অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৫০ শিল্প ইউনিট উদ্বোধন

আগের সংবাদ

অলিম্পিকের আদলে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী

পরের সংবাদ

পুলিশকে স্প্রে করে ২ জঙ্গি ছিনতাই

প্রকাশিত: নভেম্বর ২০, ২০২২ , ২:০৮ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২০, ২০২২ , ৪:১৬ অপরাহ্ণ

ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণ থেকে পুলিশের চোখে স্প্রে মেরে প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপন হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। রবিবার (২০ নভেম্বর)দুপুর সোয়া ১২ টার দিকে জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের সদস্য আবু সিদ্দিক সোহেল ও মইনুল হাসান শামীমকে ছিনিয়ে নেয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদপুর থানায় দায়ের করা সন্ত্রাস বিরোধ আইনের মামলায় আজ শুনানির দিন ধার্য ছিলো। আসামির সংখ্যা ২০ জন। এদের মধ্যে দুই আসামি জামিনে আছেন। তারা আদালতে হাজির হন। ৬ আসামি শুরু থেকে পলাতক রয়েছেন। অপর ১২ আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।

এরপর শুনানি শেষে ২০ আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ঢাকার সন্ত্রাস বিরোধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান। এরপর আসামিদের আদালত থেকে ঢাকার সিএমএম আদালতের হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মেইন গেইটে আসলে হঠাৎ করে কয়েকজন দুর্বৃত্ত পুলিশের চোখে স্প্রে নিক্ষেপ করে দুই আসামিকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। পুলিশকে মারধরও করে তারা। এদের মধ্যে পুলিশ সদস্য নুরে আজাদ আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবীর ড্রাইভার শিপলু জানান, প্রতিদিন সকাল ৮টার দিকে স্যারকে (আইনজীবী) উত্তরা থেকে নিয়ে আসি। এরপর আর কোনো কাজ থাকে না। আদালতের সামনেই বসেছিলাম। হঠাৎ দেখি হট্টগোল। দেখি কয়েকজন পুলিশের চোখে স্পে মারছে। হাতকড়া পড়া চার আসামিকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। আহত হয়েও দুই জনকে আটক করে পুলিশ। তবে অপর দুইজনকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা।

এছাড়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, চারজন ড্রাইভারও এসেছিলেন পুলিশকে সাহায্য করতে। তাদের ওপরও স্প্রে নিক্ষেপ করে জঙ্গিরা।

এদিকে এ ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হারুন অর রশিদসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান।

হারুন অর রশিদ বলেন, এটা একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। আসামি অনেকেই ছিলো। দুইটি মোটরসাইকেলে ৬ জন এসে নতুন টেকনিক স্পে করে দুই জঙ্গিকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। তারা পুলিশের গায়েও তারা হাত তুলেছে। স্পে করার কারণে তারা চোখে দেখতে পায় নাই। মোটরসাইকেলে করে তারা পালিয়ে যায়। আমাদের ডিবি পুলিশ প্রত্যেকটা জায়গায় চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করছে। আমরা সিটি ক্যামেরা পর্যালোচনা করছি। সবাই কাজ করছে। তাদের শিগগিররই গ্রেপ্তার করা হবে।

জানা যায়, ২০১৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি পুলিশ খবর পায়, মোহাম্মদপুর থানার নবোদয় হাউজিং এলাকায় আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের সদস্যরা অস্ত্রসহ অবস্থান করছে। তারা সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, ব্লগার-লেখক-প্রকাশকদের হত্যার উদ্দেশে একত্রিত হয়েছে। পুলিশ সেখানে গিয়ে শাহীন আলম ওরফে কামাল এবং শাহ আলম ওরফে সালাউদ্দিনকে আটক করে। পরে পুলিশকে লক্ষ্য করে জঙ্গি গুলিবর্ষণ করে। আল্লাহু আকবর ধ্বনি দিয়ে পালাতে থাকে। পুলিশ পরিদর্শক বাহাউদ্দিন ফারুকীকে ধারালো চাপাতি দিয়ে মাথায় কোপ মারে। এসময় আসামিদের কাছ থেকে ৮টি গ্রেনেড, ৯টি বোমাসহ বিস্ফোরকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করে। মামলাটি তদন্ত করে ২০ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন।

মামলার অপর আসামিরা হলেন-শাহিন আলম, শাহআলম, ঈদী আমিন, বিএম মজিবুর রহমান, মেহেদী হাসান, সুমন হোসেন পাটোয়ারী, খায়রুল ইসলাম, মোজাম্মেল হোসেন, আরাফাত রহমান, শেখ আব্দুল্লাহ, আ: সবুর, রশিদুন্নবী ভূঁইয়া, সৈয়দ মো. জিয়াউল হক, সাব্বিরুল হক চৌধুরী, আয়মান ওরফে মশিউর রহমান, তানভীর শামশেদ, রিয়াজুল ইসলাম ও ওমর ফারুক।

এমকে

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়