মৃত্যুর কাছে হার মানলেন ঐন্দ্রিলা

আগের সংবাদ

৩২ দলের অধিনায়ক

পরের সংবাদ

তিন শিরোপার সাক্ষী পেলে

প্রকাশিত: নভেম্বর ২০, ২০২২ , ৪:২১ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২০, ২০২২ , ৪:৫৩ অপরাহ্ণ

গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ খ্যাত ফুটবল বিশ্বকাপের আসর এবার মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে। ৩২টি দেশের জন্য একটি বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন থাকে প্রতিটি দলের। প্রতিটি দলের খেলোয়াড়রাই চায় শিরোপা জিতে নিজেদের ইতিহাসের অংশ করে রাখতে। প্রতিটি আসরে সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পারে শুধু একটি দেশের খেলোয়াড়। যেখানে বিশ্বকাপের একটি শিরোপা জেতা অনেকের জন্য কল্পনা, সেখানে এমন একজন খেলোয়াড় আছেন যিনি ৪টি বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে শিরোপা জিতেছেন তিনবার। চারবারের তিনবারই চ্যাম্পিয়ন করেছেন দলকে। তিনি আর কেউ নন, ফুটবলের কালো মানিক খ্যাত ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার পেলে।

তিনটি বিশ্বকাপ জেতা কোনো কাকতালীয় ঘটনা না। এজন্য খেলতে হবে টানা ১২ বছর। তবে টানা তিন বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হবে দল এমন কোনো নিশ্চয়তাও নেই। এ যাত্রায় সৌভাগ্যবান ছিলেন পেলে। ব্রাজিলের ত্রেস কোরাকোয়েস শহরের বস্তিতে ১৯৪০ সালের ২৩ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন এই মহাতারকা। ফুটবলে শুধু একজনের নাম নিতে হলে পেলের নামই আসবে সবার আগে। তাকে বলা হয় ফুটবলের সম্রাট। পেলে খেলেছেন এমন কোনো টুর্নামেন্টের সর্বকালের সেরা একাদশ থেকে তাকে বাদ দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। অভাব অনটনের সংসারে ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি আকৃষ্ট হন পেলে।

১৯৫৭ সালে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হয় এই তারকার। ফুটবলের প্রতি ভালোবাসায় সিক্ত এই কিংবদন্তি মাত্র ১৭ বছর বয়সে ১৯৫৮ সালে ব্রাজিলের মতো দলের হয়ে বিশ্বকাপ খেলার সৌভাগ্য লাভ করেন।

১৯৫৮ বিশ্বকাপ : ১৯৫৮ বিশ্বকাপ স্বপ্নের মতো কেটেছে পেলের। সোভিয়েত ইউনিয়নের বিপক্ষে বিশ্বকাপে অভিষেক হয় তার। সেই বিশ্বকাপের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় ছিলেন তিনি। প্রথম দুই ম্যাচে ১৭ বছর বয়সি পেলের জায়গা ছিল রিজার্ভ বেঞ্চে। তৃতীয় ম্যাচে মাঠে নামেন তিনি। তবে সেই ম্যাচে গোল করতে না পারলেও কোয়ার্টার ফাইনালেই ইতিহাস গড়েন পেলে। সবচেয়ে কম বয়সি ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে গোল করেন। সেই গোলের সুবাদে ওয়েলসেকে হারিয়ে সেমিতে ওঠে ব্রাজিল। এখানেই থেমে যাননি পেলে। সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে বিধ্বস্ত করার নায়কও তিনি। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ফ্রান্সকে ৫-০ গোলে হারায় ব্রাজিল। হ্যাটট্রিক করেন পেলে। এরপর সুইডেনের বিপক্ষে ফাইনালেও জ¦লে উঠলেন তিনি। সুইডেনকে ৫-২ গোলে হারায় ব্রাজিল। ফাইনালে পেলে করেন আরো দুটি গোল। বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় ব্রাজিল। পেলে করেন চার ম্যাচে ৬ গোল। যে কারণে সেই আসরে সিলভার বল ও সিলভার বুট দুটোই জেতেন পেলে। এছাড়া সেরা উদীয়মান তারকার পুরস্কারও জেতেন তিনি।

১৯৬২ বিশ্বকাপ : ফিফা বিশ্বকাপের সপ্তম আসর অনুষ্ঠিত হয় ১৯৬২ সালে। তবে পেলের জন্য এই বিশ্বকাপ ছিল দুঃস্বপ্নের। চেকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে খেলতে নেমে ইনজুরিতে পড়েন তিনি। ফলে বাকি টুর্নামেন্টে আর খেলা হয়নি এই কিংবদন্তির। তবে সেই আসরেও দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় ব্রাজিল।

১৯৬৬ বিশ্বকাপ : ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিল সেরা দল নিয়ে মাঠে নামে। কিন্তু সবাইকে হতাশ করে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় ব্রাজিল। টানা দুটি বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলারদের প্রায় সবাই ছিল ব্রাজিল দলে। প্রথম ম্যাচে বুলগেরিয়ার বিপক্ষে গোল করেন পেলে। তবে বুলগেরিয়ান ডিফেন্ডারদের ফাউলে ইনজুরিতে পড়েন। যার ফলে পরের ম্যাচ অংশ নিতে পারেননি তিনি। পরের ম্যাচে হাঙ্গেরির বিপক্ষে সেই ম্যাচে হেরে যায় ব্রাজিল। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে পর্তুগালের বিপক্ষে মাঠে নামেন পেলে। তখনো পুরোপুরি ইনজুরি কাটিয়ে উঠতে পারেননি এই তারকা। সেই ম্যাচে পর্তুগালের কাছে ৩-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়ে টানা দুই বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। পর্তুগালের বিপক্ষে পুরো ব্রাজিল দলকে বিশেষ করে পেলেকে মারাত্মক পরিমাণে ফাউল করা হয়। যে কারণে পেলে মাঠ থেকে অসুস্থ হয়ে বের হন। সেই ম্যাচের পর তিনি অবসরের ঘোষণাও দেন। তবে সতীর্থদের অনুরোধে আবারো ফুটবলে ফেরেন তিনি।

১৯৭০ বিশ্বকাপ : ১৯৭০ বিশ্বকাপ ছিল পেলের শেষ বিশ্বকাপ। তবে সেই বিশ্বকাপে অংশ নেয়ার কথা ছিল না তার। কিন্তু ১৯৬৯ সালের শুরুতে পেলেকে আবার দলে নেয়া হয়। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে পেলের পায়ের ক্যারিশমায় ব্রাজিল জিতেছিল প্রথম বিশ্বকাপ। আবার নিজের শেষ বিশ্বকাপেও শিরোপা জেতেন পেলে। ফলে ১৯৭০ সালেই জুলেরিমে ট্রফির চিরস্থায়ীভাবে মালিক হয়ে যায় পেলের দেশ ব্রাজিল। ফাইনালে ইতালিকে ৪-১ গোলে হারায় তারা। বাছাইপর্বে ছয় ম্যাচে অংশ নিয়ে ছয়টি গোল করেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। ফাইনালে পেলের গোলেই গোলের সূচনা করে ব্রাজিল। এরপর ইতালিকে একে একে ৪টি গোল দেয় ব্রাজিল। ১৯৭০ সালেই বিশ্বকাপকে বিদায় বলে দেন কালা মানিক খ্যাত পেলে। এক প্রজন্ম সচরাচর দুটি বিশ্বকাপ ভালো খেলে। কিন্তু পেলে চারটি বিশ্বকাপেই তার পায়ের এবং কৌশলের জাদু দেখিয়েছেন। সেই আসরেও সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন তিনি। চার বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে তিনটিতে শিরোপা জেতা পেলে হয়ে যান ইতিহাসের অংশ। পেলের এই রেকর্ডের আশপাশেও নেই কোনো ফুটবলার।

এনজে

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়