১ লাখ ২২ হাজার মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

আগের সংবাদ

সাজেদা চৌধুরী, রানি এলিজাবেথের মৃত্যুতে সংসদে শোক প্রস্তাব উত্থাপিত

পরের সংবাদ

সংঘবদ্ধ ধর্ষণে সাবেক স্ত্রীর মৃত্যু, গ্রেপ্তার ৪

প্রকাশিত: অক্টোবর ৩০, ২০২২ , ৬:০৬ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ৩০, ২০২২ , ৬:০৬ অপরাহ্ণ

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে সোনিয়া আক্তার (১৫) নামে এক গৃহবধুকে দলবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে তার সাবেক স্বামীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রবিবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে গৃহবধুর পালক বাবা ফিরোজ আলম বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সাবেক স্বামীসহ নয় জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, সাবেক স্বামী মাহিম ইসলাম (১৯), জয়নাল মিয়া (৪৫), বন্ধু সাকিব হোসেন (১৮), পল্লব হাসান (১৯)।

স্থানীয় ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ৭ দিন বয়সে সোনিয়াকে দত্তক নেন পোগলদিঘা ইউনিয়নের গেন্দারপাড়া গ্রামের ফিরোজ আলম। তার বাড়িতেই বড় হন সোনিয়া। গত বছর আওনা ইউনিয়নের কূলপাল গ্রামের লিপন মিয়ার ছেলে মাহিমের সাথে সোনিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের ৪ লাখ টাকা ও নানা বিষয়ে সোনিয়াকে নির্যাতন করে আসছিল মাহিম ও তার পরিবারের লোকজন। প্রায় ১০ মাস সংসার করার পর নির্যাতন সইতে না পেরে দেড়মাস আগে মাহিমকে তালাক দেন সোনিয়া।

তালাকের কিছুদিন পর থেকে সোনিয়ার সাথে ফের মোবাইল ফোনে নিয়মিত যোগাযোগ শুরু করে মাহিম। একপর্যায়ে গত ২৩ অক্টোবর সোনিয়াকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে যায় মাহিম। পোগলদিঘা ইউনিয়নের ডুরিয়ারভিটা গ্রামে ছানোয়ার হোসেনের বাড়িতে আটকে রেখে ধর্ষণ করে তারা। দুইদিন পর সেখান থেকে একই উপজেলার আওনা ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামে বন্ধু পল্লবের বাড়িতে নিয়ে সংঘবদ্ধ ভাবে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় সোনিয়াকে। এক পর্যায়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে সোনিয়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। অবস্থা বেগতিক দেখে মাহিম ও তার সহযোগিরা রাতেই সোনিয়াকে প্রথমে সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এতে অবস্থার আরো অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন। জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে গত ২৭ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাতে সোনিয়ার মৃত্যু হয়। পরে ময়নাতদন্ত শেষে ২৯ অক্টোবর (শনিবার) বিকেলে সোনিয়ার লাশ গেন্দারপাড়া গ্রামে এনে দাফন করা হয়।

সোনিয়ার মা বানেছা বেগম জানান, যৌতুকের ৪ লাখ টাকা না দেয়ায় সোনিয়াকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নানা নির্যাতন করত স্বামী মাহিম। এ কারণে দেড় মাস আগে সোনিয়া তার স্বামীকে তালাক দেয়। এরপর থেকে মাহিম মোবাইল ফোনে সোনিয়ার সাথে যোগাযোগ শুরু করে। গত মঙ্গলবার সোনিয়াকে মোবাইল ফোনে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে মাহিম ও তার সহযোগীরা ধর্ষণ করে। পরে শুক্রবার সকালে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোনিয়ার মৃত্যু হয়।

সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহব্বত কবীর জানান, এ বিষয়ে থানায় মামলা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত ৪ আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।

এনজে

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়