কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন টোকায়েভ

আগের সংবাদ

জাতীয় সংগীত গাইলেন না ইরানের ফুটবলাররা

পরের সংবাদ

দাম কমানোর দাবিতে প্রকাশকদের সংবাদ সম্মেলন

৮ মাসে কাগজের দাম বেড়েছে ১৯০০ টাকা

প্রকাশিত: নভেম্বর ২১, ২০২২ , ৮:৩০ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২১, ২০২২ , ৮:৩৬ অপরাহ্ণ

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বইমেলায় কাগজের (৮০ গ্রাম) দাম রিমপ্রতি ছিল ১৬০০-১৭০০ টাকা, সেটির বর্তমান দাম ৩৫০০-৩৬০০ টাকা। এছাড়া আগের দিনের দামের সঙ্গে পরের দিনের দাম মেলে না। এমন ভারসাম্যহীনতায় সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন প্রকাশকরা। তাই যেসব প্রতিষ্ঠান কাগজের বাজার দখল ও নিয়ন্ত্রণ করে, তাদের বিনিয়োগ ও লভ্যাংশের স্বচ্ছতা প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে নির্ধারণসহ আরও বেশ কয়েকটি দাবি জানিয়েছে প্রকাশকদের সংগঠন সৃজনশীল প্রকাশক ঐক্য।

সোমবার (২১ নভেম্বর) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে সৃজনশীল প্রকাশ ঐক্য আয়োজিত ‘কাগজের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও সংকট’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন অনুপম প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী মিলন নাথ। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সাহিত্য প্রকাশের স্বত্বাধিকারী কমল কান্তি নাথ, সময় প্রকাশনের স্বত্বাধিকারী ফরিদ আহমেদ, অনন্যার স্বত্বাধিকারী মনিরুল হক, আবিস্কারের স্বত্বাধিকারী দেলোয়ার হোসেন, সমগ্র প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী শওকত আলী তারা।

লিখিত বক্তব্যে মিলন নাথ বলেন, কাগজের অস্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণহীন মূল্যবৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে দেশের পুরো প্রকাশনা খাত বড় ধরনের বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে। একইসঙ্গে যোগ হয়েছে আমদানি নির্ভর প্লেটের দুষ্প্রাপ্যতা। জরুরি প্রকাশনায় উচ্চমূল্য দিয়েও মিলছে না এসব উপকরণ। এই অস্বাভাবিকতা এখন চরম পর্যায়ে। বর্তমান বাজার মূল্যে ছাপা কেন্দ্রিক কোনো কাজকর্মই করা সম্ভব হচ্ছে না।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, আমরা সাধারণত কাগজের মূল্য হিসাব করেই বইয়ের মূল্য নির্ধারণ করে থাকি। কিন্তু একটি বই পাঠকের হাতে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত প্রায় ১৬টি পেশাদার হাত ঘুরে আসে। তাদের পেশাজীবন বইকে কেন্দ্র করেই। এখানে পাণ্ডুলিপি তৈরি ও কম্পোজ, প্রুফ রিডিং, সম্পাদনা, মেকআপ, ডিজাইন, প্রচ্ছদ, প্লেট, ছাপাখানা, বাইন্ডিং ও প্যাকেজিং খাতগুলো সম্পৃক্ত। দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষের শ্রম খাত এটি। প্রতিটি খাতেই মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা ডলার সংকট।

এছাড়াও প্রতিনিয়ত নানা ছলচাতুরী করে কাগজের দাম বেড়েই চলেছে। গতকালের মূল্য আর আজকের মূল্য ঠিক থাকছে না। সরকার আমদানি নির্ভর ডিজেল, পেট্রোলিয়াম, চাল, আটা, চিনি, সয়াবিনের মতো পণ্যের দাম নির্ধারণ করে সিল করে দিচ্ছে বাজার শৃঙ্খলার জন্য। কিন্তু কাগজের ক্ষেত্রে সেটা করা হচ্ছে না। এই ভারসাম্যহীনতায় সবচেয়ে বিপাকে পড়েছি আমরা।

তিনি বলেন, বইয়ের মূল্য বা প্রাইজ ট্যাগ বদলানো যায় না। একবার ছেপে ফেললে সেই সংস্করণের কপি শেষ না হওয়া পর্যন্ত একই থাকে। যদি কাগজের মূল্য কমে যায়, তাতেও সমস্যা, বেড়ে গেলেও সমস্যা। আমরা সরকারের প্রতি জোর মিনতি এর আশু সমাধানকল্পে জরুরি ও কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন।

বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর মনিটরিং সেলের দাবি জানিয়ে লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, কাগজ উৎপাদন ও উৎপাদন সংশ্লিষ্ট কাচামাল আমদানি নির্ভরতার কারণে এই খাত শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যুক্ত। আমারা যারা সৃজনশীল বই প্রকাশ করি, তাদের কর্মযজ্ঞ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন।

এই নজিরবিহীন ব্যাপক সংকট ও বিপর্যয় মোকাবেলায় ত্রাতা ও অভিভাবকের দায়িত্ব কে পালন করবেন আমরা জানি না। ঘুরে ফিরে সরকারের নামই আসে। কিন্তু সঠিক উত্তরটি পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা চিলে কান নিয়েছে বলে কাগজের দাম মেনে নিচ্ছি বারবার। শেষ পর্যন্ত এই মূল্য সমন্বয় করতে হয় নিরীহ পাঠকের থেকেই। এতে ক্রমবর্ধমান উচ্চমূল্যের ফলে ক্রেতারা বইবিমুখ হচ্ছেন।

বক্তারা বলেন, প্রকাশনা শিল্পের সংকট ও বিপর্যয় শুধু আমাদেরই নয়, আমাদের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাওয়া শুধু আমাদেরই ক্ষতি নয়, এর প্রভাব অনেক সুদূরপ্রসারী। আমাদের উন্মুল হয়ে যাওয়া শুধু আমাদেরই বিলুপ্তি নয়, এর অংশীজন বৃহত্তর লেখক ও পাঠক সমাজও।

কেএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়