আন্ডার ফ্রিকোয়েন্সির কারণে বিদ্যুৎ বিপর্যয়

আগের সংবাদ

ত্রিদেশীয় সিরিজ: ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ

পরের সংবাদ

অসম যুদ্ধে কোন জাদুবলে টিকে আছে ইউক্রেন

প্রকাশিত: অক্টোবর ৭, ২০২২ , ৮:১৬ পূর্বাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ৭, ২০২২ , ৮:১৬ পূর্বাহ্ণ

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার প্রাথমিক পর্যায়ে ইউক্রেন কিংবা পশ্চিমা বিশ্বের খুব একটা প্রস্তুতি ছিল না। যুদ্ধের শুরুতে সবাই, বিশেষ করে বিশ্বের সেরা সেরা গোয়েন্দা সংস্থা বা সমরবিদরা ভেবেছিল প্রেসিডেন্ট পুতিন ৪-৫ দিন, এক সপ্তাহ, বড়জোর এক মাসের মধ্যে ইউক্রেন দখল করে নেবেন। কিন্তু, প্রথম ৪ মাসের রুশ বাহিনীর সাফল্যকে মাত্র এক সপ্তাহে ¤øান করে দিয়েছে কিয়েভ। ইউক্রেনের এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নিশ্চুপ মস্কো। রাশিয়া কি পারছে না, পিছু হটছে? নাকি এটি যুদ্ধের নতুন কোনো কৌশল? এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা জাঁদরেল সব গোয়েন্দাদের ।

চমক দেখিয়েছে কিয়েভ : গত কিছুদিন ধরে পশ্চিমা অস্ত্র এবং আর্থিক সহায়তায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে জেলেনস্কির সৈন্যরা। গত মাসে ৬ থেকে ৮ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা রাশিয়ার কাছ থেকে পুনর্দখলের দাবি করেছে কিয়েভ। ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বের অনেক গ্রাম ও শহরে বেশ কয়েক মাস পর নতুন করে নীল-হলুদ পতাকা উড়তে দেখা যাচ্ছে। রুশ সৈন্যদের বদলে এখন সেসব এলাকার রাস্তায় রাস্তায় ইউক্রেনীয় সৈন্যদের আনাগোনা। খবর বিবিসির।

ইউক্রেনে যা যা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র : ইউক্রেনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক সহায়তার মধ্যে রয়েছে ২৫ হাজার সামরিক বর্ম ও হেলমেট, গ্রেনেড লঞ্চার, হাজারো ট্যাংকবিধ্বংসী অস্ত্র এবং দুই কোটির বেশি গোলা থাকছে। ২ হাজার জ্যাভলিন ক্ষেপণাস্ত্র ছাড়াও থাকছে ৮শ স্টিংগার, একশর বেশি খুদে ড্রোন ও ৬ হাজার এটি-৪ ট্যাংকবিধ্বংসী যুদ্ধাস্ত্র।

জ্যাভলিন ভীতি : গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের তথ্য অনুসারে, শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর তালিকায় বিশ্বের ১৪০টি দেশের মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রাশিয়া। অন্যদিকে ইউক্রেনের অবস্থান ২২। এত শক্তিমত্তা সত্ত্বেও কেন পিছু হটছে রুশ বাহিনী? দাবি করা হয়েছে, ইউক্রেনের কাছে থাকা ‘জ্যাভলিন’ নামের ক্ষেপণাস্ত্রে ধরাশায়ী রুশ সামরিক সরঞ্জাম। ইউক্রেনে জ্যাভলিন সরবরাহকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র। ইউক্রেনের সেনাদের দাবি, তারা যুদ্ধক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অস্ত্রের ব্যবহার শুরু করার পর থেকে রুশ সেনাদের মধ্যে ভীতি ছড়িয়েছে।

যুদ্ধের মোড় ঘুরে যায় : সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর মানের অস্ত্র সরঞ্জাম হাতে পাওয়ার পর যুদ্ধের মোড় অনেকটাই ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম হয় ইউক্রেনীয় বাহিনী। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা দূরপাল্লায় নিক্ষেপযোগ্য অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘হিমার্স’ উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া হাউইৎজার, সুইচেবল ড্রোন, রকেট লঞ্চার, বিমানবিধ্বংসী গোলা, সাঁজোয়া যানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ও কৌশলগত সাঁজোয়া যান ইউক্রেনের সাফল্যে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
নিষেধাজ্ঞায় কাবু : এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি নিষেধাজ্ঞায় থাকা দেশটির নাম রাশিয়া। তথ্য

বলছে, রাশিয়ার ওপর ৯ হাজারের বেশি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে পশ্চিমা দেশগুলো, যে কারণে রাশিয়ায় অনেক বিদেশি প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম স্থগিত বা বন্ধ করে দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অ্যাপল, ম্যাকডোনাল্ডস, ভিসা ও মাস্টারকার্ডের মতো আন্তর্জাতিক নামি-দামি প্রতিষ্ঠানও। বিশ্লেষকরা বলছেন, পুরনো অনেক রণসরঞ্জাম থাকা সত্ত্বেও নতুন অস্ত্র কেনার দিকে ঝুঁকছে রাশিয়া। আর নতুন অস্ত্র কেনাই প্রমাণ করে যে রাশিয়া সরঞ্জামের অভাবে রয়েছে।

পুতিনের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস : বিশ্লেষকরা বলছেন, পুতিন শুরুতে অল্প সময়ের মধ্যে ইউক্রেনকে শায়েস্তা করার পরিকল্পনা হাতে নেন। তবে ইউক্রেনীয় বাহিনীর লড়াইয়ের স্পৃহা যে এত বেশি হবে তা তিনি অনুমান করতে পারেননি। শুধু তাই নয়, পশ্চিমা দেশগুলো যে অব্যাহতভাবে ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেবে তা পুতিনের কল্পনাতীত ছিল।

ভাড়াটে সেনা বনাম জীবন বাজি রাখা যোদ্ধা : সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মাতৃভূমির জন্য যুদ্ধের স্পৃহার সঙ্গে অর্থ বা অন্য কোনো সম্পদেরই তুলনা চলে না। নিজেদের পাশাপাশি রাশিয়াকে বিদেশি ও ভাড়াটে সেনার ওপর নির্ভরশীল হতে হয়েছে। রাশিয়া যখন ভাড়াটে সেনাদের কিনতে ব্যস্ত, তখন ইউক্রেনের জাতীয়তাবাদী প্রায় সব নাগরিকই যুদ্ধে অংশ নেয়। আর এখানেই যুদ্ধে বড় ব্যবধান গড়ে দিয়েছে ইউক্রেন।

অন্য দেশ কী ধরনের অস্ত্র পাঠাচ্ছে : কমপক্ষে ৩০টি দেশ ইউক্রেনকে সামরিক সরঞ্জাম দিচ্ছে। ২০ ইউরোপীয় দেশসহ মোট ২২টি দেশ ব্যাপক পরিমাণে সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে। এসব অস্ত্র পোল্যান্ড সীমান্ত দিয়ে ট্রেনে করে কিয়েভ পৌঁছাচ্ছে। কার্যত পুরো পশ্চিমা বিশ্বই ইউক্রেনের পাশে দাঁড়িয়েছে। বিপরীতে কারও সহযোগিতা ছাড়া একাই যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া।

‘নিরপেক্ষ’ অবস্থান থেকে বেরিয়ে এসে ইউক্রেনকে অস্ত্র দিচ্ছে সুইডেন। ২ হাজার ৭০০টি রকেট পাঠাচ্ছে ডেনমার্ক। আর ২ হাজার এম৭২ ট্যাংক দিচ্ছে নরওয়ে। অস্ত্রের বড় একটি চালান পাঠাচ্ছে ফিনল্যান্ড। বেলজিয়াম পাঠাচ্ছে ২ হাজার অটোমেটিক রাইফেল ও ২শ ট্যাংকবিধ্বংসী অস্ত্র। ৪ হাজার মর্টার, ৩০ হাজার পিস্তল, ৭ হাজার অ্যাসল্ট রাইফেল ও ৩ হাজার মেশিনগান পাঠাচ্ছে চেক রিপাবলিক। নেদারল্যান্ডস ২শ স্টিংগার ও ক্রোয়েশিয়া দিচ্ছে ১ কোটি ৬০ লাখ ডলার সমমূল্যের অস্ত্র। নাইট ভিশন ক্যামেরা, বুলেট প্রুফ ভেস্ট, হেলমেট, গ্রেনেড ও অন্যান্য গোলাবারুদ পাঠাচ্ছে পর্তুগাল। অস্ত্র সরবরাহ করছে গ্রিসও।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইইউ ও ন্যাটো উভয়ের মোট ২১ সদস্য দেশ পোল্যান্ড সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র ও সেনা সহায়তা পাঠাচ্ছে। শুধু তাই নয়, অস্ত্রের পাশপাশি ইউক্রেনের পোশাকে মার্কিন ও ইইউর সেনারা রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে জোরালো হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।

ব্রিটিশ-আমেরিকান গোয়েন্দা তথ্য : নিউইয়র্ক টাইমস উচ্চ পর্যায়ের সূত্র থেকে পাওয়া একটি অনুসন্ধানী রিপোর্টে বলা হয়েছে, কয়েক মাস আগে মার্কিন এবং ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে কয়েক দফা শলা-পরামর্শের মধ্য দিয়েই সমর কৌশলের সূচনা হয়। প্রেসিডেন্ট বাইডেনের নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সালিভান এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির একজন শীর্ষ উপদেষ্টা কয়েকবার কথা বলেছেন। জেনারেল মার্ক মিলি ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর সিনিয়র কয়েকজন জেনারেলের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করেছেন। এই প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হয়েছেন বেশ কয়েকজন ব্রিটিশ সামরিক পরামর্শকও। সেই সঙ্গে, কিয়েভে নতুন নিযুক্ত মার্কিন সামরিক অ্যাটাশে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গ্যারিক হারম্যান প্রতিদিন ইউক্রেনীয় শীর্ষ কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

এমকে

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়