ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড শুরু ৮ ডিসেম্বর

আগের সংবাদ

‘অগ্রযাত্রায় আলীকদম’ মিশন বাস্তবায়নে কাজ করছি

পরের সংবাদ

আরামে আছি, ফ্যাশনে আছি

প্রকাশিত: অক্টোবর ৩০, ২০২২ , ১০:১৩ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ১, ২০২২ , ৪:৪৫ অপরাহ্ণ

ফ্যাশন আর স্টাইলিংয়ে তারুণ্য যেন এক ধাপ এগিয়ে। সময় আর তারুণ্যের চাহিদা দুয়ে মিলে প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে পোশাকের রঙ, নকশা আর কাটিংয়ে। ফ্যাশনে যোগ হয়েছে প্রাচ্য আর পাশ্চাত্যের ফিউশন। ট্রেন্ডি এই পোশাকে মাঝে মাঝে যোগ করা হয়েছে কিছুটা দেশীয় মোটিফ। রঙ-ঢঙে পাশ্চাত্য প্রভাব থাকলেও দেশি আবহাওয়াতে মানিয়ে গেছে টিন থেকে মাঝ বয়সীদের অবয়বে।

তরুণদের পোশাকগুলোতে কাটিং নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট বেশি হচ্ছে। তবে রুচি ও ব্যক্তিত্বের পার্থক্যে লম্বা ঘরানার লেয়ারিং ফ্যাশনে দেশীয় ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি। ইজি টু ওয়্যার এমন পোশাক নিয়েই এখন কাজ করছে ফ্যাশন হাউসগুলো বা ডিজাইনাররাও। প্যান্ট বা চাপা কাটের সালোয়ারের সঙ্গে কখনো লম্বা শার্ট, কখনো বা টপসের ছাঁটে বানানো হচ্ছে কুর্তি। শুধু কাপড়েই নয়, কাটছাঁটে আরামের বিষয়টি প্রাধান্য দেওয়ায় ফ্যাশনসচেতনদের কাছেও বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে এ ধরনের পোশাক।

সবার আগে চাই স্বাচ্ছন্দ্য

অভিনেত্রী মেহজাবিন চৌধুরীকে প্রায়ই দেখা যায়, প্যান্ট কাটের সালোয়ারের সঙ্গে লম্বা শার্টের আদলে কুর্তির মতো পোশাক পরছেন। বা পড়ছেন অফশোল্ডার টপ। জানালেন, সুতি কাপড়ের হালকা নকশার আরামদায়ক এ ধরনের পোশাক পরে বেশ স্বাচ্ছন্দ্য পান। পোশাক সামলানোটা যাতে বাড়তি চাপ হয়ে না পড়ে, তাই রোজকার পোশাকের তালিকায় থাকে এ ধরনের কাপড়। রোদেলা সকাল, মেঘলা বিকেল কিংবা বর্ষণমুখর রাতে, চট করে কাজের প্রয়োজনে বা কোনো অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় এমন ঢিলেঢালা কাটের কুর্তা-সালোয়ার বেছে নেন। বিশ্বজুড়ে আরামদায়ক পোশাকের ছাঁটের যে ধারা চলছে, সেই ধারাই অনুসরণ করছেন তিনি । তবে তিনি দেশের বাইরে ফিউশন কাটের পোশাক নিয়ে বেশ কিছু নিরীক্ষাধর্মী ফটোশ্যুট করেছেন যা নিয়মিত প্রকাশ করছেন সোশ্যাল মিডিয়াতেও।

ব্যবহার সহজ

অঞ্জন’স ফ্যাশন হাউজের শীর্ষ নির্বাহী শাহীন আহম্মেদ জানান, তাদের ক্যাজুয়াল পোশাকগুলো এমন, যা পরে অফিসে যাওয়া যায়, আবার অফিস সময়ের পর বেড়াতে যাওয়াও চলে। এসব পোশাকে আছে পরিশীলিত ও অভিজাত লুক, কিন্তু পোশাকে কারুকাজ থাকে খুব কম। প্রশান্তিদায়ক রংগুলোই বেছে নিয়েছেন তারা। এ-লাইন কিংবা টেন্টের মতো তীক্ষ প্যাটার্নের পোশাক এ সময়ের উপযোগী। আরামের দিক বিবেচনায় রেখে এসব পোশাকে ব্যবহার করা হয়েছে ভিসকস, পলিয়েস্টার আর রেয়ন কাপড়। অনেকে পলিয়েস্টারকে ঠিক মানসম্মত কাপড় মনে করেন না।

অনুষঙ্গে উজ্জ্বল, কাটে বৈচিত্র্যময়

অনলাইনভিত্তিক ফ্যাশন লেবেল কালারস থ্রেড এর উদ্যোক্তা আশরাফুন্নাহার চৈতী বললেন, হুটহাট যাদের বাইরে যেতে হয়, তাদের কথা মাথায় রেখেই কাজ করেন তিনি। কাপড় যদি হয় খসখসে কিংবা পরে হাঁসফাঁস লাগে, তাহলে কাজকর্ম কি আর ঠিকঠাক করা যায়? গরমে কাজের সময় আরামটা যাতে নিশ্চিত হয়, সেটা বিশেষভাবে খেয়াল রাখেন। পাশাপাশি পোশাকে টার্সেল, কড়ি কিংবা পমপমের মতো অনুষঙ্গের যোগে আনেন দেশীয় আমেজ। ছিমছাম, পরিপাটি লুক আনতে পোশাকের কাটের ওপর গুরুত্ব দেয় রঙিন পিরান। পোশাকের নিচের দিকটায় একটু ঢিলেঢালা কাট রাখা হলে আরাম পাওয়া যায় বেশ আর বৈচিত্র্যময় কাটে দেখায়ও অনন্য। সুতি কাপড় দিয়েই তৈরি করা হয় এসব পোশাক। পাশাপাশি তিনি যুক্ত করেন হাল ফ্যাশনের লেয়ারিং লং ফ্রকের কথা। উৎসব আমেজ ছাড়া বছরজুড়ে জনপ্রিয় এই পোশাক। চৈতী আরো জানান, দেখতে সুন্দর আর আরামের কারণে দিন দিন বাড়ছে এর চাহিদা। প্রথম দিকে টিন ফ্যাশনে জায়গা করে নিলেও বর্তমানে প্রায় সব বয়সীর ব্যবহারের তালিকায় রয়েছে এই পোশাক। প্যান্ট, প্লাজো, টাইসের সঙ্গে দিব্যি মানিয়ে যায়। সাধারণ ব্যবহার ছাড়াও উৎসব আনন্দে বাড়তি চাহিদা থাকে লেয়ারিং ফ্রকের।

বাজার ঘুুরে দেখা গেছে তারুণ্যের চাহিদার কথা মাথায় রেখে ডিজাইনাররাও নিত্যনতুন নকশা করছেন এই ফিউশন পোশাক নিয়ে। কিছু পোশাকের নকশা করা হয়েছে ফ্রকের ওপরে লং কটি দিয়ে আবার কোনটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কোমর পর্যন্ত শর্ট কটি। ইদানীং কটি স্টাইল লং, সেমি লং ফ্রক আর কামিজগুলো বেশ চলছে। কটিসহ তৈরি হচ্ছে ঘের দেওয়া লং ফ্রক আর কিছুটা কম ঘেরে শর্ট ও লং কটির কামিজ। তবে কামিজগুলো সেমি লং স্টাইলেই তৈরি করা হচ্ছে। এসব পোশাকের সুবিধা হলো ওড়না ছাড়া পরা যায়। ফেব্রিক হিসেবে লিনেন, ভিসকচ, প্রিন্ট ফেব্রিক, সুতি, তাঁত, মিক্সড ফেব্রিক, গেঞ্জি কাপড়, জর্জেট আর সিল্ক ব্যবহার করা হচ্ছে। ভ্যালু অ্যাড করা হচ্ছে বয়স অনুযায়ী। যেমন টিন ফ্যাশনের কথা চিন্তা করে ডিজাইনাররা যোগ করছেন একটু বাড়তি নকশা। ব্লক, এমব্রয়ডারি, সিকুইন, টাইডাই, হাতের কাজ, স্ক্রিন প্রিন্ট কাটিং বেইস নকশা আর হাল ফ্যাশনে যুক্ত হওয়া নানা রকম লেইস, টারসেল ও পমপম।

আরামে আছি, ফ্যাশনে আছি

বাইরে যাওয়ার আগে রোজ রোজ পোশাক বদলাতেই যদি সময় চলে যায়, তবে কাজ করব কখন? তাই এমন পোশাক চাই, যা পরা সহজ, পরে আরাম আবার চলাফেরাও করা যায় স্বাচ্ছন্দ্যে সর্বোপরি দেখতেও হয় ফ্যাশনেবল।

মডেল : মেহজাবিন চৌধুরী

এমকে

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়