নেদারল্যান্ডস-সেনেগাল লড়াই শুরু

আগের সংবাদ

বিধ্বস্ত ইরান, দাপুটে জয় ইংল্যান্ডের

পরের সংবাদ

বৃদ্ধ সোলেমানের শিকলে বাঁধা জীবন

প্রকাশিত: নভেম্বর ২১, ২০২২ , ৯:১০ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২১, ২০২২ , ৯:১০ অপরাহ্ণ

বাউফলের দাসপাড়া ইউনিয়নের খেজুরবাড়িয়া গ্রামের ল্যাংড়া মুন্সির পুল এলাকার বিত্তবান বৃদ্ধ সোলেমান আকন (৭০) এখন শিকল বন্দী জীবনযাপন করছেন। দেড়-দুই বছর আগেও তিনি স্বাভাবিক জীবনযান করেছিলেন। একসময় তিনি সেটেলম্যান্ট অফিসের সর্ভেয়ার সহকারী (আমিন) হিসেবে চুক্তিভিত্তিক চাকুরি করতেন। ১০-১২ বছর আগে চাকুরি থেকে অবসর নিয়েছিলেন। উপার্জনের টাকায় ছেলেমেয়েদের বড় করার পাশাপশি কালাইয়া ও দাসপাড়া এলাকায় বেশকিছু সহায়-সম্পত্তিও করেছেন। বছর খানেক আগে সোলেমান মানসিক রোগে আক্রান্ত হন বলে পারিবারিক সূত্র দাবি করেছেন। ঘর ছেড়ে দুই চোখ যে দিকে যায় সোলেমান সেই দিকেই চলে যেতেন। তাকে খুঁজে পেতে পরিবারের সদস্যদের বেগ পেতে হতো। তাকে বরিশাল ও ঢাকায় বেশ কয়েকবার চিকিৎসা করানো হয়েছে। কিন্তু তিনি সুস্থ হননি। তাই পরিবারের সদস্যরা তাকে নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েন। ঘর ছেড়ে চলে যাওয়ার ভয়ে তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। দেড় বছরে কখনো হাত থেকে শিকল কিংবা শিকলে লাগানো তালা খোলা হয়নি। তালায় মরিচা পরে গেছে। এভাবে কাটছে তার শিকল বন্দী জীবন।

সোলেমান আকনের ৫ ছেলেরা তাদের স্ত্রী সন্তান নিয়ে ভিন্নভাবে বসবাস করছেন। একমাত্র বৃদ্ধা স্ত্রী রাশিদা বেগম তার দেখাশুনা করছেন। সোলেমান আকনের সব ছেলেরাই স্বচ্ছল। এক ছেলে ইতালি বসবাস করেন। ওই ছেলের গ্রামের বাড়িতে নির্মানাধীন ভবনের এক কক্ষে বৃদ্ধ সোলেমান আকন ও তার স্ত্রী রাশিদা বেগম বসবাস করছেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, বাড়ির উঠানে শিকল দিয়ে একটি গাছের সাথে তালা দিয়ে সোলেমানকে রাখা হয়েছে। কথা বলতে পারেন না। কোন কিছু জিজ্ঞেস করলে ফ্যাল ফ্যাল নয়নে তাকিয়ে থাকেন। সোলেমানের সেঝ ছেলে মো. শাহিন জানান, তার বাবা অসুস্থ হয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে। এদিক-সেদিক চলে যাওয়ার ভয়ে শিকল দিয়ে বেধে রাখা হচ্ছে। সকল ধরণের চিকিৎসাই করানো হয়েছে। কিন্তু ভাল হওয়ার কোন লক্ষণ নেই। কয়েকজন প্রতিবেশী জানান, সোলেমান আকন অনেক সম্পদের মালিক। তা সত্বেও সঠিকভাবে তার চিকিৎসা হচ্ছেনা। সম্পত্তি ভোগের আশায় সন্তানরা তার বাবাকে ঠিকমত চিকিৎসা করাচ্ছেন না। ওষুধ কিনে দিচ্ছেন না। অবস্থা এ রকম যে তাদের বাবা মরে গেলেই যেন তারা হাফ ছেড়ে বাঁচেন। তবে সম্পত্তি ভোগের আশায় বাবার চিকিৎসা করানো হচ্ছে না বিষয়টি সত্য নয় বলে দাবি করেন ছেলে মো. শাহিন। আমাদের ৫ ভাইয়ের মধ্যে তিন ভাই সাধ্যমত বাবার সেবা করার চেষ্টা করছি।

এদিকে সোলেমান আকনের শিকল বন্দি জীবনের ব্যাপারে বড় ভাইদের দায়ী করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন ছোট ছেলে মো. হাসান। একারণে হাসানকে মারধরও করা হয়েছে। এব্যাপারে হাসান বাউফল থানায় একটি অভিযোগও করেছেন। সোলেমানের বড় ছেলে মো. মনির জানান, তার বাবাকে সুস্থ্য করানোর জন্য কমপক্ষে ১০ জন ডাক্তার দেখিয়েছি। কিন্তু সুস্থ হচ্ছে না। এদিক-ওদিক চলে যায় বলে এভাবে রাখা হয়েছে। ছোটভাই হাসানকে মারধর করার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, হাসান মাদকাসক্ত। এব্যাপারে চেয়ারম্যান-মেম্বররাও জানেন। তবে হাসান জানান, তার বাবার সম্পত্তি বড় ভাইরা ভাগ-বাটোয়ার করে খাবেন বলে বাবার সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা করানো হয়নি। বাবার সম্পত্তিই কাল হয়ে দাড়িয়েছে।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আল মামুন জানান, হাসানের একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল আমিন বলেছেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নেতৃত্বে সোলেমানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং পরবর্তী করনীয় সম্পর্কে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়