অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় আইএমএফের ঋণ স্বস্তি দেবে

আগের সংবাদ

জাকাত তহবিল ব্যবস্থাপনা বিল ২০২২ : দেশের দারিদ্র্য দূরীকরণে ভূমিকা রাখবে

পরের সংবাদ

প্রাইভেট-কোচিং বাণিজ্য

রাশিদা বেগম

সহকারী অধ্যাপক, পাঁচকান্দি ডিগ্রি কলেজ

প্রকাশিত: নভেম্বর ১১, ২০২২ , ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ১১, ২০২২ , ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ

শিক্ষা একটি জাতির শক্তি। একটি দেশের ভিতকে মজবুত করে শিক্ষা। শিক্ষা মানুষের চিন্তা-চেতনাকে উন্নত করে, রুচিবোধে পরিবর্তন আনে, জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করে, আত্মাকে বিশুদ্ধ করে। ফলে সমাজে মানুষের আত্মমর্যাদার পথ তৈরি হয়। প্রতিটি মা-বাবা সন্তান মানুষ করার জন্য অসঙ্কোচে অর্থ ব্যয় করে থাকেন। দিন-রাত কঠোর পরিশ্রম করেন। সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করে যাচ্ছেন। শ্রম, অর্থ, সময় দিতে কেউ কার্পণ্য করেন না। সবাই হয়তো একরকম সচেতন নয়। কেউ কেউ হয়তো পড়ার তাগিদ কম দেন, অর্থ দিয়েই দায়িত্ব পালন করে থাকেন। তবে কনশাস অভিভাবক সন্তানের পেছনে সব সময় লেগে থাকেন। তবুও আমি মনে করি আশানুরূপ ফলাফল পাচ্ছেন না। কেন পাচ্ছেন না সেটাও গভীরভাবে ভেবে দেখেন না। দেখলেও কিছু করার নেই। যে সমস্যা দেশব্যাপী সেই সমস্যায় কয়েকজন কথা বললে ফলাফল শূন্য ছাড়া আর কী হবে? আমি দেখেছি একজন শিক্ষার্থী ২ বছর ক্লাস করেছে, ২ বছর প্রতিটি সাবজেক্ট প্রাইভেট পড়েছে। তার ন্যূনতম চেষ্টা না থাকলে এত প্রাইভেটে যেত না। প্রশ্ন হচ্ছে, সেই শিক্ষার্থী ৩-৪ বিষয়ে কেন ফেল করবে? এমন হাজার হাজার স্টুডেন্ট পাস করতে হবে সেই ঘোরে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে প্রাইভেটে ঝুঁকছে। কিসে ভালো, কিসে ক্ষতিগ্রস্ত সেই বোধও লোপ পেয়েছে।
অভিভাবকরা অল্প বয়সে ক্লাসে ভর্তি করেন, অল্প সময়ে সিলেবাস শেষ করার তাগিদ, ক্লাসে প্রথম হওয়ার চাপ দিয়ে থাকেন। এক বছরের পড়াকে যে কোনোভাবে ৬ মাসে শেষ করার জন্য বেশিরভাগ মা-বাবা সন্তানের পেছনে উঠেপড়ে লেগে থাকেন। এমনকি শিক্ষকের পেছনে দৌড়ান। ক্লাসে দুই বছরের পড়া এক বছরে শেষ করতে পারলে শিক্ষামন্ত্রী তো এক বছর সময়ই দিতেন। সাধারণ মানুষকে বোঝানো কষ্টদায়ক। শ্রেণিকক্ষের পড়ায় তাদের মনোযোগ নেই। কবে বই শেষ হবে সেই ধৈর্য তারা রাখেন না। শিক্ষার্থীদের ধ্যান, জ্ঞান, মস্তিষ্কের টান সকাল, বিকাল প্রাইভেট। প্রাইভেটে যা পড়ে ক্লাসে আর শোনার প্রয়োজন মনে করে না। ফলে ক্লাসে প্রচুর গল্প-গুজব এরা করে, পরিবেশ হয় দূষিত। এতে ভালো, অসচ্ছল শিক্ষার্থী মনোযোগ রাখতে পারছে না।
অর্থের নেশা মানুষকে কিছু ভালো কাজ থেকে দূরে রাখে। সব শিক্ষকের নৈতিকতাও একরকম নয়। তাই কিছু শিক্ষক প্রাইভেট না পড়লেও টাকা দিতে বাধ্য করে। না হয় খাতায় নম্বর কম দেবে। ক্লাসের পড়া ক্লিয়ার হয় না, প্রাইভেটে কিছুটা ক্লিয়ার হয়। কারণ প্রাইভেটে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ানোর কৌশল।
ব্যাচের পর ব্যাচ পড়িয়ে ক্লান্ত একজন শিক্ষক অর্থের ঘোরে মানসিক শান্তি পেতে পারেন। কারণ স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সুখে থাকবেন। কিন্তু সেই ক্লান্ত শিক্ষকের ক্লাসে দাঁড়ানোর সক্ষমতা কতটুকু ভেবে দেখার বিষয়। কোনোরকম ক্লাসে দাঁড়াতে পারলে সরকারি অংশের বেতন মাস শেষে আসবে। এতে না হয় শিক্ষক ভালো থাকবে। শিক্ষার্থীর কী হবে? কী হবে শিক্ষাব্যবস্থার? ব্যবসা আর শিক্ষা এক জিনিস নয়। একটিতে স্বার্থ জড়িত, অন্যটি মানুষ তৈরি। জাতি গঠনের সুযোগ সৃষ্টি। ব্যক্তির স্বার্থ যেখানে জড়িত মনুষ্যত্ব সেখানে অনুপস্থিত। এটা শিক্ষক সমাজেই যদি না থাকে শিক্ষা ধ্বংসের মুখে পতিত হবে। যে ভিত্তির ওপর জাতি দাঁড়াবে তা মূলত শিক্ষা। শিক্ষাক্ষেত্রে যতœ না নিলে বদ্ধ পুকুরের পানির মতো শিক্ষা কার্যক্রম এক জায়গায়ই ঘুরপাক খাবে। অপরিমেয় প্রাণশক্তি, মেধাশক্তি ও প্রখর চিন্তার অধিকারী শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের পথে প্রথম বাধা তার মা-বাবা, দ্বিতীয়ত শিক্ষক, তৃতীয়ত শিক্ষা কার্যক্রমে জড়িত যারা তাদের উদাসীনতা। তবে প্রতিষ্ঠানে কী হচ্ছে সহজে জানার কথা নয়। মনিটরিং দরকার ছিল। শিক্ষা নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের এ ভেতরগত বিষয়গুলো নিয়ে ভাবা উচিত। ভেতরে ক্ষত রেখে ওপর দিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে সাজিয়ে রাখলেই শিক্ষার উন্নতি হবে না। একমাত্র শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়ের পক্ষেই সম্ভব সমস্যার জায়গা চিহ্নিত করে সমাধানের পথ খুঁজে বিষয়গুলো সহজ করা।

রাশিদা বেগম : সহকারী অধ্যাপক, পাঁচকান্দি ডিগ্রি কলেজ ,মনোহরদী, নরসিংদী।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়