উত্তরায় বায়িং হাউজে ৬ ককটেল বিস্ফোরণ

আগের সংবাদ

ইসিতে নাকফুল-মুশকিল মশকরা

পরের সংবাদ

যাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক

প্রকাশিত: নভেম্বর ৫, ২০২২ , ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ৫, ২০২২ , ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ

সম্প্রতি দেশের সড়ক-মহাসড়কে ছিনতাই, ডাকাতির ঘটনার খবর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়িয়েছে। গতকাল ভোরের কাগজের এক প্রতিবেদন বলছে, ‘গন্তব্য পার্টি’ নামে একটি চক্র মহাসড়কে আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীদের টার্গেট করে মাইক্রোবাসে উঠিয়ে তারা হাতিয়ে নিচ্ছে সর্বস্ব। কেউ বাধা দিলে তাদের হাত-পা ও মুখ বেঁধে চলন্ত মাইক্রোবাস থেকে ফেলে দেয়া হচ্ছে। কখনো খুন করতেও তারা পিছপা হয় না। ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-রাজশাহী, ঢাকা-রংপুর ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ৩০-৩৫টি জায়গায় প্রায়ই ডাকাতি হচ্ছে; মহাসড়কগুলোতে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ১৫-২০টি গ্রুপ এ অপরাধ করে যাচ্ছে। মহাসড়কে বাসে ডাকাতির ক্ষেত্রে ঢাকার আশপাশের এলাকাগুলোকে বেছে নিচ্ছে অপরাধী চক্রের সদস্যরা। বিশেষ করে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের এলেঙ্গা, মির্জাপুর, কালিয়াকৈর, কবিরপুর, বাইপাইল, নবীনগর, সাভার, হেমায়েতপুর, গেন্ডা, আশুলিয়া, চন্দ্রা, কোনাবাড়ী, ধামরাই, কামালপুর, মানিকগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ, কাঁচপুর, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ রুটে ডাকাতির ঘটনা ঘটছে বেশি। এসব স্থানে অন্তত ১২টি চক্র ডাকাতিতে সক্রিয়। মহাসড়কে ডাকাতির ঘটনা নতুন নয়। তবে এমন অপরাধ বৃদ্ধিতে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নড়েচড়ে বসেছে। জানা গেছে, মহাসড়কে বিভিন্ন যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক এবং প্রাইভেট পরিবহন প্রায় ডাকাতের কবলে পড়ছে। অভিযোগ, ডাকাতির ঘটনায় মামলা করতে গিয়ে হয়রানির ভয়ে অনেক ভুক্তভোগী থানায় যান না। এতে আড়ালেই থেকে যায় অনেক ঘটনা। হাইওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে মহাসড়কে ডাকাতির ঘটনায় সারাদেশে ৬টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ৬ জন এজাহারনামীয়সহ ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিয়মিত ছোট ধরনের ডাকাতি ও অহরহ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও অভিযোগ করেন না ভুক্তভোগীরা। সব মহাসড়ক ও কিছু সড়কে যানবাহনের নিরাপদ ও বাধাহীন চলাচল নিশ্চিত করার জন্য ২০০৫ সালে হাইওয়ে পুলিশ গঠন করা হয়। বর্তমান সরকারের আমলে বাংলাদেশ পুলিশের এ ইউনিটকে প্রয়োজনের তুলনায় কিছু কম হলেও কয়েক দফায় অনেক জনবল এবং টহলের জন্য গাড়িসহ নানা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলো, এরপরও মহাসড়কে তাদের তৎপরতা খুব একটা চোখে পড়ে না। মহাসড়কে ডাকাতি রোধে পুলিশ সদরদপ্তর বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছিল। তার অধিকাংশই এখনও আলোর মুখ দেখেনি। চলতি বছরের শুরুতে মহাসড়কে ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনা প্রতিরোধে পুলিশের পক্ষ থেকে ১৮ দফা সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও সেগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। মহাসড়কে ডাকাতি ঠেকাতে হাইওয়ে পুলিশের টহল জোরদার করা উচিত। এছাড়া প্রতিটি বাসে ক্যামেরা থাকা জরুরি। আর বাসের শেষ কাউন্টার থেকে ছেড়ে যাওয়ার সময় ও হোটেল থেকে বিরতির পরে যদি ভিডিও করা হয়, তাহলে ডাকাতির ঘটনা কমে আসবে বলে আশা করা যায়। এক্ষেত্রে পুলিশের দায় রয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করার ক্ষেত্রে শৈথিল্য রয়েছে। হাইওয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশকে সব সময় সতর্ক ও তৎপর থাকতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়