ট্রেনে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণের সিদ্ধান্ত রেলওয়ের

আগের সংবাদ

জিএম কাদেরের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ

পরের সংবাদ

জীবন বাঁচাবে ল্যাবে তৈরি রক্ত

প্রকাশিত: নভেম্বর ৭, ২০২২ , ৯:১৪ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ৭, ২০২২ , ৯:১৪ অপরাহ্ণ

প্রিয় মানুষের জন্য রক্তের প্রয়োজনে ভোগান্তির শেষ থাকেনা মানুষের। গ্রুপ মিলিয়ে রক্ত খুঁজতে গিয়ে সীমাহীন বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। এসব বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি দিতে গবেষণাগার ও ল্যাবে রক্ত তৈরি করেছেন বিজ্ঞানীরা। প্রথমবারের মতো ল্যাবে তৈরি করা এই রক্তের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা চলছে।

বৃটিশ গবেষকরা জানান, বিশ্বে প্রথমবার অল্প পরিমাণে এই রক্ত ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় মানুষের শরীরে প্রয়োগ করা হয়েছে। কয়েক চা-চামচের সম পরিমাণ রক্ত মানুষের শরীরে প্রয়োগ করে পরীক্ষার কারণ হচ্ছে এই রক্তের ভূমিকা ও কার্যকারিতা যাচাই করা। মানুষের শরীরে এই রক্ত ম্যাচ না করলে শরীর তাকে শুরুতেই প্রত্যাখ্যান করে। এর ফলে এই রক্ত দিয়ে চিকিৎসা ব্যর্থ হয়। খবর বিবিসির।

রক্তের সুপরিচিত গ্রুপ- এ, বি, এবি এবং ও গ্রুপের সঙ্গে ল্যাবে তৈরি করা এই রক্ত ভালভাবে ম্যাচ খায়। এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ইউনিভার্সিটি অব ব্রিস্টলের প্রফেসর অ্যাশলে টয়ই বলেন, রক্তের কিছু গ্রুপ আসলেই বিরল। অনেক ক্ষেত্রে একটি দেশে মাত্র ১০ জন মানুষ ওই গ্রুপের রক্ত দান করার সক্ষমতা রাখেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

এতে বলা হয়, বিস্টল, কেমব্রিজ, লন্ডন ও এনএইচএসের ব্লাড অ্যান্ড ট্রান্সপ্লান্ট গবেষণায় সম্মিলিতভাবে জড়িত আছে। লোহিত রক্তকোষের দিকে তারা গুরিুত্ব দিয়েছেন, যা ফুসফুস থেকে অক্সিজেন বহন করে নিয়ে যায় সারা দেহে। গবেষকরা রক্তের সামান্য নমুনা নিয়ে কাজ শুরু করেন। সেখান থেকে স্থিতিস্থাপক স্টেম সেলকে ম্যাগনেটিক বিডস দিয়ে আলাদা করা হয়। এসব সেল লাল রক্তকোষে পরিণত হওয়ার সক্ষমতা রাখে। স্টেম সেলকে ল্যাবরেটরিতে বড় আকারে বর্ধিত হতে অনুকূল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়। সেগুলোকে লোহিত রক্তকোষে পরিণত করতে গাইড দেয়া হয়।

প্রায় তিন সপ্তাহ সময় লাগে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে। এ প্রক্রিয়ায় দেখা যায় শুরুতে প্রায় পাঁচ লাখ স্টেম সেল রূপান্তরিত হয়ে ৫০০০ কোটি লোহিত রক্তকোষে পরিণত হয়েছে। এরপর এই রক্তকে ফিল্টার করে সেখান থেকে পাওয়া যায় প্রায় ১৫০০ কোটি লোহিত রক্তকোষ। এসব রক্তকোষ ট্রান্সপ্লান্টে ব্যবহারের উপযোগী।

প্রফেসর টয়ই বলেন, ভবিষ্যতে এ প্রক্রিয়ায় আমরা অনেক রক্ত তৈরি করতে পারবো। এজন্য আমার মাথায় যে পরিকল্পনা ঘুরছে সেটা হলো একটি পুরো রুম মেশিন দিয়ে পূর্ণ থাকবে ও তা অব্যাহতভাবে দাতার রক্ত থেকে নতুন নতুন রক্ত তৈরি করবে।

প্রথম ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় প্রথম যে দু’জনকে এই রক্ত দেয়া হয়েছে তারা ৫ থেকে ১০ মিলিলিটারের দুটি ডোনেশন ব্যবহার করবেন। এ দুটি ডোজের মধ্যে ব্যবধান থাকবে কমপক্ষে চার মাস। একটি ডোজে দেয়া হবে সাধারণ রক্ত। অন্য ডোজে দেয়া হবে ল্যাবে তৈরি রক্ত। এই রক্তের সঙ্গে ট্যাগ করে দেয়া হয়েছে তেজস্ক্রিয় পদার্থ। এমন তেজস্ক্রিয় পদার্থ মাঝে মাঝে মেডিকেলে ব্যবহার করা হয়। ফলে বিজ্ঞানীরা দেখতে পাবেন এই রক্ত কতদিন শরীরে স্থায়ী হয়। আশা করা হচ্ছে ল্যাবে তৈরি রক্ত সাধারণ রক্তের চেয়ে বেশি শক্তিশালী হবে। লোহিত রক্তকোষ সাধারণত দেহে স্থায়ী হয় প্রায় ১২০দিন বা চার মাস। তারপরই তা বদলে ফেলতে হয়। সুস্থ মানুষের শরীরে তা এমনিতেই বদলে যায়।

এনজে

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়