১০ ডিসেম্বর বাড়াবাড়ি করলে বিএনপিকে ছাড় নয়

আগের সংবাদ

পল্লীবন্ধুর স্বপ্ন ও জাপার সংকট

পরের সংবাদ

মন্দার প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ জরুরি

প্রকাশিত: নভেম্বর ৭, ২০২২ , ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ৭, ২০২২ , ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ

ডলার সংকট দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে। এতে করে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি আশঙ্কাজনক জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে। রপ্তানি ও রেমিট্যান্স আয় বাড়াতে না পারায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও টান পড়েছে। মূলত, মহামারি ও ইউক্রেন সংকটের ফলে ধেয়ে আসা ‘কমোডিটি শক’ এবং বিশ্ববাজারে আমদানি পণ্যের উচ্চমূল্যের ফলে মাত্রাতিরিক্ত আমদানি ব্যয় এর জন্য দায়ী। বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ৭টি সংকট বিরাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে- ডলার সংকট, জ¦ালানির উচ্চমূল্য, অস্বাভাবিক মূল্যস্ফীতি, খাদ্য ঘাটতির শঙ্কা, জলবায়ু পরিবর্তন, যুদ্ধ ও করোনা পরিস্থিতি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপের কথা বলা হচ্ছে। বিশেষ করে এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে অপ্রয়োজনীয় আমদানি নিরুৎসাহিত করা খুবই জরুরি। প্রয়োজনে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় পুরোপুরি বন্ধ করা, অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটার লাগাম টেনে ধরা, দুর্নীতিকে কঠোর হস্তে দমন করা এবং দুর্নীতিবাজদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার বিকল্প নেই। জানা গেছে, দেশের বাণিজ্য ঘাটতি সেপ্টেম্বরে ছিল ৩ বিলিয়ন ডলার, আগস্টে ২ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন এবং জুলাইতে ছিল ২ দশমিক ০৮ বিলিয়ন ডলার; অর্থাৎ ঘাটতি কেবল বেড়েছেই। যদিও একই সময়ে এলসি সেটেলমেন্ট বেড়েছে ৩১ দশমিক ৫৬ শতাংশ; এ সময় সেটেলমেন্ট হয়েছে ২২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের। ডলার সংকট প্রকট হওয়ায় সম্প্রতি দাম নির্ধারণ করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এতেও সংকট কমেনি। দামও কমেনি। ডলার সংকট কাটাতে ২০২১-২২ অর্থবছরে রিজার্ভ থেকে ৭ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনোই রিজার্ভ থেকে এক অর্থবছরে এত ডলার বিক্রি করা হয়নি। করোনা মহামারি, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ বিভিন্ন কারণে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বাংলাদেশও এর ক্ষতিকর প্রভাবের বাইরে নয়। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি জরুরি। তবে উদ্বিগ্ন না হয়ে আমাদের সম্মিলিত প্রয়াসে খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও খাদ্য সংকট রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। জাতিসংঘ দুর্ভিক্ষের কথা বলছে। অতীতে আমরা দুর্ভিক্ষ দেখেছি, দেখেছি এর ভয়াবহতা। তেমন দুঃস্বপ্নের দিন আগামীতে আর দেখতে চাই না। আমাদের দেশের ভূমি উর্বর। অনেক অনাবাদি জমি রয়েছে। পরিকল্পিত ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে উচ্চ ফলনশীল বিভিন্ন ফসল উৎপাদনে গুরুত্ব দিলে একদিকে যেমন দেশের চাহিদা মিটবে তেমনি আসন্ন বৈশ্বিক খাদ্য ঘাটতিতে বাংলাদেশ দুর্ভিক্ষপীড়িত দেশগুলোতে খাদ্য জোগান দিয়ে মানবিকতার দৃষ্টান্ত রাখতে সক্ষম হবে। উৎপাদিত পণ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ করার ব্যবস্থাও নিতে হবে। এতে অনেক খাদ্যদ্রব্য নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা পাবে। এছাড়া আমদানিনির্ভর পণ্য যেমন- ভোজ্যতেল, ভুট্টা ইত্যাদি উৎপাদনে কৃষকরা মনোযোগী হলে অনেকটাই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলে আশা করি। এজন্য সরকারি পর্যায়ের পাশাপাশি বেসরকারিভাবেও কৃষকদের প্রণোদনার মাধ্যমে উৎসাহিত করা দরকার। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিপিডির প্রতিবেদনে কয়েকটি সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- সুনির্দিষ্ট কিছু পণ্যের আমদানিতে কর রেয়াত। এতে দাম কিছুটা কমবে। এছাড়া সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে। এককভাবে বা কয়েকজন মিলে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। এটা ভেঙে দিতে হবে। সংস্থাটি বলছে, বাংলাদেশে খাদ্যের দাম দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ইতোমধ্যে দেশের মানুষ খাবার কমিয়ে দিয়েছে। পরিস্থিতি ধীরে ধীরে আরো ঘনীভূত হচ্ছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে শুধু পণ্য সরবরাহে সমস্যা হয়নি, কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে। খাদ্য সংকট মোকাবিলার জন্য আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। সিপিডির প্রস্তাবগুলো আমাদের গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনায় আনতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়