জি-২০ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র-চীন মুখোমুখি

আগের সংবাদ

প্রাইভেট-কোচিং বাণিজ্য

পরের সংবাদ

অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় আইএমএফের ঋণ স্বস্তি দেবে

প্রকাশিত: নভেম্বর ১১, ২০২২ , ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ১১, ২০২২ , ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ

বৈদেশিক মুদ্রার সংকট কাটাতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ৪৫০ কোটি বা সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণসহায়তা পাচ্ছে বাংলাদেশ। এটা স্বস্তির খবর। তবে এর ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া যেন যথাযথভাবে হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। ঋণের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে পারব- এটাই আমাদের আকাক্সক্ষা। গত বুধবার আইএমএফের সঙ্গে সরকারের কর্মকর্তা পর্যায়ে প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে ঋণ প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর সংস্থাটির পর্ষদের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া যাবে বলে আইএমএফ থেকে জানানো হয়েছে। আর পর্ষদের অনুমোদন পেলে সাত দফায় পুরো ঋণ ছাড় করতে সময় লাগবে ৪২ মাস। এক বছরের বেশি সময় ধরে দেশে ডলারের তীব্র সংকট চলছে। রপ্তানি ও রেমিট্যান্স আয়ের চেয়ে দেশের আমদানি ব্যয় অনেক বেশি হওয়ায় গত অর্থবছরে সরকারের চলতি হিসাবের পাশাপাশি ব্যালান্স অব পেমেন্টে রেকর্ড ঘাটতি তৈরি হয়। চলতি অর্থবছরে এ ঘাটতি আরো স্ফীত হচ্ছে। এ অবস্থায় সংকট মেটাতে আইএমএফের কাছে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণসহায়তা চেয়েছিল বাংলাদেশ। আইএমএফ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঋণ দেয়ার আগে সেখানকার সামষ্টিক অর্থনীতি, সুশাসন, গণতন্ত্রসহ সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে সংস্কারের প্রস্তাব বা শর্ত জুড়ে দেয়। আইএমএফ তিনটি উইন্ডোতে ঋণ দিচ্ছে। এক্সটেন্ডেড ক্রেডিট ফ্যাসিলিটি (ইসিএফ), এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফ্যাসিলিটি (ইইএফ) এবং রেজিলিয়েন্স এন্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটি (আরএসএফ)। আরএসএফ নতুন একটা উইনডো, যা জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত। এতে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং এর সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর ব্যবস্থা শক্তিশালী করার কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে এমন একটা অবস্থা থাকতে হবে, যাতে জলবায়ু সম্পর্কিত অনেক বিনিয়োগ হয়। জলবায়ু বা পরিবেশবান্ধব শিল্প-কারখানা করতে হবে। জীবাশ্ম জ্বালানি কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাড়াতে হবে। শিল্প-কারখানা থেকে দূষণ বন্ধ করতে হবে। শর্তগুলো মানা দেশের জন্যও কল্যাণকর। শুরুতে আইএমএফের কাছ থেকে ঋণগ্রহণ নিয়ে দোদুল্যমানতা তৈরি হয়েছিল। অস্বস্তি দেখা দিয়েছে সরকারি নানা সংস্থায়ও। দুপক্ষের আলোচনায় ঋণপ্রাপ্তির বিষয়টা ইতিবাচক হয়েছে- এটিই স্বস্তি। আমাদের অর্থনীতি এরই মধ্যে চাপের মধ্যে রয়েছে। রিজার্ভের ক্ষয় অব্যাহত আছে। প্রতি মাসে ১ থেকে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের মতো রিজার্ভ কমছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দেশের অর্থনীতিতে যে সংকট তৈরি হয়েছে, সেটি কাটাতে আইএমএফসহ দাতা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে ঋণ নেয়ার কোনো বিকল্প নেই। আইএমএফের ঋণ নিশ্চিত হওয়াতে বিদেশিদের কাছে বাংলাদেশ সম্পর্কে ইতিবাচক বার্তা যাবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর প্রতি তৈরি হওয়া বিদেশি ব্যাংকের আস্থার ঘাটতিও কেটে যাবে আশা করা যায়।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়