এ মরণফাঁদ থেকে মুক্তি মিলবে কবে?

আগের সংবাদ

দীর্ঘ হচ্ছে ডলার সংকট

পরের সংবাদ

এডিটর্স গিল্ডের গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা

আ.লীগ সরকারের বিরোধিতা করছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত: নভেম্বর ৬, ২০২২ , ৬:১৯ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ৬, ২০২২ , ৬:২০ পূর্বাহ্ণ

১৯৭১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের বিরোধিতা করেছে। যদিও মার্কিন জনগণ, সুশীল সমাজ, শিল্প সমাজ এবং এডওয়ার্ড কেনেডির মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। বিশ্ব জনমত তৈরিতে আমাদের সহযোগিতা করেছেন। এডওয়ার্ড কেনেডির সন্তান এডওয়ার্ড কেনেডি জুনিয়র স¤প্রতি বাংলাদেশে এসেছিলেন। তার সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ছিলেন। দুজনের মুখ থেকেই একাত্তরে তাদের ভূমিকা ভুল ছিল। এ ধরনের বক্তব্যের প্রেক্ষিতেই মার্কিনীদের বাংলাদেশ সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গির নতুন করে আলোচনা আসে। আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টত আওয়ামী লীগ সরকারের বিরোধিতা করছে।

শনিবার (৫ নভেম্বর) এডিটর্স গিল্ড বাংলাদেশের আয়োজনে ‘মার্কিনিদের বাংলাদেশ রাজনীতি’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন।

বেলা ১১টায় রাজধানীর বনানীর ঢাকা গ্যালারিতে এডিটর্স গিল্ড সভাপতি মোজাম্মেল বাবুর সঞ্চালনায় গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেন সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শমসের মবিন চৌধুরী, সাবেক রাষ্ট্রদূত নাসিম ফেরদৌস, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের গবেষক ও ট্রাস্টি মফিদুল হক, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান, সংস্কৃতি ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, সাবেক সচিব ও রাষ্ট্রদূত মোফাজ্জল করীম, শিক্ষক, গবেষক ও কলামিস্ট অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক এবং ইতিহাসবিদ ও গবেষক অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন।

শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে ভূ-রাজনীতির ইতিহাসে যদি আমরা দেখি সেখানে ৯৯ শতাংশ ভুল। ভিয়েতনাম যুদ্ধ থেকে শুরু করে ইরাক যুদ্ধ, আফগানিস্তান যুদ্ধে তারা নিজেদের জন্য কোনো অর্জন বয়ে আনতে পারিনি। এখানে তাদের দ্বৈতনীতি পরিষ্কার হয়ে উঠে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ একমাত্র অনুন্নত দেশ যে যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশ পায়নি। সম্প্রতি তারা আমাদের দেশের গণতন্ত্র নিয়ে, মানবাধিকার নিয়ে উচ্চবাচ্য করছে। তারা কয়েকটি দেশের উপর চাপ সৃষ্টি করে থাকে। বাংলাদেশকে তারা কেন বেছে নিয়েছে সেটা আমাদের জন্য মূল প্রশ্ন। সম্প্রতি চিনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আরো গভীর হয়েছে, চীন আমাদের অবকাঠামোতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছেন। সেখান থেকে আমাদের দূরে সরিয়ে রাখার অংশ হিসেবে এই চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সূচনাকালীন যে আদর্শ, লক্ষ্য ছিল সেটা থেকে অনেক দূরে সরে এসে ক্ষমতার রাজনীতি করছে। ১৯৭১ সালে তারা বাংলাদেশকে সমর্থন করেনি। যারা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের আশ্রয় দেয় তারা গণতন্ত্রের কথা বলে কি করে। মার্কিনিদের আমাদের সঙ্গে বৈরী দ্বৈত আচরণের কারণ কি কি অপরাধ করেছিলাম তাদের সঙ্গে এই প্রশ্নের জবাবে শিক্ষক ও গবেষক অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক বলেন, সরকার কিংবা রাজনৈতিক দল সব সময় সত্য কথা বলে না। নানান উদ্দেশ্যে একেবারে মিথ্যা কথা বলে। সেটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে দেখা দেয়। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে আমেরিকা এবং চীন দুটি রাষ্ট্র সমর্থন দেয়নি, বিরোধিতা করেছে। ন্যায়সঙ্গত একটি যুদ্ধে তারা আমাদের সমর্থন দেয়নি। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষে আমেরিকা এবং চীন দুটি দেশই ছিল। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পরবর্তী এক সপ্তাহের মাধ্যমে চীন তাদের মত পরিবর্তন করেছে। বর্তমানে দেখা যাচ্ছে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টত আওয়ামী লীগ সরকারের বিরোধিতা করছে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত ও সচিব মোফাজ্জল করীম বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মনে করে তারা পৃথিবীর রাজা। তারা নিজেদের মাসল পাওয়ার মনে করে। তারা মনে করে, তারা যা বলবে তা সবাইকে মানিয়ে চলতে হবে। ৭১ সালে মার্কিনিদের ধারণা ছিল, বাঙালির সামরিক শক্তি নাই, তারা যুদ্ধ করবে না। কয়েক মাসে শেষ হয়ে যাবে যুদ্ধ। অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বলেন, কোনো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকার তাদের স্বার্থের বাইরে কোনো সময় যায়নি। মার্কিনীদের আমাদের প্রতি আগ্রহের কারণ হলো ভূ-রাজনীতি।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়