে সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেবে। এ ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে সুদ হার নির্ধারিত হবে বাজারদর অনুযায়ী, যা গড়ে ২ দশমিক ২ শতাংশ হবে। অর্থাৎ পুরো ঋণটি পেতে ২০২৬ সাল হয়ে যাবে।
আইএমএফ বাংলাদেশ ব্যাংকের শতকরা বছরে ৯ টাকা যে সুদের হার বেঁধে দেয়া আছে সেটাকে বেঁধে না দিয়ে ব্যাংকগুলোর হাতে ছেড়ে দিতে বলছে এবং তারা বছরে দুইবার মুদ্রানীতি ঘোষণা করার কথা বলেছে। এছাড়া বাংলাদেশে এখন খেলাপি ঋণ বাড়ছে। গত ডিসেম্বরে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ ছিল ১ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। পাশাপাশি আইএমএফ বাংলাদেশের খেলাপি ঋণ পরিস্থিতির উন্নতি চায় আর ৩ মাস কিস্তি দিতে ব্যর্থ হলে খেলাপি ঋণ হিসেবে চিহ্নিত করার পক্ষে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী জুন ২০২২ পর্যন্ত ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার ২৫৮ কোটি টাকা, যা বিতরণকৃত মোট ঋণের ৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ। ৬ মাস আগে ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৩ হাজার ২৭৩ কোটি টাকা, যা ছিল মোট ঋণের ৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ। হিসাব মতে, মাত্র ৬ মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা।
এছাড়া আইএমএফ চায় সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমিয়ে আনা হোক এবং এ সুদহার বাজারদরের কাছাকাছি থাকুক। আইএমএফ কর্তৃক পাওয়া ঋণের ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় প্রভাবই বাংলাদেশে দেখা যাবে। আইএমএফের ঋণের ইতিবাচক দিকগুলোর দিকে একটু দৃষ্টি দেয়া যাক, এ ঋণের ফলে সাময়িকভাবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমবে। সার্বিক অর্থনীতির চুলচেরা বিশ্লেষণ করেই আইএমএফ ঋণ দেয় এই বার্তাটি বহির্বিশ্বে গেলে বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক বার্তা বয়ে আনতে পারে। বিশ্বব্যাংক, এডিবি, জাইকাসহ অন্য ঋণদাতা সংস্থাগুলো আইএমএফের মূল্যায়নকে আমলে নেয় ফলে ঋণ পাওয়া সহজ হবে। বিদেশি ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা করপোরেট সংস্থা থেকে বাণিজ্যিক ঋণ নিতে আইএমএফের মূল্যায়ন ইতিবাচক হবে। ঋণের শর্তে জ¦ালানি তেল, বিদ্যুতের দাম বাড়াতে হবে। এতে মুদ্রাস্ফীতির চাপ ও জনদুর্ভোগ বাড়বে। নিম্ন ও নিম্ন মধ্য আয়ের পরিবারগুলোর জীবনযাত্রা হয়ে উঠবে দুর্বিষহ। আমদানি পণ্যের ওপর শুল্ক কমাতে হবে। এতে দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।
এই ঋণের নেতিবাচক দিক থাকার পরও এ ব্যাপারে আশাবাদী হওয়া যায় যে এ ঋণ বাংলাদেশের লেনদেনের ভারসাম্যে ইতিবাচক প্রভাব রাখবে। কেননা আইএমএফ যেসব সংস্কারের কথা উল্লেখ করেছে সেগুলোর বেশিরভাগ আমাদের অর্থনীতির জন্য দরকার ছিল। এই ঋণের ফলে বাংলাদেশ প্রয়োজন সাপেক্ষে আরো ঋণ চাইলে অন্যান্য সংস্থা থেকে সেটি পাওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধা হবে। আবার বিশ্বব্যাংক ও এডিবির মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠান আমাদের বাজেট সহায়তা দিতে উৎসাহিত হবে। সেদিক থেকে এর গুরুত্ব অবশ্যই আছে। আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো বিদেশি ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের রেকর্ড ভালো, তাই আইএমএফের ঋণ বিক্রির ঘটনাটি স্বাভাবিক। এই ঋণের পর অন্য সংস্থা থেকে ঋণ পেতে এখন আর তেমন যাচাইয়ের দরকার হবে না। এছাড়া এখন প্রয়োজন নিজেদের মিতব্যয়ী এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া। প্রশাসনিক কাজকর্মে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের দাবি এবং একই সঙ্গে জবাবদিহিতাও। প্রত্যাশা করা যায়, ঋণ পাওয়ার যে প্রাথমিক আশ্বাস আমরা পেয়েছি এখন সেটি হাতে আসার আগে সরকারের যা যা করণীয় তা সঠিকভাবে এবং ঋণ পাওয়ার পরবর্তী করণীয়গুলো পরিকল্পনা সম্পূর্ণ করতে হবে।

সামিহা খাতুন
শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়