কারো নাম ভাঙিয়ে নদী দখল-দূষণ মেনে নেয়া হবেনা

আগের সংবাদ

আসন্ন সংকটে আমাদের করণীয়

পরের সংবাদ

প্রশ্নপত্রে সাম্প্রদায়িক উসকানি : দোষীদের কোনো ছাড় নয়

প্রকাশিত: নভেম্বর ৯, ২০২২ , ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ৯, ২০২২ , ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ

প্রশ্নপত্র ফাঁস, ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষার সঙ্গে এবার প্রশ্নপত্রে সাম্প্রদায়িক উসকানিসহ নানা গাফিলতি দেখা যাচ্ছে। এমতাবস্থায় প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে পরীক্ষা ব্যবস্থাপনাও। উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমান পরীক্ষার প্রথমদিন গত রোববার কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি বাংলা প্রথম পত্রে সিলেবাসের বাইরে থেকে প্রশ্ন করা হয়েছে। সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক উদ্দীপক তুলে দেয়া হয় বাংলা প্রথম পত্রের প্রশ্নে। এ নিয়ে সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এটি রীতিমতো ধর্মীয় উসকানির শামিল। প্রণীত প্রশ্নে একটি উদ্দীপকে বলা হয়- ‘নেপাল ও গোপাল দুই ভাই। জমি নিয়ে বিরোধ তাদের দীর্ঘদিন। অনেক সালিশ-বিচার করেও কেউ তাদের বিরোধ মেটাতে পারেনি। কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। এখন জমির ভাগ বণ্টন নিয়ে মামলা চলছে আদালতে। ছোট ভাই নেপাল বড় ভাইকে শায়েস্তা করতে আব্দুল নামে এক মুসলমানের কাছে ভিটের জমির এক অংশ বিক্রি করে। আব্দুল সেখানে বাড়ি বানিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। কোরবানির ঈদে সে নেপালের বাড়ির সামনে গরু কোরবানি দেয়। এই ঘটনায় নেপালের মন ভেঙ্গে যায়। কিছুদিন পর কাউকে কিছু না বলে জমি-জায়গা ফেলে সপরিবারে ভারতে চলে যায় সে।’ শিক্ষাবিদরা বলছেন, দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িকতা শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলেও প্রশ্নপত্রে ভিন্ন চিত্র ফুটে উঠেছে। এছাড়া গত ১৫ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া চলতি বছরের মাধ্যমিক ও সমমান পরীক্ষায় দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে কুড়িগ্রামে কয়েকটি বিষয়ের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটে। ওই পরীক্ষায়ও প্রশ্নপত্রে গুরুতর বানান ভুল, পরীক্ষা কক্ষে ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণ, বিলম্বে প্রশ্ন বিতরণসহ পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় গুরুতর ত্রæটি-বিচ্যুতি ধরা পড়ে। সে সময় তিন শিক্ষককে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় আটক করেছিল পুলিশ। এর আগে বড় আকারে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটে ২০১৪ সালে। এরপর ২০১৭ সালেও একবার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ আসে। প্রশ্ন ফাঁস এখন আমাদের শিক্ষাক্ষেত্রে একটা কালব্যাধি হয়ে দেখা দিয়েছে। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা, পাবলিক পরীক্ষা, চাকরিতে নিয়োগ পরীক্ষা থেকে শুরু করে মাধ্যমিক ও প্রাথমিক পর্যায়ের বার্ষিক পরীক্ষা কোনো কিছুই বাদ যাচ্ছে না প্রশ্ন ফাঁস চক্রের থাবা থেকে। অথচ শুরুর দিকে প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি স্বীকারই করত না সরকার তথা মন্ত্রণালয়। এখন স্বীকার করলেও বাস্তবতা হলো সরকারের কর্তাব্যক্তিদের প্রশ্ন ফাঁস রোধে নেয়া নানা ব্যবস্থার কোনো কার্যকর ফল দেখা যাচ্ছে না। আমরা মনে করি, প্রশ্ন ফাঁস রোধে প্রশ্ন ছাপা ও বিতরণের কাজে জড়িত শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারী কাউকেই সন্দেহের বাইরে রাখার সুযোগ নেই। প্রশ্ন ফাঁস রোধ করতেই হবে। এর জন্য ফাঁসের সবকটা রন্ধ্র বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে সরকারকে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে সাম্প্রদায়িক উসকানি দিতে একটা পক্ষ সক্রিয়। এদের চিহ্নিত করা জরুরি। শিক্ষাক্ষেত্রে যারা সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়ানোর চেষ্টা করছে তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেয়া যাবে না। অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষসহ সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়