ঢাকায় সৌদি উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আগের সংবাদ

কর্ণফুলীর দূষণ রোধে করণীয়

পরের সংবাদ

আইএমএফের ঋণ যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে

প্রকাশিত: নভেম্বর ১৩, ২০২২ , ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ১৩, ২০২২ , ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ

বেশ কিছু সংস্কার কার্যক্রম সামনে রেখে আইএমএফ ঋণসহায়তা করছে বলে সরকারের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে। বৈশ্বিক এ সংকটে বাংলাদেশ ঋণ পাচ্ছে এটাই ইতিবাচক। আগামী তিন মাসের মধ্যেই এই ঋণের সব আনুষ্ঠানিকতা চূড়ান্ত করবে সংস্থাটি। মোট সাত কিস্তিতে তারা বাংলাদেশকে সাড়ে চার বিলিয়ন ডলার ঋণ দেবে। এ ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে সুদহার নির্ধারিত হবে বাজারদর অনুযায়ী, যা গড়ে ২ দশমিক ২ শতাংশ হবে। দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং এ ক্ষেত্রে যেসব বাধা আছে সেগুলো ঠেকাতেই এ ঋণ দেয়ার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। ঋণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকারকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। ঋণের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে পারব- এটাই আমাদের আকাক্সক্ষা। অর্থনৈতিক খাতে যে বিশৃঙ্খলা, বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতে গুরুত্ব দিতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে দেশে দ্রব্যমূল্য অনেক বেড়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে ৩৪ বিলিয়ন ডলারে এসেছে। প্রকৃত রিজার্ভ আরও ৮ বিলিয়ন ডলার কম বলে বলা হচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকেই। অন্যদিকে রপ্তানি আয় কমেছে এবং ডলারের দাম বেড়ে গেছে। পাশাপাশি দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি রেমিট্যান্স আসাও কমে গেছে। এখন আইএমএফের এ সিদ্ধান্তের ফলে ‘প্যানিক সিচুয়েশন’ যেটা তৈরি হয়েছিল, সেটা কেটে যাবে। আইএমএফ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঋণ দেয়ার আগে সেখানকার সামষ্টিক অর্থনীতি, সুশাসন, গণতন্ত্রসহ সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে সংস্কারের প্রস্তাব বা শর্ত জুড়ে দেয়। আইএমএফ তিনটি উইন্ডোতে ঋণ দিচ্ছে। এক্সটেন্ডেড ক্রেডিট ফ্যাসিলিটি (ইসিএফ), এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফ্যাসিলিটি (ইইএফ) এবং রেজিলিয়েন্স এন্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটি (আরএসএফ)। আরএসএফ নতুন একটা উইনডো, যা জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত। এতে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং এর সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর ব্যবস্থা শক্তিশালী করার কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে এমন একটা অবস্থা থাকতে হবে, যাতে জলবায়ু সম্পর্কিত অনেক বিনিয়োগ হয়। জলবায়ু বা পরিবেশবান্ধব শিল্প-কারখানা করতে হবে। জীবাশ্ম জ¦ালানি কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ¦ালানি বাড়াতে হবে। শিল্প-কারখানা থেকে দূষণ বন্ধ করতে হবে। এছাড়া রাজস্ব বাড়াতে আইএমএফ ভ্যাট অবকাঠামোর সরলীকরণ, রাজস্ব প্রশাসনের আধুনিকায়ন ও বড় করদাতাদের কাছ থেকে ঠিকমতো কর আদায় করতে না পারার ঝুঁকি কমানোর ব্যবস্থাপনার মতো লক্ষ্য নির্ধারণের সুপারিশও করেছে। ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বেশকিছু সুপারিশ করে আইএমএফ বলেছে, ব্যাংক খাতে উচ্চমাত্রার খেলাপি ঋণ বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সমস্যা। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে এ সমস্যা অনেকটাই প্রকট। শর্তগুলো মানা দেশের জন্যও কল্যাণকর। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দেশের অর্থনীতিতে যে সংকট তৈরি হয়েছে, সেটি কাটাতে আইএমএফসহ দাতা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে ঋণ নেয়ার কোনো বিকল্প নেই। আইএমএফের ঋণ নিশ্চিত হওয়াতে বিদেশিদের কাছে বাংলাদেশ সম্পর্কে ইতিবাচক বার্তা যাবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়