নোয়াখালীতে মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য গ্রেপ্তার, ৪ নারী উদ্ধার

আগের সংবাদ

নালিতাবাড়ীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, ১০ ড্রেজার ধ্বংস

পরের সংবাদ

ঢাবি ৫৩তম সমাবর্তনে অংশ নেবে ৩০ হাজার গ্র্যাজুয়েট

প্রকাশিত: নভেম্বর ১৭, ২০২২ , ৫:০২ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ১৭, ২০২২ , ৫:০২ অপরাহ্ণ

তিনটি ভিন্ন ভ্যানুতে অনুষ্ঠিত হবে

প্রদান করা হবে ১৫৩টি স্বর্ণপদক

সমাবর্তন বক্তা থাকবেন ড. জঁ তিরোল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ৫৩ তম সমাবর্তনে গ্র্যাজুয়েট ও গবেষক অংশগ্রহণ করবেন ৩০ হাজার ৩৪৮জন। ইতোমধ্যে তারা সমাবর্তনের জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন। যা গত সমাবর্তনের তুলনায় নয় হাজার ৫৫২ জন বেশি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ এবং অধিভুক্ত কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য ঢাকা কলেজ ও ইডেন কলেজ এই তিনটি ভিন্ন ভেন্যুতে সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল কক্ষে ৫৩তম সমাবর্তন উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য জানান।

এসময় তিনি বলেন, রেজিস্ট্রেশনকৃত গ্র্যাজুয়েট ও গবেষকদের মধ্যে মোট ২২ হাজার ২৮৭ জন গ্র্যাজুয়েট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ভেন্যুতে এবং ৭ হাজার ৭৯৬জন ঢাকা কলেজ ও ইডেন কলেজ ভেন্যুতে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে ১৩১জন কৃতী শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীকে ১৫৩টি স্বর্ণপদক, ৯৭জনকে পিএইচডি, ২ জনকে ডিবিএ এবং ৩৫জনকে এমফিল ডিগ্রি প্রদান করা হবে।

সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করবেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় চ্যান্সেলর জনাব মো. আবদুল হামিদ। সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন নোবেল বিজয়ী ফরাসী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. জঁ তিরোল। ৫৩তম সমাবর্তনে ৫৩তম সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি হিসেবে তাঁকে “ডক্টর অফ ল” প্রদান করা হবে। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৫২টি ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করা হয়।

সমাবর্তনের মূল অনুষ্ঠান: আগামী ১৯ তারিখ শনিবার বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে কার্জন হল থেকে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ পর্যন্ত মাননীয় চ্যান্সেলরের শোভাযাত্রা এবং ১২টায় সমাবর্তনের মূল পর্ব শুরু হবে।

গ্র্যাজুয়েটদের জন্য নির্দেশনা: সংবাদ সম্মেলনে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহকারী গ্র্যাজুয়েটদের জন্য কিছু নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটবৃন্দ খেলার মাঠের সুইমিংপুল সংলগ্ন গেইট দিয়ে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১১টার মধ্যে সমাবর্তনস্থলে প্রবেশ করতে হবে। অনুষ্ঠানস্থলে নিজ নিজ আসন গ্রহণ করার পর কোনক্রমেই মঞ্চের আশেপাশে ও অন্যান্য স্থানে ঘুরাফেরা করা যাবে না।

সমাবর্তনে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণপত্র এবং জাতীয় পরিচয়পত্র/প্রতিষ্ঠান কর্তৃক আইডি/পাসপোর্ট সাথে আনতে হবে। আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তরযোগ্য নয়। সমাবর্তনস্থলে মোবাইল ফোন, হাতব্যাগ, ব্রিফকেস, ক্যামেরা, ইলেকট্রনিক ডিভাইস, ছাতা ও পানির বোতল নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না। এছাড়াও সমাবর্তনস্থলে প্রবেশের জন্য মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক।

এছাড়াও, অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ এবং রেজিস্ট্রেশনকৃত গ্র্যাজুয়েটগণ ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে ঢাকা কলেজ ও ইডেন মহিলা কলেজ ভেন্যু থেকে সরাসরি সমাবর্তন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন এবং তারা সমাবর্তনস্থলে সকাল ১১.২০ টার মধ্যে আসন গ্রহণ করবেন।

গাড়ি পার্কিং: সমাবর্তনের দিন ভিআইপি এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দের গাড়ী কাজী মোতাহার হোসেন বিজ্ঞান ভবন (কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন সায়েন্স এনেক্স ভবন) মাঠে পার্কিং ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া, অন্যান্য সকল গাড়ী এসএম হল মাঠ, জহুরুল হক হল মাঠ, মুহসীন হল মাঠ এবং ফুলার রোডে পার্কিংয়ের সুবিধা থাকবে।

পলিথিন, বানান ভুল ও সাত কলেজ ইস্যুতে উপাচার্যের অবস্থান: সমাবর্তন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীদের গাউন, টুপি ও টাই প্রদানে নানা অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে নিষিদ্ধ পলিথিনে করে এই জিনিসগুলো দেওয়া হয়েছে কয়েকটি ভেন্যুতে। এছাড়াও টাইতে 53rd এর পরিবর্তে 53th ভুলভাবে লিখা হয়েছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য বলেন, পলিথিনে গ্র্যাজুয়েটদের এসব দেওয়া মোটেও প্রত্যাশিত নয়। আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। টাইয়ের বানান ভুলের বিষয়টি সামগ্রিকভাবে আমাদের লজ্জায় ফেলেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করেছি। তারা আরো কিছু অতিরিক্ত টাই বানিয়ে দিবে। যা দিয়ে আমরা বিদেশি অতিথিদের দিতে পারবো। আর শিক্ষার্থীরা গাউন ফেরত দিলে স্যুভিনিয়র স্বরূপ একটি পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ও একটি মগ পাবে।

এছাড়াও সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা ডিজিটাল পর্দায় সমাবর্তন নিতে চায় না। তাদের জন্য কী করা হবে প্রশ্নে উপাচার্য বলেন, সমাবর্তন মহামান্য রাষ্ট্রপতির সদয় অনুমতিক্রমে অনুষ্ঠিত হয়। যখন যেভাবে সিদ্ধান্ত আসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সেভাবে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়