শাহজালালে মশা তাড়াতে গাপ্পি মাছ

আগের সংবাদ

বড়দের মোবাইল আসক্তি

পরের সংবাদ

কর্ণফুলী ও হালদা নদী সংকটাপন্ন : দখল-দূষণ বন্ধে পরিকল্পিত ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নিন

প্রকাশিত: নভেম্বর ৮, ২০২২ , ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ৮, ২০২২ , ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ

দেশের নদীগুলোর অবস্থা যে মুমূর্ষু, তা নদীর সার্বিক চিত্র পর্যবেক্ষণ করলেই বোঝা যায়। এর পেছনে দূষণ-দখলদারিত্ব থেকে শুরু করে নানা অনিয়ম জড়িত। চট্টগ্রাম নগরী যে নদীকে কেন্দ্র করে বন্দরনগরীতে পরিণত হয়েছে, সেই কর্ণফুলী নদীর দখল-দূষণ রোধে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছে। পরিবেশবাদী সংগঠন, সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও নদী কমিশনের নানা উদ্যোগের ফলে কর্ণফুলী নদীর বেশ কিছু অংশ থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা গেলেও এখনো রয়ে গেছে কয়েক হাজার অবৈধ দখলদার। পাশাপাশি বিভিন্ন কলকারখানা ও নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে খাল, নালা-নর্দমা দিয়ে বিষাক্ত ও দূষিত বর্জ্য, পলিথিন, প্লাস্টিক, রাবার জাতীয় অপচনশীল দ্রব্য সরাসরি কর্ণফুলী ও হালদা নদীতে গিয়ে পড়ছে। ফলে এ দুটি নদীতে প্রতিনিয়ত দূষণ বেড়েই চলেছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে দখল ও দূষণের এ মহোৎসব চলতে পারে না। উচ্চতর আদালতের নির্দেশনা থাকলেও নদী দখল ও দূষণকারীদের বিরুদ্ধে তেমন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি দায়িত্বপ্রাপ্তরা। উচ্ছেদ প্রক্রিয়া চালানো এবং উচ্ছেদ করা অংশ আবার যাতে বেদখল হয়ে না যায় সেজন্য বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নিতে হবে। কিন্তু যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ, লোকবল ও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন, তা না পাওয়ায় এ উদ্যোগ স্থবির রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অবিলম্বে এসব সীমাবদ্ধতা দূর করে কর্তৃপক্ষকে কর্ণফুলী ও হালদাসহ দেশের সব নদনদীর দখল ও দূষণ রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। গতকাল কর্ণফুলী নদীসহ অন্যান্য নদী, খাল-বিল-জলাশয় দখল ও দূষণ সরজমিন পরিদর্শনসহ পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে নির্দেশনা দিতে জাতীয় নদী কমিশনের টিম চট্টগ্রাম সফরে গিয়েছেন। আমরা আশা করি, এতে নদী রক্ষা কার্যক্রম আরো বেগবান হবে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা অনুযায়ী, প্রতিদিন চট্টগ্রাম নগরী থেকে নানাভাবে প্রায় আড়াইশ টন পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য কর্ণফুলী নদীতে পড়ছে। এসব বর্জ্য মাছসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় মানবদেহে প্রবেশ করছে। এতে বাড়ছে বিভিন্ন রোগ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি। এছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা মতে, দখল-দূষণে কর্ণফুলী নদী ও এর তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকার উদ্ভিদ ও জীববৈচিত্র্য সংকটাপন্ন। এর মধ্যে ৮১ প্রজাতির উদ্ভিদ বিলুপ্তির পথে এবং ৬১ প্রজাতির উদ্ভিদ বিপন্ন হয়ে পড়েছে। দূষণ ঠেকাতে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে আরো ৬১ প্রজাতির উদ্ভিদ বিপন্ন হয়ে যাবে। কর্ণফুলী নদীর পাশাপাশি দেশের একমাত্র জোয়ার-ভাটার প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হালদা নদীও নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কলকারখানার বিষাক্ত বর্জ্য খাল, নালা-নর্দমার মাধ্যমে নদীতে ফেলার কারণে মাছ ও জলজ প্রাণী নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রায়ই মৃত ডলফিন ভেসে উঠছে হালদা নদীতে। হালদা নদীকে জাতীয় হেরিটেজ ঘোষণা করা হলেও এর প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় তেমন কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়া দুঃখজনক। প্রাকৃতিক এই মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র রক্ষা করতেই হবে। নদীকে জীবন্ত সত্তা ঘোষণা দিলেও সেই আদেশ লঙ্ঘন করে দখল আর দূষণের মাধ্যমে নদীকে হত্যা করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে জনসচেতনতা ও আইনের কঠোর প্রয়োগের বিকল্প নেই। নদীগ্রাস আগামী দিনে পরিবেশসহ সার্বিক পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি ঘটাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কর্ণফুলীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। যেভাবেই হোক কর্ণফুলী ও হালদা নদী দখল ও দূষণমুক্ত করতে হবে। এ বিষয়ে অবিলম্বে সরকারের পরিকল্পিত ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ দেখতে চাই।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়