ছেঁউড়িয়ায় বসেছে সাধুর মেলা

আগের সংবাদ

৫৭ জেলা পরিষদে ভোটগ্রহণ চলছে

পরের সংবাদ

২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা

প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে চলছে ইলিশ শিকার

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৭, ২০২২ , ৮:৫৫ পূর্বাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ১৭, ২০২২ , ৮:৫৫ পূর্বাহ্ণ

ইলিশ শিকার, বিপণন ও মজুত করার ওপর বর্তমানে সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলমান থাকলেও গোয়ালন্দের পদ্মা নদীতে থেমে নেই মা ইলিশ নিধন। প্রশাসনের অভিযানকে ফাঁকি দিয়ে নির্বিচারে চলছে ইলিশ শিকার।

জানা যায়, মা ইলিশের নিরাপদ প্রজননের জন্য সরকার ৭ আক্টোবর থেকে ২৮ আক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ শিকার, মজুত ও বিপণন নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে নিষেধাজ্ঞা কালীন সরকার জেলেদের মধ্যে চাল বিতরণ করেছে। জেলেদের সচেতন করতে মৎস্য বিভাগ নিষেধাজ্ঞার বেশ কিছুদিন আগে থেকেই প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছে। কিন্তু এত কিছুর পরও বন্ধ করা যায়নি পদ্মায় ইলিশ শিকার।

গত শুক্রবার বিকাল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সরজমিন পদ্মা নদীর দৌলতদিয়া বাহির চর, চর কর্ণেশন কলাবাগান এলাকায় দেখা যায়, অনেক জেলেই নৌকা নিয়ে নির্বিঘ্নে মাছ শিকার করছেন। জেলেরা পদ্মা নদীতে ইলিশ মাছ শিকার করে দৌলতদিয়া চর কর্ণেশন এলাকার দুর্গম কলাবাগানে বিক্রি করছে। সেখানে ক্রেতাদের ভিড়ও ছিল চোখে পড়ার মতো। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের আনাগোনা তৈরি হয়েছে অস্থায়ী মাছবাজার। আবার অনেক ক্রেতা জেলেদের সোর্সদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নির্দিষ্ট স্থান থেকে মাছ কিনে নিচ্ছেন। কলাবাগান ছাড়াও দৌলতদিয়া ইউনিয়নের দুলাল বেপারীপাড়া, আইনদ্দিন প্রামাণিক পাড়াসহ আরো বেশ কয়েকটি স্থানে ইলিশ বিক্রয় হচ্ছে। কলাবাগান এলাকায় দেখা যায়, নিষেধাজ্ঞাকালীন পান-সিগারেট ও নাস্তার দোকানসহ বেশ কিছু ভ্রাম্যমাণ দোকান বসেছে।

খোঁজ নিয়ে যানা যায়, দৌলতদিয়া আক্কাছ আলী হাইস্কুলে সড়ক ও বাহির চর দৌলতদিয়া ছাত্তার মেম্বার পাড়া এলাকা থেকে প্রশাসনের অভিযান দেখলেই জেলেদের সোর্স মোবাইল ফোনে জেলেদের কাছে তথ্য পৌঁছিয়ে দেয়। প্রকৃত জেলেদের পাশাপাশি বেশ কিছু মৌসুমি জেলেরাও (শুধু নিষেধাজ্ঞাকালীন ইলিশ শিকারি) ইলিশ শিকারে নেমেছেন।

ফারুক শেখ নামের এক মাছ ক্রেতা বলেন, ‘জেলেদের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করে কলাবাগান এলাকা থেকে ইলিশ মাছ কিনে নিলাম। কলাবাগান এলাকায় ক্রেতার সংখ্যা বেশি। তবে মাছের দাম স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কম না।’

নাম প্রকাশ না কারা শর্তে এক জেলে জানান, কয়েকটি পয়েন্টে তাদের লোক মোবাইল নিয়ে বসে আছে। প্রশাসনের লোক দেখলেই তাদের কাছে ফোন চলে আসে। এরপর তারা দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যায়। তিনি আরো বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এ বছর পদ্মা নদীতে বড় সাইজের ইলিশের সংখ্যা বেশি।’

গোয়ালন্দ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহারিয়ার জামান সাবু জানান, ইলিশ শিকার বন্ধে তারা নিয়মিত পদ্মা নদীতে অভিযান পরিচালনা করে আসছেন। অভিযানে শনিবার ৩ জেলেকে কারাদণ্ড ও এক জেলেকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এ সময় অন্তত ২০ হাজার মিটার জাল ও ১০ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়। পদ্মা পাড়ের কয়েকটি স্থানে ইলিশ শিকার করে বিক্রির খবর শুনেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে ওইসব স্থানে কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হবে।

এমকে

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়