বিশ্বকাপ ফুটবল ও আমাদের প্রত্যাশা

আগের সংবাদ

ফের স্যাংশন জুজু : অস্থিরতার ঝাড়ফুঁক

পরের সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাই

হুমায়ুন কবির

সহকারী শিক্ষক, কন্দর্পপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

প্রকাশিত: নভেম্বর ২১, ২০২২ , ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২১, ২০২২ , ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশের বিস্তৃত শিক্ষাব্যবস্থায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের সামাজিক অবস্থান আর মর্যাদা এখন এক বড় সমস্যা। সংখ্যায় নগণ্য নয় তারা, তবুও সমানভাব গণ্য নয় তাদের স্বাভাবিক অধিকার। কিন্তু কেন? সন্দেহ নেই যে গত পাঁচ দশকে তারা শুধু শিক্ষা বিস্তারই নয় সামাজিক উন্নয়ন তথা সরকারের নানান কাজ পারদর্শিতার সঙ্গে সম্পাদন করে চলছেন এবং তা রবি রশ্মির শ্বেত শুভ্র দ্যুতির ন্যায় প্রাথমিকের সীমানা ছাড়িয়ে উচ্চ মহলেও প্রশংসিত। কিন্তু এ রাষ্ট্রে নিঃসময়ে অবদান রাখা প্রাথমিক শিক্ষকরা আজও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই থাকে অলক্ষিত ও উপেক্ষিত। আর এভাবেই চলতে থাকলে এ রাষ্ট্রের উদাসীনতা, রাষ্ট্রের নিষ্ক্রিয়তা, একদিন এ রাষ্ট্রের দিকেই ধেয়ে এসে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার সোনালি স্বপ্ন শুধু দিবাস্বপ্নেই থেকে যাবে আর ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে ১৯৭১ সালের সেই ঐতিহাসিক অর্জন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের ন্যায় একই যোগ্যতা (স্নাতক), একই ক্যারিকুলাম, একই সিলেবাস ও একই শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করা পিটিআই সংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড ১০ম (২য় শ্রেণি) আর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড ১৩তম (৩য় শ্রেণি)। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের প্রতি কেন এ বিমাতাসুলভ আচরণ? কেন অন্যান্য ডিপার্টমেন্ট ও প্রাথমিক সহকারীদের মধ্যে গ্রেডের পার্থক্য থাকবে? সূর্যের আলোয় সবার যেমন সমান অধিকার তেমনি বেতন গ্রেডের অধিকারও সবার জন্য সমান হওয়া বাঞ্ছনীয়।
স্নাতক যোগ্যতায় অন্যান্য ডিপার্টমেন্টে এখন ১০ম গ্রেড বিদ্যমান। যেমন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক, প্রদর্শক-কলেজ, সহকারী গ্রন্থাগারিক/ক্যাটালগার, পুলিশের এসআই, ইউনিয়ন পরিষদ সচিব, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ইত্যাদি। ঐঝঈ+ ডিপ্লোমা ইন নার্সিং যোগ্যতায় ১০ম গ্রেডে রয়েছেন সিনিয়র স্টাফ নার্স/স্টাফ নার্সরা। এছাড়া ঝঝঈ+ কৃষি ডিপ্লোমা যোগ্যতায় ১০ম গ্রেডে রয়েছেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা/ উপসহকারী উদ্যান কর্মকর্তা/ উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা/ উপসহকারী প্রশিক্ষক/ উপসহকারী সঙ্গনিরোধ কর্মকর্তারা। শিক্ষকতা সুমহান পেশা কেন আমাদের দৃষ্টির আড়ালে পড়ে আছে। তা ভাবতে গিয়ে লজ্জিত বোধ করছি। ১৯৭৩ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিরন্তর চেষ্টায় ৩৭ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের মাধ্যমে সোনার বাংলা গড়ার প্রথম সোপান ও ২০১৩ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার ২৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ, যা সোনার বাংলা গড়ার দ্বিতীয় সোপান আর কতদিন অনালোকে পড়ে থাকবে? ঠিক বুঝি না উদাসীনতাই কি এর মূল কারণ? যে সমাজ শিক্ষকের মর্যাদা দিতে পারে না সেই সমাজ বা সময় খুব ভয়ংকর। শিক্ষকদের ন্যায্য দাবির ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ বরাবর কেন নির্বিকার, নিশ্চুপ? প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের প্রাণের দাবি ১০ গ্রেড বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর এমন এক হস্তক্ষেপ ঘটুক, যা ধুয়ে দিয়ে যাক সহকারীদের ক্লেদাক্ত জীবন এবং নিরসন হোক সব বৈষম্যের। শিক্ষাবান্ধব সরকারের প্রধান ও প্রাথমিক শিক্ষক হওয়ার স্বপ্নচারী হিসেবে তার কণ্ঠে বেজে উঠুক ‘এই বৈষম্যযুক্ত প্রাথমিক শিক্ষার দেশ আমার দেশ না।’ আর সহকারী শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা প্রদানের মাধ্যমে শুরু হোক মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উন্নত রাষ্ট্রে রূপান্তর হওয়ার নতুন অধ্যায়ের, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার গান’। পায়ে পায়ে এগিয়ে চলুক এদেশ। আর তারই অংশীদার হতে দেন সহকারী শিক্ষকদেরও। প্রধান শিক্ষকদের ৯ম ও সহকারী শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড সময় আর নিঃসময়ের দাবি। শিক্ষার স্বার্থ ও শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি পূরণের লক্ষ্যে সরকারের দায়বদ্ধতাসহ মানবিক আচরণ দ্রুত আশা করছি।

হুমায়ুন কবির : সহকারী শিক্ষক, কন্দর্পপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সদর, ময়মনসিংহ।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়