শরতের অপার সৌন্দর্য কাশফুল

আগের সংবাদ

প্রতিমা বিসর্জনের সময় জলপাইগুড়িতে নিহত ৭

পরের সংবাদ

জাতীয় গ্রিড আধুনিকায়নে এবার গুরুত্ব দিন

প্রকাশিত: অক্টোবর ৬, ২০২২ , ১:২২ পূর্বাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ৬, ২০২২ , ১:২২ পূর্বাহ্ণ

গত মঙ্গলবার জাতীয় গ্রিডের একটি সঞ্চালন লাইনে বিভ্রাট দেখা দেয়ায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহসহ দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা কয়েক ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। নজিরবিহীন এ বিদ্যুৎ বিপর্যয় বুঝিয়ে দিল আমাদের বিদ্যুতের জাতীয় গ্রিড প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনাগতভাবে কতটা নাজুক ও ঝুঁকিপূর্ণ। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিপর্যয় সারিয়ে তোলার ক্ষেত্রে আমাদের বিদ্যমান ব্যবস্থাও কতটা দুর্বল। প্রায় ১০ ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়েছে। বিপর্যয়ের তদন্ত হচ্ছে; জাতীয় গ্রিড আধুনিকায়নের কথা বারবার উঠে আসছে। আমরা চাই সে কাজটি যেন দ্রুতই করা হয়। জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের কারণে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীসহ দেশের এক বড় অংশ দীর্ঘ সময় ছিল বিদ্যুৎহীন। ফলে দিনরাত্রি মহাভোগান্তিতে পড়ে লাখ লাখ মানুষ। বাধাগ্রস্ত হয় চিকিৎসাসেবা। কোথাও কোথাও রোগীর চিকিৎসা চলে মোমের আলোয়। ইন্টারনেট ও ফোনসেবা হয় বিঘিœত। দুর্গাপূজা উৎসবেও পড়ে ভাটা। পাম্পগুলোতে তেল ও সিএনজি বিক্রি বন্ধ হয়ে যায়। এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতেও বেকায়দায় পড়েন গ্রাহকরা। প্রচণ্ড গরমে বাসাবাড়িতে অস্বস্তিতে পড়েন বৃদ্ধ ও শিশুরা। রাতেও সড়ক-অলিগলি ডুবে থাকে অন্ধকারে। মোমবাতি জ্বালিয়ে চলে বেচাকেনা। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হয় ক্রেতা-বিক্রেতাদের। জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঘটনা নতুন নয়। গত ৬ সেপ্টেম্বরও দেশের বড় একটি অংশ গ্রিড বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছিল। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ বিপর্যয়টি ঘটে ২০১৪ সালের ১ নভেম্বর। ওই দিন সারাদেশই হয়ে যায় ব্ল্যাকআউট। এছাড়া ২০০২, ২০০৭, ২০০৯ ও ২০১৭ সালে বড় ধরনের গ্রিড বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটে। আমাদের বিদ্যুতের জাতীয় গ্রিড চলছে পুরনো প্রযুক্তি দিয়ে এবং পুরনো নাজুক সঞ্চালন লাইন দিয়ে, যাতে যে কোনো সময় বিপর্যয় ঘটা অসম্ভব নয়। বিপর্যয়ের পর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, বর্তমানে আমরা বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য যে ধরনের গ্রিড ব্যবহার করছি তাকে ইন্টিগ্রেটেড গ্রিড বলা হয়। এ ধরনের গ্রিডে সমস্যা হলে গোটা সিস্টেমেই তার প্রভাব পড়তে পারে। গত মঙ্গলবার সেটাই ঘটেছে। অন্যদিকে অত্যাধুনিক আইল্যান্ড গ্রিডে গ্রিডকে কয়েকটি অংশে ভাগ করা থাকে বলে গ্রিডের কোথাও সমস্যা হলে কেবল নির্দিষ্ট অংশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পুরো সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, বড় বিপর্যয়ের ঝুঁকি থাকে না। আমাদের প্রয়োজন এমনি একটি স্মার্ট গ্রিড। জাতীয় গ্রিড উন্নয়নে বুয়েট একটি সুপারিশ দিয়েছিল বিদ্যুৎ বিভাগকে। কিন্তু এতদিনেও তা আমলে নেয়া হয়নি। যার পরিণামই জাতীয় বিপর্যয় ঘটনাগুলো ঘটছে। তাও ভালো যে, একটি বড় দুর্ঘটনা দেরিতে হলেও সংশ্লিষ্টদের টনক নড়েছে। আমরা চাই, জাতীয় গ্রিড আধুনিকায়নের বিষয়টি যেন আর দীর্ঘসূত্রতায় না পড়ে। অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটলে তা দ্রুত সময়ে সারানোর উপযুক্ত প্রযুক্তি ও লোকবলও নিশ্চিত করতে হবে। বিপর্যয়ের সময় হাসপাতালসহ জরুরি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর অসহায় অবস্থা আমাদের খুবই ভাবিত করেছে। হাসপাতালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনায় জরুরি প্রয়োজনে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করার জন্য নিজস্ব ব্যাকআপ রাখার ব্যবস্থা করা জরুরি।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়