পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য মজুত আছে, দুর্ভিক্ষ হবে না

আগের সংবাদ

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আগ্রহ নেই চীনের

পরের সংবাদ

রাজধানীতে উজান বইযাত্রার মনোমুগ্ধকর সন্ধ্যা

প্রকাশিত: নভেম্বর ৫, ২০২২ , ৫:৪১ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ৫, ২০২২ , ৫:৪৪ অপরাহ্ণ

আলোচনা, কবিতাঠ, আবৃত্তি আর বইমলোয় মুখর ছিল, গভীর ছিল ‘উজান বইযাত্রা’র ঢাকার সন্ধ্যা। অসুস্থতা সত্বেও বৃহস্পতিবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যার এই আয়োজনে পরীবাগের সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রে উপস্থিত হন বয়োজ্যেষ্ঠ কবি অসীম সাহা এবং কবি ফারুক মাহমুদ। ব্যতিক্রম আনন্দ হলো, পর্যায়ক্রমে দুইজনই ছিলেন অনুষ্ঠানের সভাপতি।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই জেলহত্যা দিবসের শহীদ জাতীয় চার নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন আলোচক ও দর্শকরা।

‘উজান বইযাত্রা’র আলোচনা ছিল উজান প্রকাশনার অনুবাদ গ্রন্থ ‘কোরিয়ার কবিতা’ ও ‘কোরিয়ার গল্প’ নিয়ে। দুর্দান্ত আলোচনা করেছেন কথাসাহিত্যিক আহমদ বশীর, কবি ও প্রাবন্ধকি কুমার চক্রবর্তী, কবি ও অনুবাদক গৌরাঙ্গ মোহান্ত, কথাসাহিত্যিক আহমাদ মোস্তফা কামাল, কথাসাহিত্যিক মনি হায়দার।

বৃহস্পতিবার উজান বইযাত্রার অনুষ্ঠানে আগত দর্শক ও শ্রোতা।

অনুষ্ঠানের সভাপতি কবি অসীম সাহা বলেন, কোরিয়ার অনুবাদ বাংলাদেশে এর আগে তেমন হয়নি। শুধু কোরিয়া না, ফিলিপাইন, শ্রীলংকা, নেপাল, এই দেশগুলোর সাহিত্যের অনুবাদও খুব একটা চোখে পড়ে না। উজান উদ্যোগ নিতে পারে এই দেশগুলোর সাহিত্য অনুবাদ করার জন্য।

কবি ফারুক মাহমুদ বাংলাসাহিত্যের প্রাচীন নিদর্শন চর্যাপদের ভাববস্তুর সাথে কোরিয়ার সাহিত্যের ভাববস্তু ও আঙ্গিকের মিল-অমিলের দিকগুলো তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানের আলোচক কথাসাহত্যিকি আহমদ বশীর ‘কোরিয়ার গল্প’ অনুবাদ সংকলনের বিভিন্ন গল্প থেকে সাহিত্য ও সমাজ বিশ্লেষণ করেন। গল্পগুলোর সাথে আমাদের দেশ ও সমাজের সাথে মিল-অমিলের জায়গাগুলোও দেখান তিনি। জোর দেন বাংলাসাহিত্য বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদের ওপর।

কবি-প্রাবন্ধকি ও অনুবাদক কুমার চক্রর্বতী বলেন, অনুবাদ আমাদের জাতিসত্তায় মিশে আছে। অনুবাদ ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির এবং সমষ্টির সাথে সমষ্টির সংযোগ ঘটায়। বাংলাসাহিত্যের অনুবাদের র্দীঘ ঐতিহ্যের দিকে ইঙ্গতি করেন।

কবি ও অনুবাদক গৌরাঙ্গ মোহান্ত আলোকপাত করেন চীন, জাপান ও কোরয়িার সাহিত্য এবং এই তিন দেশের সাহিত্যের অর্ন্তবস্তুর ওপর। কোরিয়ার সাহিত্যের সাথে বাংলা ও বিশ্বসাহিত্যের তুলনামূলক আলোচনা করেন তিনি। ‘কোরয়িার কবিতা’ ও ‘কোরিয়ার গল্প’ যেসব লেখকের লেখা অর্ন্তভুক্ত হয়নি আগামী সংস্করণে তাদের লেখা অর্ন্তভুক্ত করার ওপর জোর দেন তিনি।

কথাসাহিত্যিক আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেন, সাহিত্য মূলত সংযোগ তৈরি করে দেয়। ‘কোরিয়ার গল্প’ পড়ার পর এখন কোরিয়ার গল্পেও মনে হবে না মানুষগুলো ভিন্ন, মনে হবে এরা আমাদের মতোই একই রকম অনুভূতির মানুষ।

কথাসাহিত্যিক ও টিভি উপস্থাপক মনি হায়দার, বিভিন্ন ভাষার সাহিত্য বাংলাভাষায় অনুবাদের পাশাপাশি সমানতালে বাংলাভাষার সৃমদ্ধ সাহিত্যও বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদের ওপর জোর দনে।

সান্ধ্যকালীন সাহিত্য আয়োজনে সাধারণত যেমন হালকা পলকা আলোচনা হয় ‘উজান বইযাত্রা’র আলোচনায় তা হয়নি। অনুবাদ নিয়ে বাংলাভাষায় অনূদিত বিশ্বসাহিত্য নিয়ে তত্ত্ব ও তথ্যে গুরুগম্ভীর কথা বলেছেন আলোচকরা। তাতেও রস ও হাস্য। উপস্থিত যাঁরা ছিলেন তারাও ছিলেন এই গুরুগম্ভীর কথার সমঝদার। যে কারণে উপস্থিতির ধৈর্য ও মনোযোগ দেখে অবাক হয়েছিলেন কথাসাহিত্যিক আহমদ বশীর। মজা করে বলেন ‘এমন লক্ষ্মীমন্ত দর্শক ও শ্রোতা আর দেখিনি।’

কবি, প্রাবন্ধকি ও অনুবাদক কুমার চক্রর্বতীর আলোচনা ছিল দর্শন ওসাহিত্যের ঘন রসের ক্ষীর। দক্ষিণ-র্পূব এশিয়ার সাহিত্য নিয়ে রীতিমত প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন কবি ও অনুবাদক গৌরাঙ্গ মোহান্ত। কথাসাহিত্যিক আহমাদ মোস্তফা কামাল ও কথাসাহিত্যিক মনি হায়দারের আলোচনা দিয়েই জমে উঠেছিল আলোচনা।

অনুষ্ঠানে ‘কোরিয়ার কবিতা’ থেকে আবৃত্তি করেন আবৃত্তি সংগঠন স্বরশ্রুতির সৈয়দা সালমা শিরিন এবং ফাতিমাতুজ জোহরা তিথি।

কোরিয়ার সাহিত্যের পাশাপাশি বাংলাহিত্যের এই সময়ের তারুণ্যকে উপস্থানের চেষ্টা ছিল এই অনুষ্ঠানে। অনুষ্ঠানে স্বরচিত কবিতা পড়েন তরুণতম তিন কবি (নারী) উম্মে হাবিবা, অনুভব আহমেদ, শতাব্দিকা র্ঊমী।

সব মিলে পরীবাগের সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রে বৃহস্পতিবারের সন্ধ্যা ছিল সাহিত্য মগ্ন। অনুষ্ঠানে উপস্থি ছিলেন কবি, লেখেক, শিল্পী ও সংস্কৃতি অঙ্গনের লোকজন।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়