কাঁচপুর সেতুর নামফলক পুড়িয়ে দিল দুর্বৃত্তরা

আগের সংবাদ

কয়েকশ বছরের পুরনো শিবমন্দিরে ভাঙচুর

পরের সংবাদ

বর্ণাঢ্য আয়োজনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপিত

প্রকাশিত: নভেম্বর ১৯, ২০২২ , ৯:১৯ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ১৯, ২০২২ , ২:০৬ অপরাহ্ণ

বর্ণাঢ্য আয়োজন ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ৫৭তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে আনন্দ শোভাযাত্রা, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও কেক কাটার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জারুলতলায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বিকালে আয়োজন করা হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শুধু পাঠদান ও ডিগ্রি প্রদান নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ হচ্ছে জ্ঞানের চর্চা করা এবং সেই জ্ঞানের চর্চার সঙ্গে বিশ্বাঙ্গনের যোগসূত্র ঘটানো। এখানে আন্তর্জাতিক সেমিনার-সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করার জন্য ক্যালেন্ডার তৈরি করতে হবে।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি জার্নাল রাখার প্রস্তাবনা থাকবে, যা হবে কোয়ালিটি জার্নাল। এটি যদি রেগুলার বেসিস প্রকাশ পায় এবং সেখানে ছবিসহ দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও নিবন্ধ প্রকাশ পাবে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য এখন অবকাঠামোগত উন্নয়নের দিকে আমাদের সবার নজরটা বেশি। অবকাঠামোগত উন্নয়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন নয়। অবশ্যই অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রয়োজন রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত উন্নয়ন হচ্ছে পাঠদান ও জ্ঞানের চর্চার উন্নয়ন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুমাত্রিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক চর্চার উন্নয়ন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতারের সভাপতিত্বে সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু চেয়ার প্রফেসর ড. মুনতাসীর মামুন। অনলাইনে সংযুক্ত হয়ে সম্মানিত অতিথির বক্তব্য দেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম। অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন বলেন, বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বায়ত্তশাসন দিয়েছিল, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় তা রক্ষা করতে পারেনি।

বিশ্ববিদ্যালয় সরকার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হলে সেটা আর বিশ্ববিদ্যালয় থাকে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিম্ন হয়নি, শিক্ষা গড়পড়তা হয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতির ক্ষেত্র। বিশ্ববিদ্যালয় কী, তা নিয়ে ছাত্র ও শিক্ষকদের মধ্যে মতৈক্য থাকা দরকার। শিক্ষকরা রাজনীতি করবেন, কিন্তু তার সীমারেখা থাকা উচিত। আগে রাজনীতিবিদরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে আসতেন, কিন্তু এখন বিশ্ববিদ্যালয় রাজনীতিবিদদের কাছে যায়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন শুধু বিজ্ঞানবিষয়ক নীতিমালা প্রদান করে। বিশ্ববিদ্যালয় শুধু বিজ্ঞানের নয়, কলা ও সমাজবিজ্ঞানের দিকেও নজর দেয়া দরকার। একটি দেশ, একটি রাষ্ট্র মুছে যেতে পারে, কিন্তু একটি বিশ্ববিদ্যালয় কখনো মুছে যাবে না।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপউপাচার্য প্রফেসর বেনু কুমার দে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব আবদুল করিম, সাধারণ সম্পাদক ও চিটাগাং চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম, চট্টগ্রাম মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোজাফ্ফর আহমদ, চাকসুর সাবেক ভিপি মাজহারুল হক শাহ ও নাজিম উদ্দিন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভুঁইয়া।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কৃতির চর্চা আরো বাড়ানো প্রয়োজন জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার অন্যতম একটি প্রধান স্থান বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয় আরো বর্ণময় হোক, জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রে বিশ্বাঙ্গনেও পরিচিত লাভ করুক। জ্ঞান-বিজ্ঞানের পাশাপাশি সংস্কৃতি চর্চারও একটি পাদপীঠ হবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

এমকেএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়